নিউইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচনে পরাজয়ের পরও জনসেবার অঙ্গীকার সারিথা কোমাতিরেড্ডির: বিভেদ নয়, ঐক্য ও নিরাপদ নিউইয়র্ক গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিপাবলিকান প্রার্থী
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের কাছে পরাজিত হওয়ার পরও জনসেবার অঙ্গীকার থেকে সরে আসেননি ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিপাবলিকান প্রার্থী সারিথা কোমাতিরেড্ডি। নির্বাচনে পরাজয়ের পর গত ৪ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় পাশে থাকা হাজারো স্বেচ্ছাসেবক, সমর্থক এবং নিউইয়র্কের সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর সারিথা কোমাতিরেড্ডি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণাকে নিরাপদ ও শক্তিশালী নিউইয়র্ক গড়ার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাঁর প্রচারণার মূল ভিত্তি ছিল বিভেদ ও বিদ্বেষের রাজনীতির পরিবর্তে ঐক্য, বাস্তবসম্মত চিন্তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।
ফেসবুকে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে কোমাতিরেড্ডি বলেন, আমাদের প্রচারণায় বিশ্বাস রাখা হাজারো স্বেচ্ছাসেবক, সমর্থক এবং নিউইয়র্কের সাধারণ মানুষের প্রতি আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। একটি নিরাপদ ও শক্তিশালী নিউইয়র্ক গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। আমরা যে প্রচারণা পরিচালনা করেছি, তা নিয়ে আমি গর্বিত। আমরা প্রমাণ করেছি, রাজনীতি মানেই বিভেদ নয়, রাজনীতি মানেই ঘৃণা ছড়ানো নয়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রচারণা সাধারণ মানুষের মধ্যে বাস্তবসম্মত চিন্তা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ঐক্য গড়ে তুলেছিল। আমরা পারস্পরিক মতপার্থক্যের মধ্যেও ঐকমত্য খুঁজে পেয়েছি এবং মানুষের জীবনকে আরও উন্নত করার জন্য বাস্তব ও কার্যকর পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছি।
জনসেবার প্রকৃত অর্থ তুলে ধরে কোমাতিরেড্ডি বলেন, সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের সেবা করা, ব্যক্তিগত খ্যাতি অর্জন কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করা নয়। ভবিষ্যতে তিনি যে কাজই করবেন, তার মূল লক্ষ্য থাকবে মানুষের পাশে থাকা, জনকল্যাণে কাজ করা এবং নিউইয়র্ককে আরও নিরাপদ করে তোলা।
নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে জনসেবার প্রতি অঙ্গীকার ও ইতিবাচক রাজনীতির বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনও পেয়েছিলেন কোমাতিরেড্ডি। ট্রাম্প তাঁকে একজন আমেরিকা ফার্স্ট দেশপ্রেমিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী লেটিশিয়া জেমস নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনী ফলাফল যাই হোক না কেন, সারিথা কোমাতিরেড্ডির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, জনসেবা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় তাঁর কাছে নির্বাচনী বিজয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে। নিরাপদ, শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ নিউইয়র্ক গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।



















