কবিতা: যে আমি ঘুমিয়ে আছি—নিবেদিতা শইকীয়া
যে আমি ঘুমিয়ে আছি
নিবেদিতা শইকীয়া
নগাঁও, অসম
তোমাকে খুঁজছি না আমি,
খুঁজছি নিজের হারানো ছায়া—
যা বুকের ভেতরে হাহাকার তোলা
সেই চাপা পড়ে থাকা আমিকে।
যে ভোরের শিশিরের মতো নির্মল হাসতো,
রোদে শুকোনো মাটির ঘ্রাণের মতন ভালোবাসতো,
বৃষ্টিভেজা কাঁচে নীরব দুঃখ জমাতো,
অভিমানে দূরে সরে গিয়েও
এক ডাকেই গলে যেতো।
রাগের আগুনে মুঠোভরা মায়া লুকিয়ে,
ভাঙা পৃথিবী জেনেও
দুই হাত বাড়িয়ে সবাইকে বিশ্বাস করতো।
তার চোখে পৃথিবী ছিলো
ধুলো-মোছা এক নতুন জানালা—
চিরনূতন।
বাতাসের ফিসফিসে সে গান শুনতো,
সামান্য আলোতেও উৎসব দেখতো।
আজ সে ঘুমিয়ে আছে
আমার ভেতরের অন্ধকার কোণে,
নীরবতার ভারী কম্বলের নিচে—
যেখানে রোদ পৌঁছয় না,
পাখির ডাকও নয়।
কখনও কান পেতে শুনি,
বুকের গভীরে দূর নক্ষত্রের মতো
তার নিঃশ্বাস কাঁপে।
হাজারবার ডেকেছি,
চোখের জলে দরজায় কড়া নেড়েছি,
স্মৃতির উষ্ণ হাত রেখেছি কপালে—
তবু সে জাগে না,
আরও গভীর অন্ধকারে ডুবে যায়।
তবু তার হাসির উষ্ণতা,
বিশ্বাসের স্বচ্ছতা,
ভালোবাসার আলো নিয়ে
আবার নিজের কাছে ফিরবে বলে
রাতের পর রাত অপেক্ষা করি।
নিভে যাওয়া প্রদীপে
শেষ সলতেটুকু জ্বালিয়ে রাখি।
কারণ সে না ফিরলে
আমি শুধু শ্বাস নিতে থাকা এক খোলস—
চোখ খোলা, অথচ কোনো ভোর নেই।
আমার প্রতিটি দিন তার অনুপস্থিতির
ধীরে ধীরে পাথর হয়ে ওঠা স্মারক;
আর রাত নামলেই মনে হয়,
অন্ধকারের নিচে সে নয়—
যেন আমারই কবরে আমি শুয়ে আছি।



















