প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদার ও ঐক্যবদ্ধ উদীচী গড়ার আহ্বানে নিউইয়র্কে ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন: সাম্য, মানবিকতা, মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার দীপ্ত শপথে মুখর জ্যাকসন হাইটস, গান, কবিতা, নাটক, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন
উত্তম কুমার সাহা, প্রজ্ঞা নিউজ :
বিপর্যস্ত মানবতা, সংকটাপন্ন স্বাধীনতা—প্রতিবাদে কণ্ঠ মেলাই, প্রতিরোধে ঐক্য গড়ি। এই প্রতিবাদী স্লোগানকে ধারণ করে সাম্য, মানবিকতা, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও মেহনতি মানুষের মুক্তির প্রত্যয়ে নিউইয়র্কে উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও বেগবান, ঐক্যবদ্ধ ও গণমুখী করার দৃঢ় আহ্বানে মুখরিত হয়ে ওঠে এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান।
গান, কবিতা, আবৃত্তি, নাটক, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি, মুক্তবুদ্ধি ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করেন শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও অতিথিরা।
গত শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫টায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সভাপতি ক্ল্যারা রোজারিওর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ ও সহ-সাধারণ সম্পাদক লিলি মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজন প্রবাসী বাঙালিদের এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক ঠিকানার সাবেক প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, সাপ্তাহিক বাঙালীর সম্পাদক কৌশিক আহম্মদ, সাবেক ছাত্রনেতা জুলফিকার হোসেন বকুল এবং প্রগ্রেসিভ ফোরাম যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি হাফিজুল হক।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদীচী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বাবুল আচার্য, জ্যামাইকা উদীচী শাখার সভাপতি আশীষ রায়, ব্রঙ্কস শাখার সহ-সভাপতি শেলি শামস এবং প্রগ্রেসিভ ফোরাম যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সভাপতি খোরশেদুল ইসলাম। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য জাকির হোসেন বাচ্চু।
সভাপতির বক্তব্যে ক্ল্যারা রোজারিও উদীচীর ৫৮ বছরের সংগ্রামী সাংস্কৃতিক অভিযাত্রার তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, উদীচীর দীর্ঘ পথচলা কেবল একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের ইতিহাস নয়, বরং অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও অন্ধকারের বিরুদ্ধে সংস্কৃতির শক্তিতে দাঁড়িয়ে থাকার এক গৌরবময় ইতিহাস।
তিনি বলেন, ১৯৬৮ সালে যে স্বপ্ন ও প্রত্যয় নিয়ে উদীচীর যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই স্বপ্ন ছিল মানুষের মুক্তির স্বপ্ন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়। গান, নাটক, আবৃত্তি, নৃত্যসহ সংস্কৃতির নানা মাধ্যমকে হাতিয়ার করে উদীচী সব সময় সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী মানুষ, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্নকে ধারণ করেছে।
ক্ল্যারা রোজারিও বলেন, সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের বিষয় নয়; সংস্কৃতি প্রতিবাদের ভাষা, মানুষকে জাগিয়ে তোলার শক্তি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস। নানা প্রতিকূলতা, বাধা, ষড়যন্ত্র ও সহিংসতার মধ্য দিয়েও উদীচী তার আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে আসেনি। উদীচীর অনুষ্ঠানে বর্বর হামলায় প্রাণ হারানো সহযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কঠিন বাস্তবতা ও অপরিহার্যতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা, অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য ও মিথ্যাচারের প্রবণতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে উদীচীর দায়িত্ব আরও বেড়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের মর্যাদা রক্ষা এবং মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির বিকাশে উদীচীকে আরও সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে।
উদীচীর অভ্যন্তরীণ বিভক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজ আমাদের বিভক্তি আমাদের শক্তিকে ক্ষয় করছে। মতপার্থক্য ও অনৈক্যের কারণে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সাম্প্রদায়িকতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম দুর্বল হয়ে পড়ে। সব সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে উদীচীকে তার আদর্শিক শক্তিতে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, উদীচী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংগঠন নয়; উদীচী একটি আদর্শের নাম, একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নাম। সংগঠনের প্রকৃত শক্তি তার ঐক্য, তৃণমূলের কর্মীদের ভালোবাসা এবং মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষায়।
অতীতের গৌরবের পাশাপাশি বর্তমানকে বদলে ভবিষ্যৎ নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উদীচীকে আরও বেশি গণমানুষের সংগঠনে পরিণত করতে হবে। মানুষের অধিকার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, মুক্তবুদ্ধি ও সম্প্রীতির সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, গান থামতে দেবো না, নাটক থামতে দেবো না, প্রতিরোধ থামতে দেবো না। মানুষের মুক্তির স্বপ্ন জাগবে চিরন্তন। উদীচী বেঁচে থাকবে মানুষের হৃদয়ে, মানুষের সংগ্রামে, মানুষের মুক্তির প্রত্যয়ে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন—
নিবিড় ঘন আঁধারে জ্বলিছে ধ্রুবতারা।
মন রে মোর, পাথারে হোস নে দিশেহারা॥
বিষাদে হয়ে ম্রিয়মাণ বন্ধ না করিয়ো গান,
সফল করি তোলো প্রাণ টুটিয়া মোহকারা।
জয় উদীচী।
আলোচক ও বক্তারা বলেন, ১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রদূত সত্যেন সেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি সাধারণ মানুষের অধিকার, শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে আসছে।
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী শুধু একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন নয়, এটি বাঙালির গণসংস্কৃতি, প্রতিবাদী শিল্পচর্চা, মুক্তবুদ্ধি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের একটি ঐতিহাসিক নাম। দীর্ঘ ৫৮ বছর ধরে গান, কবিতা, আবৃত্তি, নাটক ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি সাম্য, মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনাকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে।
সমাজের অন্যায়, বৈষম্য, শোষণ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে উদীচীর ভূমিকা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তচিন্তা, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশে নিউইয়র্কে উদীচীর মতো সংগঠনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে বলে বক্তারা মত প্রকাশ করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সাংস্কৃতিক পর্বে যুক্তরাষ্ট্র উদীচী, জ্যামাইকা উদীচী ও ব্রঙ্কস শাখার শিল্পীরা সংগীত ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন। একঝাঁক শিশু শিল্পীর চিত্রাঙ্কন, নৃত্য ও কবিতা পাঠ অনুষ্ঠানে যোগ করে ভিন্নমাত্রা।
অতিথি শিল্পী হিসেবে অংশ নেন সাংস্কৃতিক সংগঠন মাটির গানের সিইও ও সংগীতশিল্পী শাহীন হোসেন। শিল্পীদের পরিবেশনায় বাংলা লোকসংগীতের ঐতিহ্য ও বাউল সাধনার আবহ পুরো অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেন উপমহাদেশের খ্যাতিমান তবলা শিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দেবু চৌধুরী, কণ্ঠশিল্পী খ্রিস্টেলা কুইয়া, তুলি বিশ্বাস, মলি ডেসা ও মহুয়া ভট্টাচার্যসহ তাঁর দল এবং অতিথি শিল্পী নিগার নাঈম তমা।
এছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন উদীচীর সদস্য সুলেখা পাল, লিলি মজুমদার, ফুলু রায়, সুপর্ণা সরকার রিমা, মুনমুন সাহা, ইমন বিশ্বাস, জুলি খাস্তগীর, সুমন দে, শহীদ জাকির ও রাবেয়া আক্তার।
তবলায় সহযোগিতা করেন তবলা শিল্পী ও বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী সুচরিত দত্ত। কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী মিনহাজ আহমদ সাম্মু, আবৃত্তিশিল্পী সুমিত্রা সেন, আশীষ রায় ও রশিদা আক্তারসহ অন্যরা।
নাটক মঞ্চস্থ করেন উদীচী জ্যামাইকা শাখার সহ-সম্পাদক দিলীপ মোদক। সংগীত, আবৃত্তি ও নাটকের সমন্বয়ে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক চেতনার এক সমৃদ্ধ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী। শিশুদের সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক হিরো চৌধুরী উপস্থিত শিশুদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ শিশুদের হাতে উপহার তুলে দেন।
শিশুদের কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা মুনমুন সাহা জানান, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদ শিশুদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শিশুদের উৎসাহিত করতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং সবার জন্য উপহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিশুদের সাংস্কৃতিক চর্চায় আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। উপহার ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শিশুরা অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উদীচী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ এবং ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ২০২৬ অনুষ্ঠানের সদস্যসচিব লিলি মজুমদার জানান, উদীচীর ৫৮ বছরের সাংস্কৃতিক অভিযাত্রা কেবল একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নয়; এটি বাঙালির গণসংস্কৃতি, মুক্তবুদ্ধি, প্রতিবাদী শিল্পচর্চা ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
নিউইয়র্কে এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ঐক্য সুদৃঢ় করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মুক্তচিন্তার চেতনাকে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির বিকাশ, শেকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ এবং অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বিস্তারে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখিকা তসলিমা নাসরিন, নিউইয়র্কের প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন ফার্ম NYPI-এর সিইও শক্তি ডি গুপ্তা, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত তালুকদার, হিউম্যান সাপোর্ট করপোরেশনের সভাপতি মোহাম্মদ সোলায়মান আলী, চিটাগাং ইউনিভার্সিটি এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুদ্দিন আজাদ, ডা. লিপিকা সরকার, একুশে চেতনা পরিষদের সিইও ওবায়দুল্লাহ মামুন, প্রগ্রেসিভ ফোরামের সহ-সভাপতি নূসরাত শাহ আজাদ, যুক্তরাষ্ট্র এটিএন বাংলার সিইও ফকরুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি কানু দত্ত, সাপ্তাহিক সন্ধান পত্রিকার সম্পাদক সনজীবন সরকার, গ্রিন টাচের নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা ভিক্টর এলাহী লিয়াকত , প্রজ্ঞা নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশক উত্তম কুমার সাহা, সংগঠক ও আবৃত্তিশিল্পী গোপন সাহাসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিল প্রজ্ঞা নিউজ।
এছাড়া সংগঠনের প্রচার সম্পাদক ও প্রজ্ঞা নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশক উত্তম কুমার সাহা, নিউইয়র্কের প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন ফার্ম NYPI-এর সিইও শক্তি ডি গুপ্তা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্বাহী সংসদের উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাবেক সম্পাদক ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম , বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত তালুকদার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শেফালি রৌশান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কিবরিয়া জামানসহ অনুষ্ঠানটি সফল ও সার্থক করার জন্য সহযোগিতাকারীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। উপস্থিত সকলের প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
সবশেষে এস্টোরিয়ার জনপ্রিয় বৈশাখীর সুস্বাদু চিকেন বিরিয়ানি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
৫৮ বছরের ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। বক্তাদের প্রত্যাশা, সাংস্কৃতিক ঐক্য, মুক্তচিন্তা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে উদীচী আগামী দিনেও সাহসী ভূমিকা পালন করবে।



















