ইরানে স্থলসেনা বা পারমাণবিক হামলার পরিকল্পনা নেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের: নতুন সামরিক বিকল্প প্রস্তুত পেন্টাগনের
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
ইরানে স্থলসেনা পাঠানো কিংবা দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর এ বক্তব্যের মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে সামরিক হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। একই সঙ্গে ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। অন্যদিকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানে স্থলসেনা পাঠানো কিংবা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবছেন না বলে জানান। তবে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। প্রচলিত অস্ত্র ব্যবহার করে বিমান হামলা চালানোর বিকল্পও বিবেচনায় রেখেছে পেন্টাগন।
বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন দেশটির কর্মকর্তাদের বরাতে জানায়, সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনায় জিবিইউ-৪৩/বি (GBU-43/B) নামের শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। বোমাটি ‘মাদার অব অল বম্বস’ (Mother of All Bombs) নামে পরিচিত। তবে সিএনএনের এই প্রতিবেদন স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের
এদিকে ইরান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন পদক্ষেপের আওতায় ১৬ ব্যক্তি ও ১০টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ (Operation Economic Outcast) নামে পরিচালিত বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট শুরু হওয়া এ অভিযানের ঘোষিত লক্ষ্য হলো, ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং দেশটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর চাপ বাড়ানো।
সৌদি আরব ও ইয়েমেনে হামলা ঘিরে উত্তেজনা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, মদিনা প্রদেশের আকাশে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ চত্বরের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা। তাদের দাবি, সেখানে সৌদি সামরিক অভিযানের একটি সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। তবে হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সৌদি আরব ও ইয়েমেনে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ওয়াশিংটন সামরিক ও অর্থনৈতিক—উভয় ধরনের পদক্ষেপের বিকল্প বিবেচনায় রাখায় অঞ্চলটিতে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। সূত্র: নিউজ ন্যাশন নাও, জাগোনিউজ



















