নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে ‘জুলাইয়ের ইতিহাস বিকৃতি’র অভিযোগ, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ঘিরে উত্তেজনা ও হট্টগোল
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
বাংলাদেশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। প্রামাণ্যচিত্রে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তোলার পর জনৈক নূর হোসেনকে কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী ধাক্কা দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দিয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
গত ৭ আগস্ট সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের নিজস্ব কার্যালয়ে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের সময় নূর হোসেন এর বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি তুলে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে।
তার এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একপর্যায়ে নূর হোসেনের সঙ্গে কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকজন বিএনপি কর্মী তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
ঘটনার সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট-লার্জ ও অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে উত্তেজিত নেতাকর্মীদের শান্ত হওয়ার জন্য বারবার আহ্বান জানান। এ সময় বিএনপির সিনিয়র নেতা গিয়াস আহমেদকেও মাইক্রোফোনে বক্তব্য দিতে শোনা যায়।
ঘটনাটি নিয়ে অনুষ্ঠানে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রের বিষয়বস্তু নিয়ে প্রকাশ্য বিরোধের ঘটনায় উপস্থিতদের মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তবে প্রামাণ্যচিত্রের ঠিক কোন অংশকে ইতিহাস বিকৃত বলা হয়েছে এবং এ বিষয়ে কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ বা অনুষ্ঠানের আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউইয়র্কের একজন জুলাই যোদ্ধা অভিযোগ করেন, কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ জেনে-শুনে ইতিহাস বিকৃত করে এমন একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করেছে। তাঁর দাবি, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
অন্যদিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত আরেকজন ব্যক্তি দাবি করেন, বিএনপি ও তারেক রহমানকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিউইয়র্কের জুলাইযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত রওশন হক এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, নূর হোসেনও একজন জুলাই যোদ্ধা। তিনি প্রামাণ্যচিত্রটির সমালোচনা করে লেখেন, ওয়াহিদুজ্জামান এপোলোর তত্ত্বাবধানে ভুলে ভরা ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়েছে বলে তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে নূর হোসেনকে কেন ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আবু নাসের চৌধুরীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নূর হোসেনকে জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে তার সঙ্গে এমন আচরণের প্রতিবাদ জানান।
অন্যদিকে গিয়াস আহমেদ তাঁর ফেসবুক মন্তব্যে নূর হোসেনের জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকলেও তিনি নূর হোসেনকে এসব কর্মসূচিতে দেখেননি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের প্রবেশ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ারও মত দেন তিনি।
ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে। এক পক্ষ নূর হোসেনকে জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধা দাবি করে তার সঙ্গে আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছে, অন্য পক্ষ তাঁর আন্দোলনে সম্পৃক্ততা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।
ফলে নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে অনুষ্ঠিত জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর অনুষ্ঠানটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ঘিরে সৃষ্ট বিরোধের কারণে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রের তথ্য, ইতিহাসের উপস্থাপন এবং অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি উঠেছে।
ছবি ও সূত্র: সন্ধান ।



















