Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা নিউইয়র্কে: বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক নৈশভোজ ও পুনর্মিলনী, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও প্রবাসে ঐক্যের বন্ধনে মুখরিত গুলশান ট্যারেস

প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা নিউইয়র্কে: বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক নৈশভোজ ও পুনর্মিলনী, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও প্রবাসে ঐক্যের বন্ধনে মুখরিত গুলশান ট্যারেস

প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা নিউইয়র্কে: বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক নৈশভোজ ও পুনর্মিলনী, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও প্রবাসে ঐক্যের বন্ধনে মুখরিত গুলশান ট্যারেস

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক নৈশভোজ ও পুনর্মিলনী ২০২৬। গত ৩১ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডের গুলশান ট্যারেসে অনুষ্ঠিত এ মিলনমেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক প্রাক্তন শিক্ষার্থী, কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং এলামনাইদের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

দীর্ঘদিন পর প্রিয় সহপাঠী, বন্ধু ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পরিচিত মুখগুলোর সঙ্গে মিলিত হওয়ার আনন্দে পুরো অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় এক টুকরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। কুশল বিনিময়, প্রাণবন্ত আড্ডা, আলোচনা, স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সন্ধ্যাটি হয়ে ওঠে আবেগ, আনন্দ ও নস্টালজিয়ায় পরিপূর্ণ। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অমলিন স্মৃতিকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার এক অনন্য উপলক্ষ হয়ে ওঠে এই পুনর্মিলনী।

উল্লেখ্য, নিউইয়র্কে বসবাসরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের বাইরে বসবাসরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ, ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ধারণ করাই সংগঠনটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম নির্বাচিত সভাপতি ডা. চৌধুরী সারোয়ারুল হাসান। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি এম এস আলম। বার্ষিক নৈশভোজ ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক বেলাল মাহমুদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও আবেগঘন মুহূর্ত তুলে ধরেন। আলোচনায় অংশ নেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন খান ও সাঈদা আক্তার লিলি, মোর্শেদ আলম, সাঈদ-উর রব, রীনা সাহা, আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ইকবাল মোর্শেদ, প্রধান সমন্বয়কারী আজহার আলী খানসহ বিশিষ্ট এলামনাইরা।

বক্তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের গর্ব, অহংকার ও আত্মপরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, আদর্শ ও মূল্যবোধ তাঁদের জীবনকে আলোকিত করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে নিজ নিজ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়ে কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁদের আত্মিক সম্পর্ক আজও অটুট রয়েছে।

বক্তারা প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের শেকড়, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের পুনর্মিলনী প্রজন্মের মধ্যে সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী পরিষদের কর্মকর্তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

পুনর্মিলনীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগঠনের সদস্যরা গান, কবিতা আবৃত্তি, রম্য পরিবেশনা ও নৃত্যে অংশগ্রহণ করে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। কবিতা আবৃত্তি করেন আজিজুল হক মুন্না, মোস্তফা, প্রীতি ও ফারুক।

প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী ও ক্লোজআপ ওয়ান তারকা নীলিমা শশী এবং রাজীব হাসান অতিথি শিল্পী হিসেবে সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁদের পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন। এছাড়াও ফাহমিন, ফাতেমা, চিত্রা, সানজিদা, সানু, সুশীল, কাজীসহ অন্যান্য শিল্পী সংগীত পরিবেশন করেন। নতুন প্রজন্মের পরিবেশনা পর্বে লিয়ানা ও ইরিন গান ও নৃত্য পরিবেশন করে উপস্থিত অতিথিদের প্রশংসা অর্জন করে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নূপুর চৌধুরী, গোলাম মোস্তফা, ফাতেমা খান ও রুহুল আমিন সরকার।

অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কের বাংলা সংবাদমাধ্যম ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি পুনর্মিলনীকে আরও তাৎপর্যমণ্ডিত করে তোলে। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, টাইম টিভির সিইও ও বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ খান, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, সাপ্তাহিক প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, সাপ্তাহিক প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুর হক, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু, প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট জামাল আহমেদ জনি, নির্বাচন কমিশনের বর্তমান সদস্য মিয়া মোহাম্মদ দুলাল, সাবেক কোষাধ্যক্ষ নিশান রহিম, সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক বাবুল চৌধুরী, ভাসানী ফাউন্ডেশনের সভাপতি আলী ইমাম শিকদার, নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ লায়ন্স ক্লাবের সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব, রিয়েলটর রীনা সাহা ও মোর্শেদা জামান, অসীম সাহা, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট শিতাংশু গুহ, ড. ইমরান আনসারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি স্বপন বড়ুয়া ও মোল্লা মনিরুজ্জামান, সহসভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, আব্দুল মতিন, হানিফ মজুমদার, গাজী শামসউদ্দীন, লিয়াকত আলী, ইশতিয়াক ফিরোজ, সুশীল সিনহা, ইউসুফ আলীসহ অনেকে।

অনুষ্ঠান সফল করতে আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও এ কে আজাদ তালুকদার। সমন্বয়কারী ছিলেন ইউসুফ আলী ও সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া।

স্মৃতিচারণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ, সাংস্কৃতিক আনন্দ ও পারস্পরিক সম্প্রীতির আবহে অনুষ্ঠিত এই বার্ষিক পুনর্মিলনী প্রবাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য ও বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। আনন্দঘন নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

ছবি ও তথ্য: পরিচয়