লন্ডনের ১৪তম বাংলাদেশ বইমেলায় গুণীজন সম্মাননা গবেষক ফারুক আহমদ, সাহিত্য পদক পেলেন কবি মাশুক ইবনে আনিস—গবেষণা, ইতিহাসচর্চা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিতে সম্মাননা; চার ক্যাটাগরিতে চারজনকে পদক প্রদান
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত ১৪তম বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসবে গবেষণা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গুণীজন সম্মাননা পদক ২০২৬ লাভ করেছেন ইতিহাসবিষয়ক গবেষক ফারুক আহমদ। একই অনুষ্ঠানে সাহিত্য পদক লাভ করেন কবি মাশুক ইবনে আনিস।
গত ২৮ জুন ২০২৬ রবিবার আয়োজিত এই সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসবে দেশের ও প্রবাসের বিশিষ্ট সাহিত্যিক, গবেষক ও সংস্কৃতিজনদের উপস্থিতিতে সম্মাননা পদক বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেওয়া হয়।
এবারের উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ রূপা চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও অনুবাদক আনিসুজ্জামান এবং যুক্তরাজ্য থেকে যোগ দেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি শামীম আজাদ।
আয়োজক সংগঠন এ বছর চারটি ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করে। এর মধ্যে গুণীজন সম্মাননা পদক পান গবেষক ফারুক আহমদ, সাহিত্য পদক লাভ করেন কবি মাশুক ইবনে আনিস। সাংগঠনিক অবদানের জন্য বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড পান সংগঠক ও টিভি উপস্থাপক হেনা বেগম এবং নূরজাহান শিল্পী। ডিসটিংগুইশড ফ্রেন্ডস রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় লেখক-সাংবাদিক সেবুল চৌধুরীকে।
গবেষক ফারুক আহমদ বিলেতে বাঙালির ইতিহাস, সাংবাদিকতা, রাজনীতি, সাহিত্য ও অভিবাসন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে আসছেন। তাঁর গবেষণাধর্মী গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিলাতে বাংলা সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা, বিলাতে বাংলার রাজনীতি, গোলাপগঞ্জের ইতিহাস, বিলাতে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা, বিলাতে বাঙালি অভিবাসন এবং সিলেটের ইতিহাস: ব্রিটিশ আমল। বাংলা একাডেমি প্রবাসী লেখক পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত এই গবেষক সম্প্রতি লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডও লাভ করেন। গবেষণা ও ইতিহাসচর্চায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার তাঁকে গুণীজন সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে কবি মাশুক ইবনে আনিস দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বসবাস করেও বাংলা কবিতা ও সাহিত্যচর্চায় সক্রিয় রয়েছেন। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে যদি বিদ্রোহ করি, অবশিষ্ট শূন্য এক এবং অলৌকিক মাশুকনামা। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যপত্র আদি কাকতাড়ুয়া-এর সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বাংলা সাহিত্যে তাঁর ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সাহিত্য পদক ২০২৬ প্রদান করা হয়।
উৎসবে বক্তারা বলেন, প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিকাশে যাঁরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় আরও উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।
সূত্র: আনসার আহমেদ উল্লাহ , লন্ডন থেকে



















