Logo

আন্তর্জাতিক    >>   “রাজনীতি নেওয়ার নয়, দেওয়ার”—চাঁদামুক্ত আদর্শে দেশবন্ধু রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের দৃঢ় অঙ্গীকার

“রাজনীতি নেওয়ার নয়, দেওয়ার”—চাঁদামুক্ত আদর্শে দেশবন্ধু রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের দৃঢ় অঙ্গীকার

“রাজনীতি নেওয়ার নয়, দেওয়ার”—চাঁদামুক্ত আদর্শে দেশবন্ধু রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের দৃঢ় অঙ্গীকার

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
রাজনীতি মানুষের সেবা, মানবকল্যাণ ও সমাজ উন্নয়নের মাধ্যম—এই মূল দর্শন পুনর্ব্যক্ত করে “দেশবন্ধু রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ” আবারও তাদের চাঁদামুক্ত ও স্বচ্ছ সংগঠন পরিচালনার অঙ্গীকার দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছে।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক যৌথ সাক্ষাৎকারে সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এএনএম ঈসা (যুক্তরাজ্য) এবং সদস্য সচিব এমএ রউফ (কাতার) বলেন, রাজনীতি কখনোই ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল বা সম্পদ বৃদ্ধির হাতিয়ার হতে পারে না; বরং এটি মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার এক মহান মাধ্যম।
তারা বলেন, রাজনীতি শব্দটির প্রকৃত অর্থ রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি নির্ধারণ হলেও বর্তমানে এর আদর্শ অনেকাংশে বিকৃত হয়েছে। অনেকেই রাজনীতিকে ব্যক্তিগত লাভের পথ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, প্রকৃত রাজনীতি হলো দেওয়া—দেশপ্রেম, মানবসেবা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নেওয়া। একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক সবকিছু দেওয়ার পরেও মনে করেন, তিনি এখনও যথেষ্ট দিতে পারেননি।
এই আদর্শ থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে “দেশবন্ধু বাংলাদেশ রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ”। সংগঠনটি শুরু থেকেই একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যেখানে কোনো ধরনের বাধ্যতামূলক চাঁদা বা সদস্য ফি নেই।
সংগঠনের মূল নীতিমালার মধ্যে রয়েছে—কোনো বাধ্যতামূলক চাঁদা বা সদস্য ফি না রাখা, ব্যক্তিগত স্বার্থে অর্থ সংগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, সদস্যদের স্বেচ্ছায় অনুদানের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা এবং সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহকে অনৈতিক ও শাস্তিযোগ্য ঘোষণা করা।
নেতৃবৃন্দ জানান, অতীতে বিভিন্ন সংগঠনের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ থেকে শিক্ষা নিয়েই তারা এই স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তুলেছেন। তাদের মতে, চাঁদা নয়—সততা ও আত্মত্যাগই হবে সংগঠনের প্রধান শক্তি।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসেলে ইতোমধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।
সংগঠনের লক্ষ্য হলো প্রবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা এবং প্রতারণা ও আর্থিক শোষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা। নেতৃদ্বয় সকল প্রবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—চাঁদা নয়, আন্তরিকতা; বিভেদ নয়, ভ্রাতৃত্ব; ব্যক্তিস্বার্থ নয়, সম্মিলিত উন্নয়নকে প্রাধান্য দিতে হবে।
এছাড়া, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে, তবে ভুক্তভোগীদের কেন্দ্রীয় বা আঞ্চলিক কমিটির সাথে লিখিতভাবে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট এএনএম ঈসার দর্শন—“আমারটা আমার, তোমারটা তোমার”—উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, অন্যের অধিকার হরণকারীদের বিরুদ্ধে তারা সবসময় সোচ্চার থাকবেন।
শেষে, তারা সকল গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সংগঠনের কার্যক্রমে সহযোগিতা কামনা করেছেন।