Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   মুক্তিযোদ্ধা অবিনাশ আচার্য্য ও সমাজসেবক সুশীল সাহাকে নিউইয়র্কে সংবর্ধনা

মুক্তিযোদ্ধা অবিনাশ আচার্য্য ও সমাজসেবক সুশীল সাহাকে নিউইয়র্কে সংবর্ধনা

মুক্তিযোদ্ধা অবিনাশ আচার্য্য ও সমাজসেবক সুশীল সাহাকে নিউইয়র্কে সংবর্ধনা

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
মুক্তিযুদ্ধ ও সমাজসেবায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নিউইয়র্কে সম্মানিত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অবিনাশ আচার্য্য ও সমাজসেবক সুশীল সাহা। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় কুইন্সে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ৮৬ বছর বয়সী অবিনাশ আচার্য্য ও ৮৩ বছর বয়সী সুশীল সাহাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডা. ভোলানাথ বণিক। বাংলাদেশী হিন্দু সম্প্রদায়, নিউইয়র্ক আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে গীতা পাঠ করেন শ্রীনিত্যনন্দ কিশোর দাস প্রভু। পরে সুবর্ণা সেনগুপ্ত, সুলেখা পাল ও রিনা সাহা সভাপতি এবং সংবর্ধিত দুই অতিথিকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মান জানান।

অবিনাশ আচার্য্য ও সুশীল সাহাকে ক্রেস্ট প্রদান করেন ডা. দ্বিজেন ভট্টাচার্য্য ও অধ্যাপক নবেন্দু বিকাশ দত্ত। আলপনা গুহ ও সুমিত্রা সেন তাঁদের দুজনকে শাল পরিয়ে দেন। এ সময় শীতাংশু গুহ তাঁর সদ্য প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ: এক্সটিনসন অফ হিন্দুজ ইন গ্লোবাল কন্টেস্ট’ বইটি তিনজনকে উপহার দেন। এরপর অতিথিরা প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন। পরে উপস্থিত সবাই সমবেত কণ্ঠে ‘আগুনের পরশমণি’ গান পরিবেশন করেন।

সংবর্ধিত দুই ব্যক্তির হাতে কংগ্রেশনাল প্রক্লেমেশন তুলে দেওয়া হয়। ডা. দিলীপ নাথ ও দীপা নাথ সেটি পড়ে শোনান। শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘের পক্ষ থেকে সুভাষ কুমার সাহা ও অর্ধেন্দ্র কিশোর বিশ্বাস তাঁদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণে আবেগঘন পরিবেশ

অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা অবিনাশ আচার্য্য ইংরেজিতে তাঁর জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরেন। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের সময় পুরো অনুষ্ঠানস্থলে নেমে আসে নীরবতা; গভীর মনোযোগে তাঁর বক্তব্য শোনেন উপস্থিত সবাই।

সমাজসেবক সুশীল সাহা তাঁর বক্তব্যে সমাজসেবা, রাজনীতি ও ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে দুজনই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বারবার আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বক্তারা বলেন, আশির ঊর্ধ্ব দুই গুণী মানুষকে সম্মানিত করতে পেরে তাঁরা গর্বিত। তাঁদের মতে, এই সংবর্ধনা শুধু ব্যক্তিগত সম্মান নয়, বরং সমাজ ও মানুষের জন্য তাঁদের দীর্ঘদিনের অবদানের একটি স্বীকৃতি। একই সঙ্গে দুই প্রবীণ ব্যক্তির সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন কামনা করা হয়, যাতে তাঁরা ভবিষ্যতেও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখতে পারেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, নিউইয়র্কে এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এই প্রথম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

বিশিষ্টজনদের বক্তব্য ও উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডা. প্রভাত দাস, চন্দন সেনগুপ্ত, নবেন্দু দত্ত, ডা. দ্বিজেন ভট্টাচার্য্য, বিষ্ণু গোপ, রিনা সাহা, দিলীপ নাথ, রামদাস ঘরামী, অঞ্জন ভট্টাচার্য্য, পরেশ সাহা, কৃষেন্দু রুদ্রসহ আরও অনেকে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেলিফোনে শুভেচ্ছা জানান ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের সাবেক গভর্নর ড. তথাগত রায়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সঞ্জিত ঘোষ, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, অসীম সাহা, পার্থ সাহা, নিতাই পাল, ডা. টমাস দুলু রায়, গোপন সাহা, পিনাকী তালুকদার, শুক্লা ভৌমিক, বুলবুল ভৌমিক, শিবু পোদ্দার, শিবু শর্মা, ধ্রুব চক্রবর্তী, পরিমল, ঝুমুর ভট্টাচার্য্য, দীনেশ মজুমদার, সুমি ও সুজন, সুমিত্রা সেন, গণেশ ভৌমিক, রঞ্জন ভট্টাচার্য্য, অনিন্দিতা ভট্টাচার্য্য, সুকান্ত দাস টুটুল, প্রদীপ কুন্ডু, আশীষ পাল, আশীষ রায়, জয়দেব গাইন, শক্তি গুপ্ত, ইন্দ্রজিৎ সরকার, রণেশ চক্রবর্তী, অনুপ কুমার ও ডা. চন্দন সরকারসহ অনেকে।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শীতাংশু গুহ। পরে নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। সূত্র: প্রেস-বিজ্ঞপ্তি (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)।