Logo

আন্তর্জাতিক    >>   জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে জাইমা রহমানসহ ৬ বাংলাদেশি: লিগ্যাল অফিসার জাইমা, ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট আব্দুল আলীম; ৪০ সদস্যের দপ্তরে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি—সভাপতির ব্যয়ভার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে জাইমা রহমানসহ ৬ বাংলাদেশি: লিগ্যাল অফিসার জাইমা, ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট আব্দুল আলীম; ৪০ সদস্যের দপ্তরে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি—সভাপতির ব্যয়ভার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে জাইমা রহমানসহ ৬ বাংলাদেশি: লিগ্যাল অফিসার জাইমা, ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট আব্দুল আলীম; ৪০ সদস্যের দপ্তরে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি—সভাপতির ব্যয়ভার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের ছয় নাগরিক। তাঁদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে Legal Officer (আইন কর্মকর্তা) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের প্রেসিডেন্টের অফিসের সরকারি ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের নাম ও পদবি নিশ্চিত করা হয়েছে। একই দপ্তরে বাংলাদেশের কূটনীতিক মো. আব্দুল আলীম দায়িত্ব পেয়েছেন Deputy Chef de Cabinet হিসেবে। 

জাতিসংঘের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে বর্তমানে মোট ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মী, ২৯টি দেশের প্রতিনিধিত্ব এবং ছয়টি জাতিসংঘের সরকারি ভাষার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ছয়জন দায়িত্ব পালন করছেন। 

জাইমা রহমানের পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্য চারজন হলেন—মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, Adviser and Administrative Assistant; মফিজুল ইসলাম, Senior Adviser (Data, AI and Strategic Foresight); জাকির আহমেদ, Senior Adviser; এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা, Senior Adviser for Countries with Special Needs। জাতিসংঘের অফিসিয়াল টিম তালিকায় তাঁদের পদ ও দায়িত্ব উল্লেখ রয়েছে। 

জাইমা রহমান সম্পর্কে জাতিসংঘের সরকারি প্রোফাইলে বলা হয়েছে, তিনি একজন ব্যারিস্টার ও আইন এবং নীতি বিষয়ে পেশাজীবী। যুক্তরাজ্যের Queen Mary University of London থেকে আইন ও রাজনীতিতে এলএলবি এবং Inner Temple থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেছেন। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে আবাসন, কল্যাণ, শ্রম আইন, স্বাস্থ্য খাত, সামাজিক কল্যাণ ও বিভিন্ন আইনি বিষয়ে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। 

অন্যদিকে, ড. মো. আব্দুল আলীম দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন বাংলাদেশি কূটনীতিক। জাতিসংঘের সরকারি জীবনী অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশের ১৮তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১০ সালে তিনি জাতিসংঘে যোগ দেন এবং স্বল্পোন্নত দেশ, জলবায়ু, উন্নয়ন অর্থায়ন ও বহুপাক্ষিক কূটনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেছেন। 

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে বাংলাদেশিদের এই উপস্থিতি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। গত ২ জুন ২০২৬ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমান ১৯০ ভোটের মধ্যে ৯৯ ভোট পেয়ে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকোরিসের ৯১ ভোটকে পেছনে ফেলে ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁর এক বছরের মেয়াদ শুরু হয় ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। 

বাংলাদেশ এর আগে ১৯৮৬ সালে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর মাধ্যমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছিল। ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচন ছিল চার দশক পর দ্বিতীয়বার বাংলাদেশের এই শীর্ষ মর্যাদাপূর্ণ পদে আসা। 

তবে বাংলাদেশিদের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের পাশাপাশি সভাপতির কার্যালয় পরিচালনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় নিয়ে আলোচনাও তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জাতিসংঘ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতি জাতিসংঘের নিয়মিত কর্মী নন এবং তিনি সংস্থা থেকে নিয়মিত বেতন পান না। সভাপতির বেতন-ভাতা, আবাসনসহ কিছু ব্যয় সাধারণত সংশ্লিষ্ট নিজ দেশের সরকার বহন করে থাকে; কিছু ক্ষেত্রে জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট বা ট্রাস্ট ফান্ড থেকেও ব্যয় মেটানো হতে পারে। 

বাংলাদেশ সরকারের কাছে সভাপতির আবাসনসহ বিভিন্ন ব্যয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে—এমন তথ্যও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসেছে। সেখানে মাসিক ১৫ হাজার ডলার বাড়িভাড়ার হিসাবসহ বিভিন্ন ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ ও জাইমা রহমানের ব্যক্তিগত বেতন-ভাতা বাংলাদেশ সরকার বহন করবে—এমন দাবির স্বাধীন সরকারি নথি জাতিসংঘের প্রকাশ্য ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব ব্যয়ের তথ্যকে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করাই যথাযথ। 

জাতিসংঘের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ৮১তম অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য Restoring Trust, Managing Transformation: a United Nations That Delivers for All। সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তাঁর কার্যালয় বহুপাক্ষিক কূটনীতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং জাতিসংঘ সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছে। 

এদিকে জাইমা রহমানসহ ছয় বাংলাদেশির নিয়োগকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে সরকারি অর্থে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ব্যয়, সুযোগ-সুবিধা ও অর্থের উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের বিষয়টিও জনআলোচনায় এসেছে।

জাতিসংঘের সরকারি তালিকায় জাইমা রহমানের নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ায় বিষয়টি এখন আর কেবল সংবাদমাধ্যমের দাবি নয়; ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির অফিসের প্রকাশিত টিম তালিকাতেই তিনি বাংলাদেশি Legal Officer হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।