Logo

আন্তর্জাতিক    >>   সারের দাম তিনগুণ, কৃষকের কপালে দুর্ভোগ!

সারের দাম তিনগুণ, কৃষকের কপালে দুর্ভোগ!

সারের দাম তিনগুণ, কৃষকের কপালে দুর্ভোগ!

নয়ন বিশ্বাস রকি:


"ধানের চেয়ে সারের দাম তিনগুণ বেশি" - এই একটা বাক্যই আজকের বাংলাদেশের কৃষকের বাস্তবতা।

বাজারে গিয়ে দেখুন। সাদা সারের বস্তা ১৮০০ টাকা। ইউরিয়া সার ২০০০ টাকা। অথচ ২ বছর আগেও এই সার ৮০০-৯০০ টাকায় পাওয়া যেত। শ্রমজীবী কৃষকের ধানের কোনো কোয়ালিটির দামই এখন ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার বেশি না।  মালিকরা ধান কিনছে না। শুক্রবারে যদি দাম দেয় টাকা দেয় আরো দুই শুক্রবার পরে এই হল দানের বাজারে  অবস্থা। 

একটু হিসাব করি। চল্লিশ শতাংশ জমি আবাদ করতে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক - সব মিলিয়ে খরচ হয় ২৫-৩০ হাজার টাকা। আর ফসল বিক্রি করে হাতে আসে ১৫-১৮ হাজার টাকা। ফসলের সাথে খরচের ব্যবধান দিন-রাত। এই লোকসান দিয়ে কোন কৃষক টিকবে?

বাংলাদেশের ৮০% মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। ধান, পাট, সবজি - কৃষিই আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। কিন্তু আজ সেই মেরুদণ্ডই ভেঙে যাচ্ছে। মুখ্য প্রশ্ন হলো, কৃষকের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে কে? 

তথাকথিত সরকারের কেউ কৃষকের খোঁজ নিচ্ছে না। টিভিতে, পত্রিকায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুধু দেখা যায় "মাননীয় কৃষিমন্ত্রী গোডাউনে সার পরিদর্শন করছেন"। ছবি তোলা হয়, বক্তব্য দেওয়া হয়। কিন্তু মাঠের কৃষক সেই সার পায় না। ডিলারের কাছে গেলে বলে "সার নেই"। কালোবাজারে গেলে দাম ডাবল। 

কৃষক যদি পঙ্গু হয়ে যায়, দেশ ধ্বংস হতে সময় লাগবে না। কারণ খাবার আসবে কোথা থেকে? আমরা কি বিদেশ থেকে চাল-গম আমদানি করে ১৮ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারব? 

একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশ কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। আগের সরকার, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কৃষিকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী করা হয়েছিল। সার, বীজ, ভর্তুকি - সব কৃষকের হাতে সময়মতো পৌঁছাতো। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই কৃষিতে তথ্য-প্রযুক্তির আবিষ্কার হয়েছে। মোবাইলে কৃষি পরামর্শ, আবহাওয়ার আপডেট, ডিজিটাল কৃষি কার্ড - সবই ছিল কৃষকের জন্য।

সেই দিন আজ কোথায়? আজ কৃষক দিশেহারা। জমি বন্ধক দিয়ে চাষ করছে। ঋণের টাকা শোধ করতে পারছে না। ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ। অনেকে জমি বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে।

সরকার বলছে "উন্নয়ন হচ্ছে"। কিন্তু যে দেশের কৃষক বাঁচে না, সে দেশের উন্নয়ন কাগজে-কলমেই থাকে। গোডাউন ভরা সার দেখিয়ে লাভ নেই, যদি সেই সার কৃষকের জমিতে না যায়।

আমাদের দাবি স্পষ্ট:
.  সারের দাম অবিলম্বে সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে। ইউরিয়া ৮০০ টাকা, সাদা সার ৯০০ টাকার মধ্যে রাখতে হবে। 
.  কালোবাজারি ও সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। 
.  ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। সরকারকে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনতে হবে। 
.  কৃষি ভর্তুকি বাড়াতে হবে।

মনে রাখতে হবে, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষক মরলে দেশ মরবে। আজ যারা ক্ষমতায় আছে তাদের উচিত রাজনীতি বাদ দিয়ে মাঠে নেমে কৃষকের কষ্ট বোঝা। 

নইলে এই "সারের দাম তিনগুণ" এর হিসাব একদিন জনগণই তাদের কাছ থেকে চেয়ে নেবে।

নয়ন বিশ্বাস রকি
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ।