বিশ্বকাপের আগে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সিতে এসকর্ট সেবায় বাড়তি তৎপরতা
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি অঞ্চলে বিভিন্ন খাতের পাশাপাশি এসকর্ট সেবার চাহিদাও বাড়তে শুরু করেছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে লাখো দর্শকের আগমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে, আর সেই সম্ভাব্য ভিড়কে ঘিরে কিছু এসকর্ট কর্মী ইতোমধ্যে বাড়তি বুকিং ও আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। একই সময়ে মানবপাচার ও যৌন শোষণের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিশ্বকাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১৩ জুন থেকে একাধিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালসহ মোট আটটি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে সেখানে। আয়োজকদের ধারণা, নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি অঞ্চলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১২ লাখ ফুটবলপ্রেমীর সমাগম ঘটতে পারে।
বিশ্বকাপ ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ
ব্রুকলিনের এক এসকর্ট কর্মী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিশ্বকাপের সময়কে কেন্দ্র করে নতুন ক্লায়েন্টদের যোগাযোগ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পরিচয় গোপন রাখা ওই ৩১ বছর বয়সী নারী দাবি করেন, মে মাসে তার অনলাইন প্রোফাইলে যোগাযোগ ও অনুসন্ধানের সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে দম্পতিদের কাছ থেকে আগ্রহের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। যেখানে সাধারণত মাসে একজন নতুন দম্পতির কাছ থেকে অনুরোধ আসে, সেখানে গত এক মাসেই তিনি প্রায় ২৫টি অনুরোধ পেয়েছেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত গ্রাহকদের পাশাপাশি বিশ্বকাপ উপলক্ষে আসা পর্যটকদের কাছ থেকেও স্বল্পমেয়াদি বুকিং গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখছেন।
অন্যদিকে, নিউ জার্সিভিত্তিক ‘স্পাইস ভি’ নামে পরিচিত আরেক এসকর্ট কর্মী জানান, বিশ্বকাপকে ঘিরে তিনি ইতোমধ্যে কয়েকটি বুকিংয়ের জন্য ৩ হাজার ডলারেরও বেশি অগ্রিম অর্থ পেয়েছেন। তার দাবি, জুন মাসের সময়সূচি দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আগ্রহী গ্রাহকেরা যোগাযোগ করছেন।
অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে প্রভাব
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসর সাধারণত পর্যটন, হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও বিনোদন খাতে ব্যাপক অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি করে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিপুলসংখ্যক বিদেশি দর্শকের আগমনে বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক সেবাখাতেও চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কিছু এসকর্ট কর্মীর মতে, এবারের বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম নয় এবং তারা ইতোমধ্যে বাড়তি আগ্রহের ইঙ্গিত পাচ্ছেন।
মানবপাচার নিয়ে সতর্ক কর্তৃপক্ষ
তবে এই বাড়তি তৎপরতার মধ্যেই মানবপাচারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিউ জার্সি স্টেট অ্যাসোসিয়েশন অব চিফস অব পুলিশের সভাপতি ও মন্টভিল পুলিশ প্রধান অ্যান্ড্রু ক্যাজিয়ানো বলেন, বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনগুলোতে সাধারণত সন্ত্রাসবাদ, প্রতারণা বা জননিরাপত্তার বিষয়গুলো বেশি আলোচিত হয়। কিন্তু একই সময়ে মানবপাচারের মতো অপরাধও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
এই ঝুঁকি মোকাবিলায় নিউ জার্সি স্টেট পুলিশ বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমে ১ হাজার ২০০-এর বেশি সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
ফেডারেল পর্যায়েও সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অপরাধ দমন সংস্থা ফিনসেন গত ১১ মে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় জানায়, বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক দর্শকের সমাগমকে কাজে লাগিয়ে অপরাধচক্র যৌন ও শ্রমভিত্তিক মানবপাচারের চেষ্টা করতে পারে। এজন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ড্যাভেনপোর্ট বলেন, বিশ্বকাপ চলাকালে দর্শক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মানবপাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখে পড়বে।
দ্বিমুখী বাস্তবতা
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে একদিকে যেমন ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবাখাতে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে মানবপাচার ও শোষণ ঠেকাতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ওপরও বাড়ছে দায়িত্ব।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরগুলোর একটিকে ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, এবারের বিশ্বকাপের আগে এসকর্ট সেবার বাড়তি চাহিদা এবং মানবপাচারবিরোধী কঠোর সতর্কতা—দুটি বিষয়ই নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে সমানভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। সূত্র: জাগোনিউজ



















