Logo

সাহিত্য সংস্কৃতি    >>   সংস্কৃতির সেতুবন্ধনে দুই দিনের মহোৎসব—সৃষ্টি বিশ্বময় ও লন্ডন বাংলা বইমেলা পর্ষদের আয়োজনে শিল্প-সাহিত্য-সংগীতের বর্ণিল মিলনমেলা

সংস্কৃতির সেতুবন্ধনে দুই দিনের মহোৎসব—সৃষ্টি বিশ্বময় ও লন্ডন বাংলা বইমেলা পর্ষদের আয়োজনে শিল্প-সাহিত্য-সংগীতের বর্ণিল মিলনমেলা

সংস্কৃতির সেতুবন্ধনে দুই দিনের মহোৎসব—সৃষ্টি বিশ্বময় ও লন্ডন বাংলা বইমেলা পর্ষদের আয়োজনে শিল্প-সাহিত্য-সংগীতের বর্ণিল মিলনমেলা

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয়ে চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হলো সৃষ্টি বিশ্বময় ও লন্ডন বাংলা বইমেলা পর্ষদের যৌথ উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী সাহিত্য-সংস্কৃতি উৎসব। দেশ-বিদেশের শিল্পী, সাহিত্যিক, আবৃত্তিশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয় এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।


উৎসবের উদ্বোধনী দিনে প্রধান বক্তা হিসেবে কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, বাংলা সংস্কৃতি বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ হলেও বিভিন্ন সময়ে এই ঐক্যে বিভেদের অপচেষ্টা হয়েছে। তবে সংস্কৃতিকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় সেই বিভেদ দূর করে বাঙালির সংস্কৃতিকে একই বন্ধনে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।


প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান বলেন, বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে লন্ডন বাংলা বইমেলা পর্ষদ ও সৃষ্টি বিশ্বময় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান সরকারের সংস্কৃতিবান্ধব উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানবিক, সৃজনশীল ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৃষ্টি বিশ্বময়ের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক বাসুদেব ধর, কেন্দ্রীয় সম্পাদক অলক দাশগুপ্ত, সৃষ্টি বিশ্বময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি নাট্যশিক্ষক মোস্তফা কামাল যাত্রা, সংস্কৃতি সংগঠক তাপস হোড় এবং নির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ সাজিদুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লন্ডন বাংলা বইমেলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসবের মুখ্য সমন্বয়ক গোলাম মোস্তফা।


আলোচনা পর্ব শেষে বিশ্বব্যাপী আয়োজিত অনলাইন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনন্যা সংগীত নিকেতনের শিল্পীদের কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।


প্রথম দিনের সাংস্কৃতিক আয়োজনে একক সংগীত পরিবেশন করেন আদিত্য বড়ুয়া ও প্রাচী সেন। আবৃত্তি পরিবেশন করেন দীপান্বিতা চৌধুরী, পিন্টু সাহা এবং বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী ড. মধুমিতা বসু। নৃত্য পরিবেশন করেন মেঘান্দ্রীলা ভট্টাচার্য, তনুকা দাস, পুতুল দে, ঐশীকা দাস ও নীলাদ্রি-এন্ড্রুশ্বেতা। দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেয় সংগীত পরিষদ, অনন্যা সংগীত নিকেতন ও বিবেকানন্দ সংগীত নিকেতন।


দ্বিতীয় দিন, বিশ্ব সঙ্গীত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ক্যাপ্টেন ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সংস্কৃতির প্রবাহ কখনো কোনো ভৌগোলিক সীমারেখায় আবদ্ধ থাকে না; এটি আপন শক্তিতে দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষের হৃদয়ে মানবতার বীজ বপন করে।
এদিন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় ত্রিবেণী সঙ্গীত একাডেমি, অদিতি সংগীত নিকেতন, দ্য একাডেমি অব ক্লাসিক্যাল অ্যান্ড ফোক ডান্স এবং শিল্পী রাফি তালুকদার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন ড. মধুমিতা বসু ও ফারজানা এলি।


বাইরে প্রবল বর্ষণ চললেও মিলনায়তন ছিল দর্শকে পরিপূর্ণ। এ সময় বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী মানু মজুমদার রবীন্দ্রসংগীতের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন। তাঁর পরিবেশনা উৎসবের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়।


দুই দিনের এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের সঞ্চালনা করেন সৃষ্টি বিশ্বময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের সম্পাদক ও বাচিকশিল্পী দেবাশিস রুদ্র এবং বাচিকশিল্পী রুনা চৌধুরী। জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সম্প্রীতি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনার এই উৎসবের সফল সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও বাংলা সংস্কৃতিকে বিশ্বপরিসরে আরও সমৃদ্ধ ও সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যাবে।