কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ফের তদন্তে প্রসিকিউটররা
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (Cornell University)-এর এক সাবেক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু করছে প্রসিকিউটররা। ২০২৪ সালের ওই ঘটনার বিষয়ে সম্প্রতি দায়ের করা দেওয়ানি মামলায় নতুন তথ্য-প্রমাণ সামনে আসার পর তদন্ত পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
টম্পকিন্স কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জানান, মামলাটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপন করা হবে। গ্র্যান্ড জুরি নতুন তথ্য-প্রমাণ ও সাবেক শিক্ষার্থীর বক্তব্য পর্যালোচনা করে অভিযোগের ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলা করার মতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা বিবেচনা করবে।
মামলার নথিতে ওই নারীকে ‘জেন ডো’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর দায়ের করা ১০১ পৃষ্ঠার দেওয়ানি মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কর্নেলের চি ফাই (Chi Phi) ভ্রাতৃসংঘের সাত সদস্য তাকে মাদক প্রয়োগ করে যৌন নিপীড়ন করেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
দেওয়ানি মামলায় যা অভিযোগ
মামলায় সাত শিক্ষার্থী, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, চি ফাই ভ্রাতৃসংঘসহ একাধিক পক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে। সেখানে অবহেলা, চুক্তিভঙ্গ, যৌন নিপীড়ন ও হামলা এবং নিউইয়র্কের মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
জেন ডোর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাতে তিনি প্রথমে নিজের সরোরিটি আবাসনে এবং পরে একটি পানশালায় মদ্যপান করেন। এরপর এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে চি ফাইয়ের আবাসনে যান। মামলায় বলা হয়েছে, সেখানে যাওয়ার আগের প্রায় তিন ঘণ্টায় তিনি প্রায় ১০ গ্লাস মদ পান করেছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চি ফাইয়ের ওই সদস্য ও অন্য একজন তাকে আরও মদ দেন এবং কেটামিন হিসেবে পরিচয় দেওয়া একটি পদার্থ নাক দিয়ে গ্রহণ করতে চাপ দেন। এরপর তিনি সম্মতি দেওয়ার অবস্থায় না থাকা সত্ত্বেও যৌন নিপীড়নের শিকার হন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
নতুন তথ্য-প্রমাণের দাবি
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেওয়ানি মামলায় একটি গ্রুপ চ্যাটের স্ক্রিনশটও উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ভ্রাতৃসংঘের সদস্যদের কথোপকথন এবং অন্য সদস্যদের ঘটনাটিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। জেলা অ্যাটর্নির দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, এই তথ্য ২০২৪ সালের প্রাথমিক তদন্তের সময় তাদের কাছে ছিল না।
অন্যদিকে জেলা অ্যাটর্নি ভ্যান হাউটেন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে জেন ডোর দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্যে তিনি মাদক প্রয়োগ বা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ করেননি এবং সেখানে যৌন কর্মকাণ্ড ও মাদক গ্রহণকে স্বেচ্ছাসম্মত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল—যে কারণে তখন ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। জেন ডোর আইনজীবী অবশ্য এই ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ও অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং চি ফাই অধ্যায়টিকে ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এখন নতুন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গ্র্যান্ড জুরি বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। তদন্তের পরই ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।



















