Logo

সাহিত্য সংস্কৃতি    >>   পূর্ণিমার জোছনায় সমুদ্রতীরে বাংলা সংস্কৃতির মহোৎসব: জলে, গানে, নৃত্যে ও কবিতায় রকওয়ে বিচে জোছনা উৎসব ২০২৬

পূর্ণিমার জোছনায় সমুদ্রতীরে বাংলা সংস্কৃতির মহোৎসব: জলে, গানে, নৃত্যে ও কবিতায় রকওয়ে বিচে জোছনা উৎসব ২০২৬

পূর্ণিমার জোছনায় সমুদ্রতীরে বাংলা সংস্কৃতির মহোৎসব: জলে, গানে, নৃত্যে ও কবিতায় রকওয়ে বিচে জোছনা উৎসব ২০২৬

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :

সমুদ্রের ঢেউয়ে জোছনার আলো, বাতাসে ভেসে আসবে বাংলা গানের সুর, মঞ্চজুড়ে থাকবে নৃত্যের ছন্দ, কবিতার আবৃত্তি আর বাচিক শিল্পীদের প্রাণবন্ত উপস্থাপনা। প্রকৃতি ও সংস্কৃতির এমন অপূর্ব মেলবন্ধনেই নিউইয়র্কের কুইন্সের আটলান্টিক মহাসাগর-তীরবর্তী রকওয়ে বিচে আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার, অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘জোছনা উৎসব ২০২৬’।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফিরে আসা এই উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। পূর্ণিমার আলোয় সমুদ্রসৈকতের মনোমুগ্ধকর পরিবেশে বাংলা সংস্কৃতির নানা শাখার শিল্পীদের অংশগ্রহণে এবারের আয়োজন হয়ে উঠবে আরও বর্ণিল, নান্দনিক ও ব্যতিক্রমী।

জোছনা উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ  ‘বাচিক উপস্থাপনা— নিউইয়র্কের জনপ্রিয় লেখক ও বাচিক শিল্পী মিনহাজ আহমেদের লেখা “ হারি কি জিতি “ । এতে অংশগ্রহণ করবেন জনপ্রিয় বাচিকশিল্পী মুনমুন সাহা, সুপর্ণা সরকার রিমা ও বাচিক দল। কবিতা, শব্দ, কণ্ঠ ও অভিনয়ভঙ্গির সমন্বয়ে তাঁদের পরিবেশনা জোছনা উৎসবের মঞ্চে সৃষ্টি করবে ভিন্নমাত্রার আবহ।

শুধু বাচিক পরিবেশনাই নয়—উৎসবে থাকছে নিউইয়র্কের জনপ্রিয় আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও বাচিক শিল্পীদের পরিবেশনা। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আগত গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক শিল্পীদের অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানটি রূপ নেবে প্রবাসের মাটিতে বাংলা সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলায়।

আয়োজকদের অন্যতম সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোপাল সান্যাল এবং সাংবাদিক পিনাকী তালুকদার জানান, জোছনা উৎসবকে সফল, সার্থক ও দর্শকনন্দিত করে তুলতে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের লক্ষ্য—প্রবাসী বাঙালিদের জন্য এমন একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন উপহার দেওয়া, যেখানে বিনোদনের পাশাপাশি বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসাও আরও গভীর হবে।

আয়োজকরা জানান, এবারের অনুষ্ঠানের জন্য উন্নতমানের সাউন্ড সিস্টেম, বিশাল মঞ্চ ও নান্দনিক আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিল্পীদের পরিবেশনা যেন দর্শকদের কাছে সর্বোচ্চ মানে পৌঁছায়, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে দর্শকরা সমুদ্রের পাড়ে বসে পূর্ণিমার জোছনার সঙ্গে উপভোগ করতে পারেন সংগীত, নৃত্য, কবিতা ও বাচিক শিল্পের অনন্য পরিবেশনা।

আয়োজকরা বলেন, একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রাণ হচ্ছে দর্শক। তাঁদের উপস্থিতি ও ভালোবাসাই শিল্পীদের অনুপ্রেরণা জোগায়। দর্শকদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ শিল্পীদের আরও উৎসাহিত করবে এবং তাঁরা তাঁদের সেরা পরিবেশনা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।

তাঁরা প্রজ্ঞা নিউজের মাধ্যমে নিউইয়র্ক ও আশপাশের প্রবাসী বাঙালিদের প্রতি জোছনা উৎসবে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এবারের আয়োজন হবে চমৎকার, বৈচিত্র্যময় ও স্মরণীয়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে সবাইকে রকওয়ে বিচে এসে এই সাংস্কৃতিক উৎসব উপভোগ করার অনুরোধ জানান তাঁরা।

প্রকৃতি, পূর্ণিমা ও বাংলা সংস্কৃতির এই অনন্য সম্মিলনে ৩১ জুলাই রকওয়ে বিচে তৈরি হবে এক বিশেষ আবহ। আটলান্টিকের ঢেউয়ের সঙ্গে জোছনার আলো আর মঞ্চের শিল্পীদের পরিবেশনায় সেদিন নিউইয়র্কের বুকে যেন জেগে উঠবে এক টুকরো বাংলা—জলে, গানে, নৃত্যে ও কবিতায়।