Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   নিউইয়র্কে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানে বিএনপি নেতা আজহারুল মাকসুদ গ্রেপ্তার: বাফেলোর কর্মস্থল থেকে আইসের হেফাজতে, মুক্তির জন্য আইনি তৎপরতা; প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ

নিউইয়র্কে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানে বিএনপি নেতা আজহারুল মাকসুদ গ্রেপ্তার: বাফেলোর কর্মস্থল থেকে আইসের হেফাজতে, মুক্তির জন্য আইনি তৎপরতা; প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ

নিউইয়র্কে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানে বিএনপি নেতা আজহারুল মাকসুদ গ্রেপ্তার: বাফেলোর কর্মস্থল থেকে আইসের হেফাজতে, মুক্তির জন্য আইনি তৎপরতা; প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসননীতিতে কিছুটা নমনীয়তা আসতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন অনেকেই। তবে নির্বাচনের পরও অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) বা ICE-এর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বরং নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের তীব্রতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে নিউইয়র্ক স্টেটের বাফেলো বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল মাকসুদকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন পুলিশ।

গত ৬ নভেম্বর বাফেলোতে নিজের কর্মস্থল থেকে আজহারুল মাকসুদকে গ্রেপ্তার করে আইসের কর্মকর্তারা। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে অন্তত ২৩০ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য ইমিগ্রেশন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বিএনপির এই নেতার নাম উঠে আসায় নিউইয়র্কের বাংলাদেশি রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ঢাকার সন্তান আজহারুল মাকসুদ স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। তার মুক্তির জন্য ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। তার স্ত্রী মার্কিন অ্যাটর্নির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আগামী সোমবার আদালতে মুক্তির আবেদন জানানোর কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর মাধ্যমে প্যারোলে মুক্তির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তার বর্তমান অভিবাসন পরিস্থিতি, আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং মুক্তির আবেদন সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জসীমউদ্দিন বলেন, আজহারুল মাকসুদের গ্রেপ্তারের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। অভিবাসন আইনসংক্রান্ত বিষয় ছাড়া অন্য কোনো অপরাধে তিনি জড়িত ছিলেন বলে আমাদের জানা নেই। তাকে প্যারোলে মুক্ত করার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

জসীমউদ্দিন আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করা উচিত। প্রত্যেকের নিজ নিজ অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। বৈধ ও প্রযোজ্য পরিচয়পত্র, ওয়ার্ক পারমিট, গ্রিনকার্ড কিংবা পাসপোর্টের মতো নথিপত্র সঙ্গে রাখা এবং অভিবাসনসংক্রান্ত সব শর্ত মেনে চলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বাফেলোতে অভিবাসন অভিযান ও গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান

নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রায় ৩৯০ মাইল দূরে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের নিকটবর্তী বাফেলো শহরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্ধলক্ষাধিক বাংলাদেশির বসতি গড়ে উঠেছে। কর্মসংস্থান, পরিবার ও কমিউনিটি জীবনের কারণে বাফেলো এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে আইসের অভিযান বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বাফেলোতে ৫১৫ জন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে নিউইয়র্ক স্টেটের আপস্টেট অঞ্চলের ৪৮টি কাউন্টিতে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ২ হাজার ৯০০ ছাড়িয়েছে। এসব গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির প্রায় ৭৫ শতাংশের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট তথ্যের বরাতে জানা গেছে। বাফেলোতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ডজনখানেক বাংলাদেশি রয়েছেন বলে কমিউনিটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। 

এদিকে, নিউইয়র্কে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আইনি সচেতনতা ও সতর্কতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রত্যেক অভিবাসীর নিজস্ব অভিবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং যেকোনো আইনি জটিলতায় অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া জরুরি।

আজহারুল মাকসুদের গ্রেপ্তার শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত সংকট নয়, বরং নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। তার মুক্তির জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এখন সবার দৃষ্টি আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তার প্যারোলে মুক্তির আবেদনের দিকে।

তবে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মানেই কোনো ব্যক্তি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমন নয়। আজহারুল মাকসুদের ক্ষেত্রেও তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, আইনি অবস্থান ও আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারিত হবে।
সূত্র: nyvoice24.