Logo

ক্যাম্পাস    >>   আলীগড়ের শিক্ষার্থী থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপান্তরের নেতৃত্বে ড. মিজানুর রহমান

আলীগড়ের শিক্ষার্থী থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপান্তরের নেতৃত্বে ড. মিজানুর রহমান

আলীগড়ের শিক্ষার্থী থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপান্তরের নেতৃত্বে ড. মিজানুর রহমান

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক, হাকিকুল ইসলাম খোকন ও মো. নাসির:

প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসক। শিক্ষকতা, গবেষণা, একাডেমিক নেতৃত্ব ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে তাঁর দীর্ঘ দায়িত্বকাল বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ, আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৯৫৮ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণকারী ড. মিজানুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে ১৯৭৮ সালে স্নাতক এবং ১৯৭৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার জন্য তিনি ভারতের ঐতিহ্যবাহী আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে (AMU) যান এবং ১৯৯৪ সালে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশে তাঁর উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা পরবর্তী শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উপমহাদেশের অন্যতম ঐতিহাসিক এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর শিক্ষাজীবনের সম্পর্ক বাংলাদেশ ও ভারতের শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্যের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।

ড. মিজানুর রহমান ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি পাঠদান ও গবেষণার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল।

২০১৩ সালে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা প্রায় আট বছর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির নেতৃত্ব দেন। তাঁর দায়িত্বকাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ড. মিজানুর রহমান একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও একাডেমিক কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ এগিয়ে যায়।

পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রশাসনিক নেতৃত্ব বিশেষভাবে আলোচিত হয়। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাঁর সময়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।

একজন শিক্ষাবিদের দায়িত্ব শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কিংবা গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করা, শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং একটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পথ তৈরি করাও তাঁর দায়িত্বের অংশ। ড. মিজানুর রহমানের কর্মজীবনে শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের এই সমন্বয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কোষাধ্যক্ষ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য—ড. মিজানুর রহমানের দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতিটি ধাপই বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা তিনি পরবর্তী সময়ে দেশের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগিয়েছেন।

আলীগড়ের শিক্ষার্থী হিসেবে যে একাডেমিক যাত্রার সূচনা, তা পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব অতিক্রম করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে এসে নতুন মাত্রা পায়। শিক্ষা, গবেষণা, একাডেমিক নেতৃত্ব ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে তাঁর দীর্ঘ পথচলা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে রয়েছে।