‘ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না’, পাল্টা হামলার পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটন আর ধৈর্য ধরবে না; প্রয়োজন হলে এমন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে ‘ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের আর কোনো অস্তিত্ব না থাকে।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও তীব্র সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
শনিবার দ্বিতীয় দফার হামলা শুরুর দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান বারবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। তিনি লেখেন, ‘খুব সম্ভবত তারা কখনোই শিখবে না। এমন সময় আসতে পারে যখন আমরা আর যুক্তি দিয়ে কথা বলব না। আমরা সামরিকভাবে সেই কাজ সম্পন্ন করতে বাধ্য হব, যা আমরা সফলভাবে শুরু করেছি। আর যদি তেমনটা ঘটে, তবে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধবিমান হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। সিরিক শহর, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ এবং কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থাপনা এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল। সেন্টকমের দাবি, হামলায় ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অন্তত পাঁচটি উপকূলীয় এলাকায় বোমাবর্ষণ করেছে। এর জবাবে আইআরজিসি জানায়, তাদের নৌ ও বিমান বাহিনী কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও সাম্প্রতিক এই সংঘাতের জেরে সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে।
শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় পানামার পতাকাবাহী ‘কিকু’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। সেন্টকমের দাবি, এই হামলার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের একটি কনটেইনার জাহাজেও একই ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এই দুই ঘটনার পরই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: আল-জাজিরা, জাগোনিউজ



















