যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে ‘নতুন অস্ত্রে বিশ্বকে চমকে দেবে’ ইরান: আইআরজিসি
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে হামলা চালালে এবার আরও উন্নত অস্ত্র ও পরিবর্তিত সামরিক কৌশল নিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বাহিনীটির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, ইরানের নতুন সামরিক সক্ষমতা দেখে বিশ্ব ‘অবাক’ হয়ে যাবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহেব্বি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে ইরানের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আক্রমণের কৌশলে ‘উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন’ আসবে। এর অংশ হিসেবে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন ধরনের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের কথা জানান তিনি।
মোহেব্বি বলেন, “আমরা নতুন সক্ষমতার এমন আধুনিক অস্ত্র নিয়ে হাজির হবো, যা দেখে বিশ্ব চমকে যাবে।” ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু নিয়েও সতর্ক করেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, পরবর্তী হামলায় আগের লক্ষ্যবস্তুগুলোকে আর অগ্রাধিকার দেওয়া হবে না। বরং ইরান এমন নতুন স্থান চিহ্নিত করেছে, যেখানে এখনো হামলা চালানো হয়নি।
মোহেব্বির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে এবং এটি দেশটির জন্য একটি ‘অপমানজনক ঐতিহাসিক পরাজয়’। তবে ওয়াশিংটন সেই পরাজয় মেনে নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে আইআরজিসির দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের প্রমাণ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) বন্ধ থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন মোহেব্বি। তার দাবি, মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের জবাবে ইরান জলপথটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করেও এটি পুনরায় স্বাভাবিক করতে পারেনি।
এর আগে আইআরজিসি জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে। ইরানের কর্মকর্তারা জলপথটিকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সক্ষমতার অংশ হিসেবেও তুলে ধরেছেন।
মোহেব্বি আরও দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন ওয়াশিংটনের জন্য ‘বোঝা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার জন্য যেসব ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র বিনিয়োগ করেছিল, ইরানি হামলার পর সেগুলোই উল্টো নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল ও উত্তর ইরাকে থাকা মার্কিন গোয়েন্দা স্থাপনাগুলোতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তার দাবি, এসব হামলা প্রমাণ করে—ঘাঁটিগুলো এখন ইরানের নাগালের মধ্যে রয়েছে।
নতুন হামলার আশঙ্কায় বাড়ছে উত্তেজনা
ইরানের এই হুঁশিয়ারি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, নতুন মার্কিন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্বার্থের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তার সামনে সামরিক পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা অথবা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর মতো বিকল্প রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
এর আগে আইআরজিসি জানিয়েছিল, যুদ্ধবিরতির সময়েও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতে নতুন প্রজন্মের ওয়ারহেডসহ উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে।
ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া—দুই দেশের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা কোন দিকে যায়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অন্যতম প্রধান নজর। সূত্র: আল-জাজিরা, জাগোনিউজ



















