Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   ‘সর্বোচ্চ আইকিউ বা বুদ্ধিমত্তা’ রয়েছে বলে দাবি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের

‘সর্বোচ্চ আইকিউ বা বুদ্ধিমত্তা’ রয়েছে বলে দাবি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের

‘সর্বোচ্চ আইকিউ বা বুদ্ধিমত্তা’ রয়েছে বলে দাবি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

নিজের ‘সর্বোচ্চ আইকিউ’ বা বুদ্ধিমত্তা রয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় নিজের প্রয়াত চাচা ড. জন জর্জ ট্রাম্পের জিনগত প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সম্প্রতি TIME-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে মূলধারার গণমাধ্যমের সঙ্গে তার বিরোধ, ওয়াশিংটন ডিসিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ, ইরান যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকে তিনি বিশ্বাস করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে হঠাৎ নিজের চাচার প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, তারা তার চাচাকে নিয়ে প্রকাশিত খবর দেখেছেন কি না।

এরপর ট্রাম্প বলেন, “আমার আইকিউ সর্বোচ্চ। আমার সর্বোচ্চ। আমি ঠিক আছি এবং আমি এসব বিষয় বুঝি।” তিনি আরও বলেন, তার চাচা এমআইটিতে ৪১ বছর ছিলেন এবং তিনি জেনেটিকসে বিশ্বাস করেন ও বিষয়টি বোঝেন। ট্রাম্পের দাবি, নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে অন্য যেকোনো প্রেসিডেন্টের তুলনায় তার বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে।

ট্রাম্প এর আগেও বিভিন্ন বক্তব্যে তার চাচার মেধা ও নিজের জিনগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সম্পর্কের কথা বলেছেন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এক বক্তব্যে তিনি জন ট্রাম্পকে এমআইটির সঙ্গে ৪১ বছর যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তার পারমাণবিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞানের প্রশংসা করেন।

ড. জন জর্জ ট্রাম্প ছিলেন এমআইটির প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং উচ্চভোল্টেজ প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা একজন বিজ্ঞানী। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাডার প্রযুক্তি উন্নয়নেও কাজ করেন। ১৯৮৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান তাকে National Medal of Science-এ ভূষিত করেন। এমআইটির নথিতেও জন ট্রাম্পকে এই পদকের প্রাপকদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্প ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারেও চাচা জন ট্রাম্পের ‘ভালো জিন’-এর কথা উল্লেখ করেছিলেন। ২০২৪ সালেও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমআইটিতে চাচার একটি সাদা-কালো ছবি প্রকাশ করে তাকে নিয়ে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

TIME সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ‘চাচার কাছ থেকে আইকিউ পাওয়া’ মন্তব্য নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ জিনগতভাবে চাচার বুদ্ধিমত্তা সরাসরি ভাতিজার মধ্যে চলে আসার ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে জন ট্রাম্পের বৈজ্ঞানিক ও একাডেমিক কৃতিত্ব নিয়ে আলাদা কোনো বিতর্ক নেই। তিনি এমআইটির দীর্ঘদিনের অধ্যাপক ছিলেন এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেছেন।

চাচাকে নিয়ে আগেও বিতর্কিত দাবি করেছিলেন ট্রাম্প

২০২৫ সালে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তার চাচা জন ট্রাম্প কুখ্যাত বোমা হামলাকারী টেড ক্যাসিনস্কি, যিনি ‘আনাবোম্বার’ নামে পরিচিত, তাকে পড়িয়েছিলেন। তবে ওই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এমআইটি কর্তৃপক্ষও জানিয়েছিল, ক্যাসিনস্কি কখনো এমআইটির শিক্ষার্থী ছিলেন—এমন কোনো রেকর্ড তাদের কাছে নেই। ক্যাসিনস্কি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং পরে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নেন। 

এর আগে ২০২৫ সালের ওই দাবির সময় ট্রাম্পের তৎকালীন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট তার পরিবার নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। তিনি আরও জানান, ট্রাম্পের কাছে এমআইটির লেটারহেডে লেখা তার চাচার একটি চিঠি রয়েছে। সূত্র: টাইম (TIME), দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট (ইউকে), এমআইটি, জাগোনিউজ