বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের অস্তিত্ব সংকট: রাজনৈতিক প্রভাব, পাঠক-দর্শক হারানো ও ডিজিটাল আগ্রাসনে চাপে সাংবাদিকতা
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিজ্ঞাপনের বাজারে পরিবর্তন, সংবাদপত্রের ক্রমহ্রাসমান প্রচলন, টেলিভিশনের দর্শক হারানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারে বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যম এক গভীর পরিবর্তন ও অস্তিত্বের সংকটের মুখোমুখি। এই বাস্তবতায় সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠতা, পেশাগত নৈতিকতা এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা এবং প্রিন্ট ও টেলিভিশন মিডিয়ার ব্যবসায়িক টিকে থাকার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এমনই এক সময়োপযোগী প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ১৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিশ্বব্যাপী মিডিয়ার অস্তিত্ব সংকট’ শীর্ষক সেমিনার ও সম্মাননা অনুষ্ঠান।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭ টায় নিউইয়র্কের উডসাইডের গোলশান টেরেসে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সাংবাদিক, সম্পাদক, শিক্ষাবিদ, লেখক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং কমিউনিটি প্রতিনিধিরা গণমাধ্যমের বর্তমান সংকট, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার বাস্তবতা, রাজনৈতিক প্রভাব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিযোগিতা এবং সংবাদমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, সংবাদ প্রকাশের গতি বেড়েছে, তথ্যের প্রবাহ বহুগুণে বিস্তৃত হয়েছে, কিন্তু সেই সঙ্গে নির্ভরযোগ্য তথ্য চেনা এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জও বেড়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতায় যাচাই-বাছাই, প্রেক্ষাপট, নির্ভুলতা ও বিশ্লেষণের গুরুত্ব যেন উপেক্ষিত না হয়। সংবাদমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা রক্ষায় রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপের বাইরে থেকে সত্যনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার ওপর তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত ওসমান রচি। স্বাগত বক্তব্য দেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মশিউর রহমান মজুমদার। পুরো আলোচনা পর্বের সঞ্চালনা করেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিক দর্পণ কবীর।
সেমিনারে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বক্তারা রাজনৈতিক প্রভাব, পেশাগত স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা এবং সাংবাদিকদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপের বিষয় তুলে ধরেন। তাঁদের মতে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধু সাংবাদিকের অধিকার নয়; এটি জনগণের তথ্য জানার অধিকার এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।
সাংবাদিকতা কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হয়ে উঠলে সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একইভাবে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সংবাদ নির্বাচন, তথ্যের একপেশে উপস্থাপন কিংবা বিরুদ্ধমত প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হলে জনপরিসরে গণমাধ্যমের ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা, প্রাসঙ্গিকতা, ভারসাম্য এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা মনে করেন, সাংবাদিকতার গ্রহণযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সংবাদমাধ্যমকে নিজেদের পেশাগত মান ও নৈতিকতার প্রশ্নে আরও কঠোর হতে হবে। ভুল সংবাদ প্রকাশিত হলে তা সংশোধন, তথ্যের উৎস যাচাই এবং সংবাদ ও মতামতের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।
বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের সংকটের অন্যতম বড় দিক হলো সংবাদ গ্রহণের অভ্যাসে পরিবর্তন। একসময় সংবাদপত্র ছিল প্রতিদিনের খবর জানার প্রধান মাধ্যম। টেলিভিশনও সংবাদ, বিশ্লেষণ ও সরাসরি সম্প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন সংবাদপোর্টাল, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার বিস্তারে সংবাদ গ্রহণের ধরন দ্রুত বদলে গেছে।
এখন অনেক পাঠক ছাপা সংবাদপত্রের পরিবর্তে মোবাইল ফোনে খবর পড়ছেন। টেলিভিশনের নির্দিষ্ট সময়ের সংবাদ বুলেটিনের পরিবর্তে অনেকে নিজের সুবিধামতো অনলাইন ভিডিও, লাইভ সম্প্রচার ও সংক্ষিপ্ত সংবাদ দেখছেন। ফলে প্রিন্ট মিডিয়াকে একদিকে পাঠক ধরে রাখার, অন্যদিকে কাগজ, মুদ্রণ, পরিবহন ও বিতরণের ব্যয় সামলানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও বিজ্ঞাপনের আয়, দর্শকের মনোযোগ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রতিযোগিতা এবং মানসম্মত অনুষ্ঠান তৈরির ব্যয়ের চাপে রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশক, সাংবাদিক ও সাধারণ ব্যবহারকারী—সবাই দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারছেন। কিন্তু সেখানে প্রকাশিত প্রতিটি তথ্য সংবাদমাধ্যমের পেশাগত যাচাইপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসে না। পুরোনো ছবি নতুন ঘটনার নামে প্রচার, সম্পাদিত ভিডিও, বিভ্রান্তিকর শিরোনাম, গুজব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে প্রিন্ট ও টেলিভিশন মিডিয়ার জন্য শুধু দ্রুত সংবাদ প্রকাশ যথেষ্ট নয়। বরং নির্ভরযোগ্য তথ্য, মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, ব্যাখ্যামূলক সংবাদ, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং ভুল তথ্য সংশোধনের মাধ্যমে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল সংস্করণ, ভিডিও প্রতিবেদন, পডকাস্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং পাঠক-দর্শকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সেমিনারে নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের পেশাগত প্রস্তুতি ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশ্নও বিশেষ গুরুত্ব পায়। ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে প্রতিযোগিতা, কাজের চাপ এবং ভুল তথ্যের ঝুঁকি।
একজন নতুন সাংবাদিকের জন্য শুধু দ্রুত সংবাদ লেখা কিংবা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে পারাই যথেষ্ট নয়। তাঁকে তথ্যের উৎস শনাক্ত করা, নথি যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সংবাদমূল্য নির্ধারণ এবং আইন ও নৈতিকতার সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, ডিজিটাল সাংবাদিকতা, মোবাইল জার্নালিজম, ভিডিও সম্পাদনা, ডেটা সাংবাদিকতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো তথ্য যাচাই না করে সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করলে সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি লেখা, ছবি কিংবা ভিডিও ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তথ্যের সত্যতা যাচাই, উৎস শনাক্ত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠককে বিষয়টি জানানো জরুরি।
নতুন সাংবাদিকদের জন্য অভিজ্ঞ সম্পাদক ও সাংবাদিকদের কাছ থেকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, সংবাদ যাচাইয়ের অনুশীলন, নিয়মিত অধ্যয়ন এবং পেশাগত পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, চাকরির স্থিতিশীলতা এবং পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা না গেলে মানসম্মত সাংবাদিকতা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা কঠিন হবে।
গণমাধ্যমের অস্তিত্ব সংকটের সঙ্গে অর্থনৈতিক বাস্তবতার সম্পর্কও গভীর। সংবাদ সংগ্রহ, প্রতিবেদক নিয়োগ, সম্পাদনা, তথ্য যাচাই, প্রযুক্তি, মুদ্রণ এবং সম্প্রচারের জন্য ধারাবাহিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। অথচ পাঠক-দর্শকের অভ্যাস পরিবর্তনের সঙ্গে বিজ্ঞাপনের অর্থও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এতে বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি সংবাদপত্র, স্থানীয় টেলিভিশন এবং কমিউনিটি মিডিয়ার আর্থিক চাপ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও এ প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। কমিউনিটির সংবাদ, সংস্কৃতি, সংগঠন, অভিবাসন, শিক্ষা, নাগরিক অধিকার এবং বাংলাদেশ-সম্পর্কিত খবর পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে বাংলা সংবাদপত্র ও টেলিভিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু সীমিত বিজ্ঞাপন, পরিচালন ব্যয়, দক্ষ জনবলের অভাব এবং ডিজিটাল মাধ্যমে পাঠক ধরে রাখার প্রতিযোগিতা এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য বাস্তব চ্যালেঞ্জ।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংবাদমাধ্যমের আয়ের উৎসে বৈচিত্র্য, ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন, পাঠক-সমর্থন, স্বচ্ছ বিজ্ঞাপননীতি, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের বিষয়গুলো বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে আর্থিক টিকে থাকার জন্য সংবাদবস্তুর স্বাধীনতা ও সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে আপস করা হলে দীর্ঘমেয়াদে পাঠকের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বক্তারা সাংবাদিকদের নিয়মিত সংবাদপত্র পড়া, বই ও গবেষণামূলক লেখা অধ্যয়ন, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁদের মতে, পেশাগত সততা, নৈতিকতা, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধতাই সাংবাদিকতার স্থায়ী ভিত্তি।
আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক প্রবাসের সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, সাংবাদিক সাঈদ তারেক, প্রথম আলো নিউইয়র্কের সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী, সাপ্তাহিক বাংলাদেশের সম্পাদক ড. ওয়াজেদ এ খান, সাংবাদিক মঈনুদ্দীন নাসের, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া, ক্লাবের সহসভাপতি মনজুরুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, কার্যনির্বাহী সদস্য তোফাজ্জল লিটন, সদস্যসচিব ও কোষাধ্যক্ষ মল্লিকা খান মুনা, সাংবাদিক মনজুর আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইংয়ের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা মজুমদার এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মুহাম্মদ মোজাম্মেল হকসহ অন্যরা।
বক্তারা বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের পরিবর্তিত পরিস্থিতি, সংবাদপত্রের পাঠকসংকট, বিজ্ঞাপননির্ভরতার সীমাবদ্ধতা, প্রযুক্তির প্রভাব এবং সাংবাদিকতার পেশাগত মান রক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আলোচনায় স্বাধীন সাংবাদিকতা, তথ্যের নির্ভুলতা, পাঠক-দর্শকের আস্থা এবং নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ১৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, বাংলাদেশের প্রথম অডিও অ্যালবামের শিল্পী হিসেবে পরিচিত এম এ শোয়েব এবং চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ক্লাবের নেতৃবৃন্দ তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। উপস্থিত অতিথিরাও তাঁদের শুভেচ্ছা জানান।
এ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘আলোকবর্তিকা’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়। স্মরণিকাটির সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন তোফাজ্জল লিটন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কেক কেটে প্রেসক্লাবের ১৮ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়। সংগীত পরিবেশন করেন এম এ শোয়েব ও নন্দিত সংগীতশিল্পী টিনা রাসেল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক ও কলামিস্ট শাহ জে চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহসভাপতি পদপ্রার্থী দুলাল বেহেদু, প্রকৌশলী আব্দুল খালেক, বিশিষ্ট আইনজীবী রেদওয়ানা রাজ্জাক সেতু, শোটাইম মিউজিক অ্যান্ড প্লে-এর সভাপতি
খায়রুল ইসলাম খোকন , অ্যাটর্নি ফারহান আরিয়ান, রকি আলিয়ান, রিয়েলটর জেএফএম রাসেল, কমিউনিটি নেতা আহসান হাবিব ও সিব্বির আহমেদ, ব্লু গ্রিন ইন্স্যুরেন্স ব্রোকারেজের ভাইস প্রেসিডেন্ট
মো. মফিজুর রহমান ,বেঙ্গল কনস্ট্রাকশনের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, ইয়র্ক বাংলার সম্পাদক রশীদ আহমদ , সাংবাদিক তাপস সাহা, প্রজ্ঞা নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশক উত্তম কুমার সাহা, সাংবাদিক দীপক আচার্য, ফটোসাংবাদিক মোহাম্মদ মোহে আলম জেমস এবং কমিউনিটি নেতা শক্তি ডি গুপ্তাসহ আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সদস্য, সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ১৮ বছর পূর্তির এই আয়োজন প্রবাসী সাংবাদিকদের পারস্পরিক যোগাযোগ, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার একটি উপলক্ষ হয়ে ওঠে। পরিবর্তিত প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব—সত্য অনুসন্ধান, তথ্য যাচাই, জনস্বার্থ রক্ষা এবং ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় রাখার গুরুত্ব আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে।
গণমাধ্যমের সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহার ও নতুন ব্যবসায়িক মডেল গুরুত্বপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত পাঠক-দর্শকের আস্থা অর্জনই সংবাদমাধ্যমের দীর্ঘমেয়াদি গ্রহণযোগ্যতার প্রধান ভিত্তি। স্বাধীনতা, পেশাগত সততা, নির্ভুলতা ও দায়িত্বশীলতার সমন্বয়েই প্রিন্ট, টেলিভিশন ও ডিজিটাল—সব ধরনের গণমাধ্যম ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের ভূমিকা ধরে রাখতে পারে।
মঈনুদ্দীন নাসের, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া, ক্লাবের সহসভাপতি মনজুরুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, কার্যনির্বাহী সদস্য তোফাজ্জল লিটন, সদস্যসচিব ও কোষাধ্যক্ষ মল্লিকা খান মুনা, সাংবাদিক মনজুর আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইংয়ের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা মজুমদার এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মুহাম্মদ মোজাম্মেল হকসহ অন্যরা।
বক্তারা বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের পরিবর্তিত পরিস্থিতি, সংবাদপত্রের পাঠকসংকট, বিজ্ঞাপননির্ভরতার সীমাবদ্ধতা, প্রযুক্তির প্রভাব এবং সাংবাদিকতার পেশাগত মান রক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আলোচনায় স্বাধীন সাংবাদিকতা, তথ্যের নির্ভুলতা, পাঠক-দর্শকের আস্থা এবং নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ১৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, বাংলাদেশের প্রথম অডিও অ্যালবামের শিল্পী হিসেবে পরিচিত এম এ শোয়েব এবং চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ক্লাবের নেতৃবৃন্দ তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। উপস্থিত অতিথিরাও তাঁদের শুভেচ্ছা জানান।
এ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘আলোকবর্তিকা’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়। স্মরণিকাটির সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন তোফাজ্জল লিটন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কেক কেটে প্রেসক্লাবের ১৮ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়। সংগীত পরিবেশন করেন এম এ শোয়েব ও নন্দিত সংগীতশিল্পী টিনা রাসেল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক ও কলামিস্ট শাহ জে চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহসভাপতি পদপ্রার্থী দুলাল বেহেদু, প্রকৌশলী আব্দুল খালেক, বিশিষ্ট আইনজীবী রেদওয়ানা রাজ্জাক সেতু, শোটাইম মিউজিক অ্যান্ড প্লে-এর সভাপতি
খায়রুল ইসলাম খোকন , অ্যাটর্নি ফারহান আরিয়ান, রকি আলিয়ান, রিয়েলটর জেএফএম রাসেল, কমিউনিটি নেতা আহসান হাবিব ও সিব্বির আহমেদ, ব্লু গ্রিন ইন্স্যুরেন্স ব্রোকারেজের ভাইস প্রেসিডেন্ট
মো. মফিজুর রহমান ,বেঙ্গল কনস্ট্রাকশনের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, ইয়র্ক বাংলার সম্পাদক রশীদ আহমদ , সাংবাদিক তাপস সাহা, প্রজ্ঞা নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশক উত্তম কুমার সাহা, সাংবাদিক দীপক আচার্য, ফটোসাংবাদিক মোহাম্মদ মোহে আলম জেমস এবং কমিউনিটি নেতা শক্তি ডি গুপ্তাসহ আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সদস্য, সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ১৮ বছর পূর্তির এই আয়োজন প্রবাসী সাংবাদিকদের পারস্পরিক যোগাযোগ, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার একটি উপলক্ষ হয়ে ওঠে। পরিবর্তিত প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব—সত্য অনুসন্ধান, তথ্য যাচাই, জনস্বার্থ রক্ষা এবং ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় রাখার গুরুত্ব আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে।
গণমাধ্যমের সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহার ও নতুন ব্যবসায়িক মডেল গুরুত্বপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত পাঠক-দর্শকের আস্থা অর্জনই সংবাদমাধ্যমের দীর্ঘমেয়াদি গ্রহণযোগ্যতার প্রধান ভিত্তি। স্বাধীনতা, পেশাগত সততা, নির্ভুলতা ও দায়িত্বশীলতার সমন্বয়েই প্রিন্ট, টেলিভিশন ও ডিজিটাল—সব ধরনের গণমাধ্যম ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের ভূমিকা ধরে রাখতে পারে।



















