জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সামার ব্যাশে সিলেটবাসীর মহামিলন: সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে উৎসবমুখর প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলা
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক, হুমায়ূন কবীর ঢালী :
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বৃহত্তর সিলেটবাসীর অন্যতম শীর্ষ সামাজিক সংগঠন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক্-এর উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত ‘সামার ব্যাশ’। প্রবাসে সিলেটের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান পরিণত হয় প্রবাসী সিলেটবাসীর এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মইনুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আতাউল গণি আসাদের সার্বিক পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে উদযাপন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কমিটিতে ছিলেন আহ্বায়ক শেখ জামাল হোসেন, মুখ্য আহ্বায়ক লায়েছ আহমেদ (মিনু), প্রধান সমন্বয়কারী মঈন উজ জামান চৌধুরী, সদস্য সচিব হেলিম উদ্দিন, যুগ্ম সদস্য সচিব কামরুল হোসেন ও শাহীনুল ইসলাম।
উদযাপন কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আ. রহিম (কাদির), জয়নাল উদ্দিন লায়েক, মাসুক মিয়া, সৈয়দ লোকমান, বদরুল উদ্দিন ও দেওয়ান মো. তাজ্জির।
প্রবাসের ব্যস্ততম জীবনে কিছুটা অবসর ও আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করে দিতে আয়োজিত এ সামার ব্যাশে পরিবার-পরিজনসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল পারস্পরিক কুশল বিনিময়, আনন্দ-আড্ডা, বিভিন্ন ধরনের স্টল এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেন সেলিম চৌধুরী, রিজিয়া পারভীন, কামরুজ্জামান বকুল, লন্ডন থেকে আগত ওয়াহিদ, শাহ মাহবুব, বাউল কালা মিয়া, নাসির উদ্দিন, রোকসানা মির্জা, নাজু আকন্দ, আফতাব জনি, সিলমা এবং অপু রহমানের দল। শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের সঞ্চার করে।
অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ‘সাউন্ডগিয়ার’-এর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং উন্নত সাউন্ড সিস্টেম বিশেষ ভূমিকা রাখে। মেলা প্রাঙ্গণে প্রবাসীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে প্রায় ২০টি বর্ণিল স্টল, যেখানে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার আয়োজন ছিল।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বৃহত্তর সিলেটের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সামাজিক সম্প্রীতি ও শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক তুলে ধরাই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে প্রবাসী সিলেটবাসীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও জোরদার করাও ছিল সামার ব্যাশের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
উদযাপন কমিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টা, অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বের সার্বিক সহযোগিতা এবং প্রবাসীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক্-এর ‘সামার ব্যাশ’ একটি সফল, আনন্দঘন ও স্মরণীয় আয়োজনে পরিণত হয়।



















