Logo

অপরাধ    >>   রথযাত্রার পথে ছাতার ভেতর বোমা বাংলাদেশে: ২৪ ঘণ্টা পরও নাশকতার জট খুলতে পারেনি পুলিশ?

রথযাত্রার পথে ছাতার ভেতর বোমা বাংলাদেশে: ২৪ ঘণ্টা পরও নাশকতার জট খুলতে পারেনি পুলিশ?

রথযাত্রার পথে ছাতার ভেতর বোমা বাংলাদেশে: ২৪ ঘণ্টা পরও নাশকতার জট খুলতে পারেনি পুলিশ?

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে উদ্ধার হওয়া শক্তিশালী পাইপ বোমা (আইইডি) কে বা কারা রেখেছিল এবং এর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল—ঘটনার একদিন পরও তা নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে ঘটনাটি ঘিরে পুলিশের পাশাপাশি কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র‍্যাব যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশীদ জানান, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র ধরে এগোচ্ছেন। তবে এখনই প্রকাশ করার মতো পর্যাপ্ত অগ্রগতি হয়নি বলে জানান তিনি।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মতিঝিল এলাকায় একটি ছাতার ভেতর থেকে আলো জ্বলতে দেখা গেলে বিষয়টি ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল সেখানে গিয়ে ছাতার ভেতর একটি আইইডি উদ্ধার করে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে। এ ঘটনায় শনিবার মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মির্জা মোহাম্মদ মুক্তা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই সময় উল্টো রথযাত্রার শোভাযাত্রা ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসছিল। জনমনে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ সেখানে 'শর্ট সার্কিট' হয়েছে বলে জানিয়ে শোভাযাত্রাকে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেয়। শোভাযাত্রা নিরাপদে চলে যাওয়ার পর ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট আইইডিটি ধ্বংস করে। বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় স্প্লিন্টারের আঘাতে মিরাজ আহমেদ (৩৩) নামে এক পথচারী আহত হন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ হিসেবেই বিস্ফোরক ডিভাইসটি সেখানে রাখা হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে উগ্রবাদী কোনো গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে উল্টো রথযাত্রার শোভাযাত্রাকে লক্ষ্য করেই ডিভাইসটি রাখা হয়ে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় কর্তৃপক্ষ।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও সিটিটিসি প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দায়ীদের পরিচয় বা প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে যেখানে আইইডিটি পাওয়া গেছে, সেটি উল্টো রথযাত্রার নির্ধারিত পথ ছিল—এ বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া আইইডিতে একটি বৈদ্যুতিক সার্কিট, ব্যাটারি, ধাতব পাইপের ভেতরে আনুমানিক এক থেকে দেড় কেজি সালফার এবং বিপুল পরিমাণ বিয়ারিং বল ব্যবহার করা হয়েছিল। এছাড়া ছাতার বোতামে চাপ দিলেই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে—এমনভাবে ডিভাইসটি প্রস্তুত করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। সূত্র: ইত্তেফাক