Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   নিউইয়র্কে বিএমএমসিসি ইসলামিক স্কুলের গ্র্যাজুয়েশন ও পুরস্কার বিতরণ: নতুন প্রজন্মকে কুরআন-সুন্নাহর মৌলিক শিক্ষায় আরও মনোনিবেশের আহ্বান

নিউইয়র্কে বিএমএমসিসি ইসলামিক স্কুলের গ্র্যাজুয়েশন ও পুরস্কার বিতরণ: নতুন প্রজন্মকে কুরআন-সুন্নাহর মৌলিক শিক্ষায় আরও মনোনিবেশের আহ্বান

নিউইয়র্কে বিএমএমসিসি ইসলামিক স্কুলের গ্র্যাজুয়েশন ও পুরস্কার বিতরণ: নতুন প্রজন্মকে কুরআন-সুন্নাহর মৌলিক শিক্ষায় আরও মনোনিবেশের আহ্বান

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক:
প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার আহ্বানের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বায়তুল মা’মুর মসজিদ অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারের (বিএমএমসিসি) আওতাধীন বিএমএমসিসি ইসলামিক স্কুলের সামার প্রোগ্রামের সমাপনী, গ্র্যাজুয়েশন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ সোমবার বিকেল ৪টায় বিএমএমসিসি’র হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সামার প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া ১৯৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি ও বিভাগে কৃতিত্ব অর্জনকারীদের সনদ ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। এবারের সামার প্রোগ্রামে অভিজ্ঞ ১৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা পাঠদান করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রবাসে বসবাসরত মুসলিম পরিবারের নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এক্ষেত্রে পরিবার ও ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। শুধু সামার প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ নয়, শিক্ষার্থীদের ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও কুরআন-সুন্নাহর চর্চা নিয়মিত অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমএমসিসি ইসলামিক স্কুলের প্রিন্সিপাল মাওলানা রশীদ আহমদ। স্কুলের উস্তায হাফেজ তাওহিদুর তালহা চৌধুরীর কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্কুলের উস্তায হাফেজ ফজলে রাব্বী।

প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বায়তুল মা’মুর মসজিদ অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারের (বিএমএমসিসি) সেক্রেটারি জেনারেল হাফেজ আবদুল্লাহ আল আরিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুনা ব্রুকলিন ইস্ট চ্যাপ্টারের সভাপতি মু’তাসিম বিল্লাহ সিরাজী।

একই সময়ে পৃথকভাবে গার্লস বিভাগের গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। গার্লস সেকশনের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিস্টার কাওসার হিরা ও মাসুমা ইয়াসমীন।

সামার প্রোগ্রামে ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণির পাশাপাশি হিফজ বিভাগের দুটি গ্রুপ এবং উইকেন্ড শাখার পাঁচটি ক্লাসে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী মোট ৩০ জন শিক্ষার্থীকে সনদ ও পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীকে রিপোর্ট কার্ড প্রদান করা হয়। আলোচনা পর্ব শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন।

প্রধান অতিথি হাফেজ আবদুল্লাহ আল আরিফ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, কুরআনকে যদি তারা ভালোভাবে ধারণ ও লালন করতে পারে এবং কুরআনের শিক্ষাকে জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় ক্ষেত্রেই সফলতা অর্জন সম্ভব।

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রবাসে সন্তানদের কুরআন বোঝানো ও শেখানোর ক্ষেত্রে ইসলামিক স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবারেও কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা চর্চা করতে হবে। সামার স্কুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরও ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর অনুশীলন অব্যাহত রাখতে হবে।

শিক্ষার্থীদের হালাল-হারাম সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শিশুদের শুধু হালাল-হারামের ধারণা দিলেই হবে না, বাস্তব জীবনেও তা প্রয়োগ করতে হবে। সন্তানদের কী খাবার দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়েও অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে কুরআন-সুন্নাহর মৌলিক জ্ঞান অর্জনে আরও বেশি মনোনিবেশ করতে হবে। কুরআনের শিক্ষা মানুষকে সত্য ও সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে বিএমএমসিসি ইসলামিক স্কুলের প্রিন্সিপাল মাওলানা রশীদ আহমদ বলেন, অভিভাবকদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে বিএমএমসিসি একদিন নিউইয়র্কের একটি পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক বিদ্যাপীঠে পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, সামার প্রোগ্রামের স্বল্প সময়ে শিক্ষার্থীদের ইসলামের সব বিষয় পূর্ণাঙ্গভাবে শিক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিকভাবে ইসলামিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত রাখার প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।

মাওলানা রশীদ আহমদ আরও বলেন, প্রতি বছর ভর্তুকি দিয়ে ইসলামিক স্কুল পরিচালনা করতে হয়। এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো—আমেরিকায় বসবাস করেও যেন আগামী প্রজন্ম ইসলামের আলোকে নিজেদের জীবন গঠন করতে পারে।

শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে আনা-নেওয়া, সময়মতো ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বাসায় হোমওয়ার্ক ও পড়াশোনার বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অভিভাবকদের সক্রিয় সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার থেকে বিএমএমসিসি ইসলামিক স্কুলের উইকেন্ড প্রোগ্রাম শুরু হবে। পাবলিক স্কুলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ইসলামের মৌলিক শিক্ষা গ্রহণের জন্য উইকেন্ড ক্লাসে ভর্তি করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ রাহাত ইকবাল, মাওলানা আমিনুর রহমান, হাফেজ হুযায়ফা জারীর, আবদুল্লাহ মারযুক, সিস্টার ইসরা আহমদ মুরসী ও হাবীবা আহমদ। এছাড়া কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী শেষে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্য, কল্যাণ এবং ইসলামিক শিক্ষায় আরও অগ্রগতির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।