পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ‘সম্ভবত রাজি’ ডোনাল্ড ট্রাম্প, নিউইয়র্কে তৈরি হচ্ছে কূটনৈতিক সম্ভাবনা
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে তিনি ‘সম্ভবত রাজি’ আছেন। তবে সম্ভাব্য এই বৈঠক নিয়ে আলোচনা হলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান বা নতুন কোনো চুক্তি এখনো নিশ্চিত হয়নি।
যুক্তেরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে নিউইয়র্কে বৈঠক করবেন কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান। একই সময়ে তিনি বলেন, ইরানকে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছেন।
সম্ভাব্য বৈঠকটি এমন এক সময়ে হতে যাচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ইরান আলোচনায় ফেরার জন্য কয়েকটি শর্ত সামনে এনেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক পদক্ষেপ অথবা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর মতো বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।
নিউইয়র্কেই কেন বৈঠকের সুযোগ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ দুই নেতার সম্ভাব্য সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে। এবারের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পেজেশকিয়ানও অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ দেশটির প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে।
ফলে আলাদা কোনো শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন ছাড়াই দুই নেতার মধ্যে সাক্ষাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ চললেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
আলোচনায় ফিরতে ইরানের শর্ত
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে সাতটি শর্ত পাঠিয়েছে তেহরান। তবে সবগুলো শর্ত প্রকাশ করা হয়নি।
প্রকাশ্যে আসা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের সমাপ্তি। কাতার এই বার্তা ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তুরস্কসহ আরও কয়েকটি দেশও দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগে যুক্ত রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে তিনটি পথ
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরান ইস্যুতে তিনি এখনো ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে’ রয়েছেন। তিনি শিগগিরই ‘খুব বড় কিছু’ ঘটতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা, সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া অথবা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ রয়েছে। একই সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তাও দেন তিনি।
বৈঠক মানেই চুক্তি নয়
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে ‘সম্ভবত রাজি’ থাকার কথা বললেও এর অর্থ এই নয় যে বৈঠকটি নিশ্চিত হয়েছে বা দুই দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়ে গেছে। বরং এর মাধ্যমে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান যুদ্ধ চায় না; তবে শক্তি প্রয়োগ বা চাপের মাধ্যমে তেহরানকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা যাবে না। ইরানের কর্মকর্তারা একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরছেন।
নিউইয়র্ক সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতাদের সঙ্গেও যুদ্ধ এবং এর আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে। ফলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথ নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে। সূত্র: গালফ নিউজ, জাগোনিউজ



















