Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   দায়িত্ব পালনকালে নিহত এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ব্রঙ্কসে আবেগঘন স্মরণসভা

দায়িত্ব পালনকালে নিহত এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ব্রঙ্কসে আবেগঘন স্মরণসভা

দায়িত্ব পালনকালে নিহত এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ব্রঙ্কসে আবেগঘন স্মরণসভা

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :

দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসী বন্দুক হামলায় নিহত নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (NYPD) ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ব্রঙ্কসে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক আবেগঘন স্মরণসভা। সহকর্মী, পরিবার, পুলিশ কর্মকর্তা ও বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ স্মরণসভায় গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হয় কর্তব্যপরায়ণ এই পুলিশ কর্মকর্তাকে।

২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ম্যানহাটনের ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউতে একটি বন্দুক হামলার সময় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ৩৬ বছর বয়সী দিদারুল ইসলাম। দায়িত্ব পালনের সময় নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা উপস্থিত বক্তারা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। ওই বন্দুক হামলায় দিদারুল ইসলামসহ আরও তিনজন নিহত হন।

মৃত্যুর এক বছর পরও দিদারুল ইসলামের স্মৃতি তার পরিবার, সহকর্মী এবং নিউইয়র্কের বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটির মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে অম্লান। তার আত্মত্যাগ ও বীরত্বকে সম্মান জানিয়ে নিউইয়র্ক সিটি ও এনওয়াইপিডি বিভিন্নভাবে তাকে স্মরণ করেছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে NYPD-এর পুলিশ মেমোরিয়াল ডে অনুষ্ঠানে দিদারুল ইসলামকে মরণোত্তর Detective First Grade পদে সম্মানিত করা হয়। তার দীর্ঘ কর্মজীবনের নিষ্ঠা, পেশাগত দায়িত্ববোধ এবং আত্মত্যাগের প্রতি এটি ছিল কর্তৃপক্ষের বিশেষ স্বীকৃতি।

দিদারুল ইসলামের স্মৃতি চিরস্থায়ী করে রাখতে চলতি জুলাই মাসে ব্রঙ্কসে তার পরিবারের বসবাসের এলাকার একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে “Detective Didarul Islam Way”। সড়কের নামকরণকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার স্ত্রী, তিন সন্তান, পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, পুলিশ কর্মকর্তা এবং কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আবেগঘন পরিবেশে সবাই প্রিয় দিদারুলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, দিদারুল ইসলাম শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন না, তিনি ছিলেন দায়িত্বনিষ্ঠ, সাহসী ও মানবিক একজন মানুষ। কর্মক্ষেত্রে তার নিষ্ঠা ও সাহসিকতা যেমন সহকর্মীদের অনুপ্রাণিত করেছে, তেমনি পরিবার ও স্বজনদের প্রতি তার ভালোবাসা তাকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে স্মরণীয় করে রেখেছে।

বক্তারা আরও বলেন, দিদারুল ইসলামের আত্মত্যাগ নিউইয়র্ক সিটির নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তাদের ত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার জীবন ও কর্মের স্মৃতি এনওয়াইপিডির ইতিহাসে যেমন সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষিত থাকবে, তেমনি নিউইয়র্কের বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটির কাছেও তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

স্মরণসভায় দিদারুল ইসলামের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। একই সঙ্গে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। উপস্থিত সবাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সাহসী এই পুলিশ কর্মকর্তার কর্ম, আত্মত্যাগ ও মানবিকতার স্মৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকবে।

সূত্র: হাকিকুল ইসলাম খোকন, মোঃ নাসির, বাপসনিউজ