গ্রিন কার্ড পেতে ১ লাখ ডলারের বন্ড বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন
গ্রিন কার্ড পেতে ১ লাখ ডলারের বন্ড বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দার (গ্রিন কার্ড) মর্যাদা পেতে ইচ্ছুক কিছু আবেদনকারীর জন্য ১ লাখ ডলারের বন্ড (জামানত) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অভিবাসীরা যাতে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর থাকেন এবং সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হন, সেই লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন একটি নীতি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, যা অভিবাসন আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ, অভিবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বিদেশিদের চিকিৎসা বা অন্যান্য সরকারি সুবিধাজনিত আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে।
তিনি জানান, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট (INA)-এর বিদ্যমান আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে, সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে—এমন কিছু ভিসা আবেদনকারীর কাছ থেকে বন্ড নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বন্ডের মাধ্যমে আবেদনকারীরা নিজেদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে পারবেন।
অবৈধ অভিবাসন দমনে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গণহারে বহিষ্কারসহ একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। পাশাপাশি ‘বার্থ ট্যুরিজম’ সীমিত করতেও নতুন আইন প্রস্তাব করা হয়েছে। অভিবাসীদের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ছয় অঙ্কের (১ লাখ ডলার) বন্ড আরোপের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
এর আগে এইচ-১বি (H-1B) ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের ফি চালুর চেষ্টা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে ফেডারেল আদালত সেই উদ্যোগ বাতিল করে জানায়, প্রশাসন আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং অভিবাসন নীতি ও কর নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের।
বর্তমানে গ্রিন কার্ডের আবেদন ফি আবেদনকারীর ক্যাটাগরি এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে নাকি বাইরে থেকে আবেদন করছেন—তার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে আবেদনকারীদের ফর্ম I-485-এর জন্য সাধারণত ১ হাজার ৪৪০ ডলার ফি দিতে হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আবেদনকারীদের DS-260 ভিসা আবেদন ফি ৩২৫ ডলার এবং ভিসা অনুমোদনের পর USCIS-কে ২৩৫ ডলার পরিশোধ করতে হয়।
প্রস্তাবিত নীতি কার্যকর হলে আবেদনকারী বা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তার পরিবারের সদস্যদের ১ লাখ ডলারের বন্ড জমা দিতে হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে পরবর্তীতে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
গত আগস্ট থেকে মালাউই ও জাম্বিয়ার কিছু ভিসাধারীর ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ডলারের বন্ড চালু করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করা বা পরে আশ্রয়সহ অন্য অভিবাসন সুবিধার জন্য আবেদন করলে ওই অর্থ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, আফ্রিকার আরও প্রায় ৫০টি দেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নীতি প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এ ব্যবস্থার ফলে ৯৭ শতাংশ ভিসাধারী নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেননি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এ নীতির কারণে ভিসা ইস্যুর সংখ্যাও কমে গেছে। সূত্র: দ্য হিল, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, জাগোনিউজ।



















