জাসদের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের স্মরণে শোকসভা—মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান, দেশপ্রেমিক শক্তিকে সংগঠিত হওয়ার তাগিদ
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা, স্বাধীনতা সংগ্রামী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সংসদ সদস্য ও জননেতা মোশাররফ হোসেনের স্মরণে এক আবেগঘন শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধে অবদান, সততা ও আদর্শিক নেতৃত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
গত ১১ জুলাই ২০২৬, শনিবার বিকেল ৪টায় ঢাকার শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন দলের কার্যকরী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রবিউল আলম। সভা পরিচালনা করেন জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত নেতা মোশাররফ হোসেনের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
শোকসভায় বক্তব্য রাখেন ১৯৭০-৭১ সালের ঢাকা মহানগর ছাত্রনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক, জাসদের সহ-সভাপতি ও ঢাকা মহানগরের সমন্বয়ক মীর হোসাইন আখতার, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সফি উদ্দিন মোল্লা, স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুজ্জামান বাদশা, ন্যাপ (মোজাফফর)-এর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা, জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোহসীন, ওবায়দুর রহমান চুন্নু ও মীর্জা আনোয়ারুল হক, লক্ষ্মীপুর জেলা জাসদের সভাপতি আমির হোসেন মোল্লা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মহিবুর রহমান মিহির, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. সেলিম, জাতীয় যুব জোটের সভাপতি শরিফুল কবির স্বপন, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র)-এর সভাপতি রাশিদুল হক ননী, প্রয়াত নেতার পুত্র শাহাদাত হোসেন ইমন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী নুরুল আমিনসহ জাসদ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, ষাটের দশকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে মোশাররফ হোসেন স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন দক্ষ সংগঠক ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বিএলএফ (মুজিব বাহিনী)-এর রামগতি-হাতিয়া জোনের কমান্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পর জাসদের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আমৃত্যু গণতন্ত্র, সমাজ পরিবর্তন এবং শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তাঁরা বলেন, জাতীয় পর্যায়ের একজন প্রভাবশালী নেতা হওয়া সত্ত্বেও মোশাররফ হোসেন সৎ, আদর্শবান ও সাধারণ জীবনযাপনের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ, সংগ্রামী জীবন এবং জনকল্যাণে নিবেদিত ভূমিকা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তারা তাদের মূল্যায়ন তুলে ধরে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। তাঁদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার আদর্শকে সমুন্নত রাখতে দেশপ্রেমিক, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দী রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির দাবিও জানান তারা।
সভায় বক্তারা প্রয়াত মোশাররফ হোসেনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এদিকে, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক, লায়ন ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হাকিকুল ইসলাম খোকন এবং জেএসএফ-বাংলাদেশের সংগঠক হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন। এক শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
সূত্র : হাকিকুল ইসলাম খোকন



















