নিউইয়র্কে এসএসসি ’৮৮ ব্যাচের বন্ধুত্বের সাত বছর পূর্তি, স্মৃতির টানে জমজমাট ‘আড্ডাবাজি’
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
প্রবাসের কর্মব্যস্ত জীবন, সময়ের ব্যবধান আর ভৌগোলিক দূরত্বকে উপেক্ষা করে স্কুলজীবনের সোনালি স্মৃতির টানে আবারও একত্রিত হলেন এসএসসি ১৯৮৮ ব্যাচের বন্ধুরা। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এসএসসি ’৮৮ ব্যাচের বন্ধুদের সংগঠন ইউএসএ ৮৮-এর বন্ধুত্বের সাত বছর পূর্তি উপলক্ষে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য মিলনমেলা ‘আড্ডাবাজি’। অর্ধশতাধিক বন্ধু ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি পরিণত হয় স্মৃতিচারণ, আবেগ, হাসি-আনন্দ, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির এক অনন্য উৎসবে।
গত ১ নভেম্বর, রবিবার, নিউইয়র্কের কুইন্সের উডসাইডে ৫৯-১৫, ৪৭ অ্যাভিনিউতে দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টাব্যাপী এ মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সাত বছরের বন্ধুত্বপূর্ণ পথচলাকে উদযাপন, পুরনো সম্পর্ককে নতুন করে জাগিয়ে তোলা এবং প্রবাসে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বিগ সিক্স টাওয়ারে বসবাসরত এসএসসি ’৮৮ ব্যাচের ছয়জন বন্ধু। তাঁদের আন্তরিক উদ্যোগ, নিরলস পরিশ্রম এবং বন্ধুদের সহধর্মিণীদের বিশেষ অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় ‘আড্ডাবাজি’ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত, সুশৃঙ্খল ও স্মরণীয় একটি আয়োজন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত বন্ধু ও স্বজনদের স্মরণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অকালে মৃত্যুবরণকারী বন্ধু লাইজুর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। বন্ধু লিপু ও সাবিনের মায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং তাঁদের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়। পাশাপাশি যেসব বন্ধুর বাবা-মা ইতোমধ্যে পরলোকগমন করেছেন, তাঁদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপস্থিত বন্ধুরা।
অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারা বন্ধু আনোয়ার ওসমানী সুমনের দ্রুত সুস্থতা ও আরোগ্য কামনা করা হয়। শোক, স্মৃতি ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বন্ধুত্বের মানবিক বন্ধন আরও গভীর হয়ে ওঠে। এই আবেগঘন পর্বে উপস্থিত বন্ধুদের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার এক অনন্য প্রকাশ ঘটে।
শোক ও স্মৃতিচারণের আবেগঘন পর্ব শেষে অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় হাসি, আনন্দ ও প্রাণবন্ত আড্ডার মিলনকেন্দ্রে। ‘একই মুখ, নতুন গল্প’ এবং ‘ভালো বন্ধুত্ব কখনো ম্লান হয় না’—এমন অনুভূতিকে ধারণ করে বন্ধুরা ফিরে যান তাঁদের শৈশব ও কৈশোরের সোনালি দিনগুলোতে। স্কুলজীবনের নানা ঘটনা, পুরনো দিনের স্মৃতি, মজার অভিজ্ঞতা, হাসি-ঠাট্টা এবং প্রাণবন্ত আলাপচারিতায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। দীর্ঘদিন পর একে অপরকে কাছে পেয়ে বন্ধুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সময়ের সঙ্গে জীবনের নানা পরিবর্তন এলেও বন্ধুত্বের আন্তরিকতা যে অটুট রয়েছে, তা প্রতিটি মুহূর্তে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দীপক, বিশ্বজিৎ, নুপেশ, সালমা, মোনা, মনিজা, নেহাল, জুয়েল, জাকির, যুবায়ের, সাদেক, সোহেল, রেজা, এজাজ, আলিম, দীপাল, আলম, বাপ্পী, সালাম, ফাইয়াজ, তুষার, কাজী সোহেল, তরি, শুভসহ এসএসসি ’৮৮ ব্যাচের অর্ধশতাধিক বন্ধু এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
ইউএসএ ৮৮-এর এই মিলনমেলা কেবল বন্ধুদের পুনর্মিলনেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি হয়ে ওঠে পারিবারিক সম্প্রীতি ও আন্তরিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বন্ধুদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত ও হৃদ্যতাপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রবাসজীবনের নানা অভিজ্ঞতা, পারিবারিক আনন্দ-বেদনা, কর্মজীবনের স্মৃতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে চলে আন্তরিক আলোচনা। বন্ধুত্বের এই সাত বছরের পথচলায় পারস্পরিক সহযোগিতা, যোগাযোগ ও ভালোবাসার গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করেন উপস্থিত বন্ধুরা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আসন্ন ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপনের পরবর্তী আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে বন্ধু ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের আগাম নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানো হয়। রাতের খাবার, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে একত্রিত হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয় ইউএসএ ৮৮-এর ছয় ঘণ্টাব্যাপী ‘আড্ডাবাজি’ মিলনমেলা।
প্রবাসে থেকেও স্কুলজীবনের বন্ধুত্ব, স্মৃতি ও আবেগকে ধরে রাখার এই উদ্যোগ এসএসসি ’৮৮ ব্যাচের বন্ধুদের মধ্যে ঐক্য, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জীবনের দীর্ঘ পথচলায় কেউ কর্মজীবনে, কেউ পরিবার নিয়ে ব্যস্ত, কেউবা নানা বাস্তবতায় দূরে—তবুও বন্ধুত্বের অমলিন টান তাঁদের আবারও এক সুতোয় গেঁথেছে।
নিউইয়র্কের ‘আড্ডাবাজি’ যেন সেই চিরন্তন সত্যেরই প্রতিচ্ছবি—সময় বদলায়, জীবন বদলায়, মানুষ দূরে সরে যায়, কিন্তু প্রকৃত বন্ধুত্ব কখনো হারিয়ে যায় না।



















