Logo

অপরাধ    >>   দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা: ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার

দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা: ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার

দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা: ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মূল আসামি সোহেল রানা (৩৪) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আজ বুধবার (২০ মে) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির স্বীকারোক্তি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জবানবন্দিতে লোমহর্ষক বর্ণনা

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, জবানবন্দিতে ঘাতক সোহেল রানা ঘটনার নির্মম বিবরণ দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেলের স্ত্রী কৌশলে তাকে নিজেদের রুমে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সোহেল শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। নির্যাতনের একপর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

ধর্ষক ও ঘাতক সোহেল রানা

ঠিক ওই সময়েই রামিসার মা পারভীন আক্তার মেয়েকে খুঁজতে খুঁজতে সোহেলের দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সোহেল বাথরুমের ভেতরেই রামিসাকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মাথা কেটে শরীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলে এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে। একই সঙ্গে সে শিশুটির সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে।

হত্যাকাণ্ড শেষে মরদেহটি বাথরুম থেকে এনে শয়নকক্ষের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয় এবং খণ্ডিত মাথাটি বাথরুমের একটি প্লাস্টিকের বালতির ভেতর রাখা হয়। জবানবন্দিতে সোহেল আরও জানায়, ঘটনার আগে সে ইয়াবা সেবন করেছিল। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে তাদের পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না।

যেভাবে উদ্ধার হয় মরদেহ

নিহত রামিসা আক্তার মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া আবদুল হান্নান মোল্লার ছোট মেয়ে। সে স্থানীয় পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। তারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ওই বাসায় বসবাস করছেন। অন্যদিকে, ঘাতক সোহেল রানা পেশায় একজন রিকশা মেকানিক এবং দুই মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ ভাড়া নেয়।

রামিসার চাচা এ কে এম নজরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোনের সঙ্গে রামিসার স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল। তাকে খুঁজে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন মা পারভীন আক্তার। একপর্যায়ে পাশের ফ্ল্যাটের (সোহেলের বাসা) দরজার সামনে রামিসার একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ হওয়ায় তিনি দরজায় ধাক্কাধাক্কি ও ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

পরে বিষয়টি জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ জানানো হলে বেলা ১১টার দিকে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন বিবস্ত্র দেহ এবং বাথরুমের বালতি থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে।

আসামি গ্রেপ্তার ও মামলার অগ্রগতি

পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই ঘাতক সোহেল রানা বাথরুমের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থল থেকেই তার স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক জানান, এই নৃশংস ঘটনার পর পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার পরপরই রক্তমাখা আলামত ও ধারালো ছুরি উদ্ধার করেছে। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটও ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা সহযোগিতা ছিল কি না, তা আরও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।