জ্বালানি তেলের লিটারপ্রতি ২০ টাকা মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি গণমুক্তি পার্টির: জনগণের পকেট কেটে সংকটের বোঝা চাপানো চলবে না, হুঁশিয়ারি এম এ আলীম সরকারের
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি (বিজিপি)। দলটির সভাপতি এম এ আলীম সরকার বলেছেন, জনগণের আয় ও কর্মসংস্থান না বাড়িয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক সংকটের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। জনস্বার্থ উপেক্ষা করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদার করা হবে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল ৩টায় ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
সমাবেশে এম এ আলীম সরকার বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি শুধু পরিবহন খাতের ব্যয় বাড়াবে না, এর প্রভাব পড়বে কৃষি উৎপাদন, পণ্য পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, পরিবহনকর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা। এমনিতেই উচ্চমূল্যের বাজারে সাধারণ মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো জনজীবনের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
দলটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ চার ধরনের জ্বালানি তেলের প্রতিটির দাম লিটারে একযোগে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
এম এ আলীম সরকার বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়। এর প্রভাবে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ, পণ্য সরবরাহ এবং গণপরিবহনের খরচ বাড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি ব্যয়ের চাপ সাধারণ ভোক্তাদের ওপর গিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের পারিবারিক বাজেটে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হবে।
সরকারের নীতির সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণের আয় না বাড়িয়ে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না করে এবং বাজারদর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে একের পর এক মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে রাষ্ট্র কি সব সংকটের বোঝা সাধারণ মানুষের কাঁধে চাপিয়ে দেবে?
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার নামে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমিয়ে দেওয়া হলে তার নেতিবাচক প্রভাব সমাজের বিস্তৃত অংশের ওপর পড়বে। তাই যেকোনো মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির সভাপতি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ উপেক্ষা করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হলে দলটি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও জোরদার করবে। জনগণের পকেট কেটে রাষ্ট্রের সংকটের সমাধান করা চলবে না। অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি, পরিবহন ও সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী বা সিন্ডিকেট যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে জন্য কঠোর বাজার তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য আবু হানিফ, ইঞ্জিনিয়ার এম মহিউদ্দিন খান ও সেলিম রেজা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও লেখক অমূল্য কুমার বৈদ্য।
সমাবেশ থেকে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বার্তা প্রেরক:
লেখক অমূল্য কুমার বৈদ্য
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি (বিজিপি)



















