Logo

আন্তর্জাতিক    >>   বলিষ্ঠ অভিনয়ের কিংবদন্তি নানা পাটেকর আর নেই: ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াণে চলচ্চিত্রজগতে শোকের ছায়া

বলিষ্ঠ অভিনয়ের কিংবদন্তি নানা পাটেকর আর নেই: ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াণে চলচ্চিত্রজগতে শোকের ছায়া

বলিষ্ঠ অভিনয়ের কিংবদন্তি নানা পাটেকর আর নেই: ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াণে চলচ্চিত্রজগতে শোকের ছায়া

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। ৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ভারতের গোয়ায় নিজ বাসভবনে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে ভারতীয় চলচ্চিত্রজগৎ ও অসংখ্য ভক্তের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে তিনি নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলী, বলিষ্ঠ সংলাপ এবং অসাধারণ চরিত্রায়ণের মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছিলেন।

১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন নানা পাটেকর। তাঁর প্রকৃত নাম বিশ্বনাথ গজানন পাটেকর। মারাঠি মঞ্চনাটকের মধ্য দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করে ১৯৭৮ সালে গমন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে অভিনয়ের নিজস্ব ধরন, গভীর অভিব্যক্তি এবং চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তাঁকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম স্বতন্ত্র শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

১৯৮৯ সালের পরিন্দা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন। ১৯৯৪ সালের ক্রান্তিবীর ছবিতে তাঁর শক্তিশালী অভিনয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এ ছাড়া সালাম বম্বে!, অগ্নিসাক্ষী, খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল, আব তক ছাপ্পান, রাজনীতি এবং ওয়েলকাম-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন।

নানা পাটেকরের অভিনয়ের বিশেষত্ব ছিল তাঁর সংলাপ বলার স্বতন্ত্র ভঙ্গি, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এবং আবেগ প্রকাশের অসাধারণ ক্ষমতা। গম্ভীর ও জটিল চরিত্র থেকে শুরু করে হাস্যরসাত্মক ভূমিকাতেও তিনি সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রচলিত নায়কোচিত সৌন্দর্য কিংবা তারকাখ্যাতির ওপর নির্ভর না করে অভিনয়ের শক্তি দিয়েই তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননা অর্জন করেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান তাঁকে দুই ভাষার দর্শকদের কাছেই জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

চলচ্চিত্রের বাইরেও নানা পাটেকর সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। কৃষকদের দুর্দশা লাঘব এবং গ্রামীণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে তাঁর উদ্যোগ তাঁকে একজন সচেতন ও মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিতি দিয়েছে। অভিনয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে তিনি নিজের কর্মজীবনকে দিয়েছিলেন ভিন্ন মাত্রা।

নানা পাটেকরের মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র হারাল এমন একজন শিল্পীকে, যাঁর অভিনয় ছিল স্বতন্ত্র, শক্তিশালী ও স্মরণীয়। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি, কণ্ঠস্বর এবং চরিত্রের গভীরে পৌঁছানোর অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

শিল্পীর মৃত্যু হলেও তাঁর সৃষ্ট চরিত্র ও অভিনয়ের স্মৃতি মুছে যাওয়ার নয়। অসংখ্য চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে নানা পাটেকর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিল্পী ও দর্শকদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাঁর নাম উচ্চারিত হবে এক অনন্য অভিনয়প্রতিভার প্রতীক হিসেবে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ।