Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   ট্রাম্পের রাজনৈতিক দুর্গে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক আঘাত, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাল রিপাবলিকানরা: সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, অর্থনীতি ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষে বদলে গেল যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সমীকরণ

ট্রাম্পের রাজনৈতিক দুর্গে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক আঘাত, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাল রিপাবলিকানরা: সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, অর্থনীতি ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষে বদলে গেল যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সমীকরণ

ট্রাম্পের রাজনৈতিক দুর্গে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক আঘাত, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাল রিপাবলিকানরা: সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, অর্থনীতি ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষে বদলে গেল যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সমীকরণ

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক: 

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের শেষ দুই বছরের জন্য ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন ঘটেছে।

রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) নির্বাচনী ফলাফলসংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একাধিক অঙ্গরাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অর্জন করেছেন। সিনেটে অন্তত সাতটি আসনে রিপাবলিকানদের পরাজিত করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে দলটি। প্রতিনিধি পরিষদেও দুই ডজনের বেশি আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এমনকি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে ব্যাপক ভোট পড়েছিল, এমন এলাকাতেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন।

কানসাসে প্রায় এক শতাব্দী পর ডেমোক্র্যাটদের সিনেট বিজয়, টেক্সাসে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের আধিপত্যে আঘাত এবং সাউথ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয় এবারের নির্বাচনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা। টেক্সাসে সিনেট আসন জয়ের পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকেও পরাজিত করেছেন। এসব ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন ক্ষমতার সমীকরণ তৈরি করেছে।

নির্বাচনী ফলাফলের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম, ইরান যুদ্ধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ ও প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা নির্বাচনী ফলাফলে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য শুধু সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের আসন পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনেও দলটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অর্জন করেছে। জর্জিয়ায় কেইশা ল্যান্স বটমস, ওহাইওতে অ্যামি অ্যাক্টন, আইওয়ায় রব স্যান্ড এবং টেক্সাসে জিনা হিনোজোসা রিপাবলিকানদের দখলে থাকা গভর্নর পদে জয় পেয়েছেন বলে এপি জানিয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের আগামী দুই বছরের রাজনৈতিক পথকে কঠিন করে তুলবে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ফলে ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন কংগ্রেশনাল কমিটির নেতৃত্ব, প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের তদন্ত, সরকারি ব্যয়ের ওপর নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ পাবেন। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ফেডারেল বিচারকদের মনোনয়ন অনুমোদন প্রক্রিয়াতেও ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়বে।

তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ডেমোক্র্যাটদের সামনে সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকবে। প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা এবং আইন প্রণয়নের জটিল প্রক্রিয়া তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। ফলে আগামী দুই বছর বাজেট, অভিবাসননীতি, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ক্যাথি হোকুল পুনর্নির্বাচিত হয়ে দ্বিতীয় পূর্ণ মেয়াদ নিশ্চিত করেছেন। রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রুস ব্লেকম্যানকে পরাজিত করে তাঁর এই বিজয় অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। নিউইয়র্কের নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন, কর, জননিরাপত্তা ও অভিবাসন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসে।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই দলের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডেমোক্র্যাটদের জন্য এটি নতুন আত্মবিশ্বাসের উৎস, অন্যদিকে রিপাবলিকানদের জন্য দলীয় নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক নীতির কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়নের বড় বার্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের এই রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের ফলে আগামী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক, তদন্ত, নীতিগত সংঘাত এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।