টাইমস স্কয়ারে ‘মহামিলন ২০২৬’: রোদে দেবীবরণ, বৃষ্টিতে বিদায়—দুর্গোৎসবে ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচারের আহ্বান; নৃত্যাঞ্জলির ৬০-এর অধিক শিল্পীর ‘দশমহাবিদ্যা’, তারকাদের সংগীত-নৃত্যে মুখর বিশ্বমঞ্চ, চার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের ছয় ঐতিহ্যবাহী সংগঠনকে সম্মাননা, বৃষ্টিতে ভিজেও শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ
উত্তম কুমার সাহা , প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
নিউইয়র্কের বিশ্বখ্যাত টাইমস স্কয়ারে রোদে দেবীবরণ, বৃষ্টিস্নাত আকাশের নিচে বিদায়—এরই মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুই দিনব্যাপী বিশ্বজনীন দুর্গোৎসব ‘মহামিলন ২০২৬’। ১০ ও ১১ অক্টোবর, শনিবার ও রবিবার, ম্যানহাটনের প্রাণকেন্দ্র ফাদার ডাফি স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন প্রবাসী বাঙালির ধর্মীয় বিশ্বাস, শারদীয় ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য ও মানবিক চেতনার এক অনন্য সম্মিলনে পরিণত হয়। নৃত্যাঞ্জলির ৬০-এর অধিক শিল্পীর ‘দশমহাবিদ্যা’, শাহ্ মাহবুবের সংগীত, মহিতোষ তালুকদার তাপসের নৃত্য এবং মেখলা দাশগুপ্ত ও তাঁর দলের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। উত্তর আমেরিকার চার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ছয় ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সংগঠনের অবদানের স্বীকৃতি উৎসবকে দেয় বিশেষ মাত্রা। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ও শেষ দিনে বৃষ্টিতে ভিজেও শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হন প্রাইভেট ডিটেকটিভ ও NYPI & ASSOCIATES-এর কর্ণধার শক্তি দাশ গুপ্তা। HINDU DEMOCRATIC CLUB OF USA-এর আয়োজনে এই প্রতিবাদে উঠে আসে ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও ধর্মীয় অধিকারের দাবি। পূজা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সাহিত্যচর্চা, সম্মাননা ও প্রতিবাদের সমন্বয়ে টাইমস স্কয়ারের এই মহামিলন হয়ে ওঠে প্রবাসে বাঙালির আত্মপরিচয় ও সম্প্রীতির এক স্মরণীয় অধ্যায়।
টাইমস স্কয়ার দুর্গোৎসব অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এই উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘মহামিলন ২০২৬’। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং বিশ্ববাসীর সামনে বাঙালির সমৃদ্ধ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরাই ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য। বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের বাঙালির পাশাপাশি অন্যান্য সংস্কৃতির মানুষের অংশগ্রহণে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত এই নগরচত্বর পরিণত হয় আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।
শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের অন্যতম প্রধান উৎসব। দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ, শুভশক্তির প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায় ও কল্যাণের প্রত্যাশা এই উৎসবের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য। সেই ধর্মীয় গাম্ভীর্য ও ভক্তির আবহ অক্ষুণ্ন রেখে প্রবাসের মাটিতে দুর্গোৎসবকে বৃহত্তর সাংস্কৃতিক মিলনের পরিসরে উপস্থাপন করেছে ‘মহামিলন ২০২৬’।
১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়ার বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। মহিষাসুরমর্দিনী, চণ্ডীপাঠ, দেবী দুর্গার বন্দনা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা প্রথম দিনের অনুষ্ঠানকে তাৎপর্যমণ্ডিত করে তোলে। দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল চন্দ্রা ব্যানার্জির পরিচালনায় নৃত্যাঞ্জলির ‘দশমহাবিদ্যা’।
প্রায় তিন মাসের নিবিড় প্রস্তুতি ও মহড়ার পর ৬০-এর অধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে পরিবেশিত এই নৃত্যপ্রযোজনায় দেবীশক্তির দশটি স্বরূপ তুলে ধরা হয়। মুদ্রা, ছন্দ, অভিব্যক্তি ও সম্মিলিত কোরিওগ্রাফির সমন্বয়ে শিল্পীরা দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করেন দেবীশক্তির বহুমাত্রিক রূপ। দীর্ঘ প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা ও সমবেত সাধনার প্রতিফলন ঘটে প্রতিটি নৃত্যভঙ্গিতে। আধ্যাত্মিক ভাবনা ও শিল্পের নান্দনিক প্রকাশে পরিবেশনাটি উপস্থিত সহস্রাধিক দর্শককে মুগ্ধ করে। আন্তর্জাতিক পরিচিতির এই মঞ্চে বাঙালির নৃত্য ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এমন উপস্থাপনা শিল্পীদের জন্য ছিল বিশেষ অর্জন এবং প্রবাসী দর্শকদের জন্য গর্বের মুহূর্ত।
প্রথম দিনের সংগীতানুষ্ঠানেও ছিল উৎসবের প্রাণবন্ত আবহ। শাহ্ মাহবুবের সুরেলা কণ্ঠ ও প্রাণবন্ত পরিবেশনা দর্শকদের আনন্দিত করে। তাঁর সংগীতের সঙ্গে দুই বাংলা ও নিউইয়র্ক সহ বিভিন্ন দেশের বাংলা সংস্কৃতির যাদুকর ও সংগীত পরিচালক মহিতোষ তালুকদার তাপসের নৃত্য পরিবেশনা যোগ করে বিশেষ মাত্রা। পরে মেখলা দাশগুপ্ত ও তাঁর দলের পরিবেশনা রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখে। তাঁদের পরিবেশনায় বাংলা গানের আবেগ, সুরের আবেদন ও প্রবাসী মানুষের শেকড়ের টান ফুটে ওঠে। ভাষা ও ভৌগোলিক দূরত্ব পেরিয়ে সংগীত কীভাবে মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, উৎসবের এই পর্ব ছিল তারই প্রকাশ।
উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে উত্তর আমেরিকার চার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁরা হলেন ড. মৃদুল পাঠক, অশোক রক্ষিত, মিলন আওয়ান ও জয়প্রকাশ বিশ্বাস। অশোক রক্ষিত এর হাতে সন্মাননা তুলে দেন সংগঠনের সিইও বিশ্বজিত সাহা , মিলন আওয়ানের হাতে সম্মাননা তুলে দেন সংগঠনের সভাপতি শশধর হাওলাদার এবং জয়প্রকাশ বিশ্বাসের হাতে সম্মাননা তুলে দেন কোষাধ্যক্ষ সম্যব্রত দাশগুপ্ত। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. কল্লোল বসু। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি এই সম্মাননা পর্বে প্রবাসী সমাজে অবদান ও সম্পৃক্ততার স্বীকৃতি এবং কৃতজ্ঞতার বার্তা প্রতিফলিত হয়।
এবারের আয়োজনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপূজা উদ্যাপন ও বাঙালি সংস্কৃতি সংরক্ষণে ভূমিকা রাখা ছয়টি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান। সংগঠনগুলো হলো ক্যালিফোর্নিয়ার Bay Area Prabasi Inc., ইলিনয়ের Bengali Association of Greater Chicago (BAGC), ওহাইওর Bengali Cultural Society, নিউইয়র্কের East Coast Durga Puja Association, নিউ জার্সির Kallol এবং পেনসিলভানিয়ার Pragati। মাতৃভাষা ও ঐতিহ্য চর্চা, সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠা, সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির শেকড় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব সংগঠনের দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
উৎসবের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। বৃষ্টিতে ভিজেও এই দাবিতে সোচ্চার হন প্রাইভেট ডিটেকটিভ ও NYPI & ASSOCIATES-এর কর্ণধার শক্তি দাশ গুপ্তা। HINDU DEMOCRATIC CLUB OF USA-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদে বিশ্বের সনাতনীদের ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও ধর্মীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরা হয়।
শক্তি দাশ গুপ্তার আহ্বান ছিল, বিশ্বের প্রতিটি দুর্গাপূজার মণ্ডপ থেকে শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি উচ্চারিত হোক। তাঁর এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে উৎসবের মঞ্চে ধর্মীয় অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন সামনে আসে। বৃষ্টিস্নাত পরিবেশে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদটি সাংস্কৃতিক উৎসবের পাশাপাশি মানবিক মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে আলোচনার একটি স্বতন্ত্র মাত্রা যোগ করে। সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য মামলার নথি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, প্রতিবাদকারীদের মূল বক্তব্য ছিল শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর মুক্তি এবং সনাতনীদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষার দাবি।
সাহিত্য ও মননশীলতার প্রকাশ হিসেবেও এবারের উৎসব ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। উৎসব উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ স্মরণিকা ‘টাইমস স্কয়ার শারদীয়া ২০২৬’-এ দুর্গাপূজার ইতিহাস, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের শারদীয় ঐতিহ্য, যুক্তরাষ্ট্রে দুর্গাপূজার বিকাশ, মহালয়ার সাংস্কৃতিক তাৎপর্য এবং প্রবাসী বাঙালির অবদান নিয়ে বাংলা ও ইংরেজিতে প্রবন্ধ, স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছাবার্তা ও বিভিন্ন রচনা স্থান পেয়েছে। স্মরণিকাটি সম্পাদনা করেছেন বিশ্বজিৎ সাহা।
স্মরণিকায় বিশিষ্ট সাহিত্যিক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়িসহ বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের লেখকদের রচনা স্থান পেয়েছে। এতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর শুভেচ্ছাবার্তা, নিউইয়র্কের মেয়রের কার্যালয়ের শুভেচ্ছা এবং বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উৎসব চলাকালে ‘শারদীয়া ২০২৬’-এর শত শত কপি পাঠক ও আগ্রহীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। যারা উৎসবে উপস্থিত থেকে স্মরণিকাটি সংগ্রহ করতে পারেননি, তাঁদের কাছেও এটি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকাশনা প্রবাসী বাঙালির সাহিত্যচর্চা, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
উৎসবের পেছনে ছিল দীর্ঘ প্রস্তুতি ও সম্মিলিত শ্রম। শিল্পীরা প্রায় তিন মাস ধরে মহড়া করেছেন, আর প্রায় ৩৫ জন তরুণ স্বেচ্ছাসেবক বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগঠকদের পরিকল্পনা, শিল্পীদের নিষ্ঠা এবং দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আয়োজনকে পূর্ণতা দেয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও অনুষ্ঠান ও প্রতিবাদে মানুষের অংশগ্রহণ দেখিয়েছে, প্রবাসে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের টান কতটা গভীর।
টাইমস স্কয়ার দুর্গোৎসব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শশধর হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক নিরুপমা সাহার নেতৃত্বে আয়োজিত এই উৎসবে নিউইয়র্কের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রবাসী কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের কনস্যুলার প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ উৎসবের আন্তর্জাতিক মাত্রাকে তুলে ধরে।
নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার বিশ্বের নানা ভাষা, জাতি ও সংস্কৃতির মানুষের পরিচিত মিলনস্থল। সেখানে দুর্গোৎসবের আয়োজন প্রবাসী বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি বহুত্ববাদী সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের বার্তা বহন করে। পূজার ভক্তি, ‘দশমহাবিদ্যা’র আধ্যাত্মিকতা, সংগীতের আবেগ, সাহিত্য প্রকাশনার মননশীলতা এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে ‘মহামিলন ২০২৬’ হয়ে ওঠে ঐতিহ্য ও সমকালীন মানবিক চেতনার সম্মিলিত প্রকাশ।
দেবী দুর্গার আরাধনা শুভশক্তির জাগরণ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং কল্যাণের প্রত্যাশার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সেই চিরন্তন বাণীকে ধারণ করেই টাইমস স্কয়ারের এই উৎসব ধর্মীয় ভক্তি, সাংস্কৃতিক ঐক্য ও মানবিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়েছে। বৃষ্টিস্নাত শেষ দিনে শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ উৎসবের স্মৃতিতে যুক্ত করেছে অধিকার ও ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
দেবী বিদায় নিয়েছেন, উৎসবের মঞ্চ ফিরে গেছে ব্যস্ত নগরজীবনের স্বাভাবিক ছন্দে। কিন্তু থেকে গেছে ‘দশমহাবিদ্যা’র নৃত্যছন্দ, সংগীতের সুর, দর্শকদের করতালির উষ্ণতা, পূজার পবিত্র আবহ, সম্মাননার স্মৃতি এবং বৃষ্টিতে ভিজেও উচ্চারিত ন্যায়বিচারের দাবি। রোদে দেবীবরণ, বৃষ্টিতে বিদায়—এই দুইয়ের মধ্য দিয়ে ‘মহামিলন ২০২৬’ প্রবাসী বাঙালির হৃদয়ে রেখে গেছে গভীর সাংস্কৃতিক ও মানবিক স্বাক্ষর।
টাইমস স্কয়ারের এই মহামিলন আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, বাঙালির ঐতিহ্য শুধু অতীতের স্মৃতি নয়; এটি বর্তমানের চর্চা ও ভবিষ্যতের উত্তরাধিকার। ধর্মীয় বিশ্বাসে ভক্তি, সংস্কৃতিতে উদারতা, সাহিত্যে মনন এবং মানুষের মর্যাদা ও অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা—এই মূল্যবোধের সমন্বয়েই প্রবাসে গড়ে ওঠে আপন ঘর। নিউইয়র্কের বিশ্বমঞ্চে দুই দিনের জন্য সেই ঘরই তৈরি হয়েছিল, যেখানে দেবীর আরাধনার পাশাপাশি উদ্যাপিত হয়েছে বাঙালির আত্মপরিচয়, সাংস্কৃতিক ঐক্য, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা।



















