তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের যাত্রা শুরু, প্রথম বৈঠকেই কড়া বার্তা: দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা ও বিদ্যুৎ খাতে জরুরি অগ্রাধিকার ঘোষণা
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সরকার প্রাথমিকভাবে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে—দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।
মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নেওয়ার পর বুধবার বিকেলে মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও রয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সচিবালয়ে এসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেন তারা। বেলা তিনটার দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে মন্ত্রীদের পাশাপাশি উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক হয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার ২০২৬ বিকেলে সচিবালয়ে ছবি: পিআইডি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রথা অনুযায়ী সরকারের প্রথম দিনেই মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের কিছু অনুশাসন দিয়েছেন এবং ১৮০ দিনের একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন, যা পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
তিনি বলেন, সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা ও সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টি না হতে দেওয়া।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখা, তারাবিহ ও ইফতারের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মানুষের জন্য সহনীয় রাখা সরকারের বিশেষ লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা দ্রুত কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সরকারের সব সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তিতে রায় দিয়েছেন। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সেই ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সচিবদের পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কারও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বিবেচনায় নেওয়া হবে না; মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রশাসন পরিচালিত হবে।
প্রথম বৈঠকেই নতুন সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—জনজীবনের মৌলিক সংকট নিরসনই হবে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। আগামী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


















