Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   নিউইয়র্কে বাপার দশম বার্ষিকী অ্যাওয়ার্ডস ডিনার—বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের অবদান ও সাফল্যের বর্ণাঢ্য স্বীকৃতি: এনওয়াইপিডির শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ছয় শতাধিক অতিথির অংশগ্রহণ, পুলিশ ও কমিউনিটির সেতুবন্ধন জোরদারে ঐক্য, সম্প্রীতি ও জনসেবার অঙ্গীকার

নিউইয়র্কে বাপার দশম বার্ষিকী অ্যাওয়ার্ডস ডিনার—বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের অবদান ও সাফল্যের বর্ণাঢ্য স্বীকৃতি: এনওয়াইপিডির শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ছয় শতাধিক অতিথির অংশগ্রহণ, পুলিশ ও কমিউনিটির সেতুবন্ধন জোরদারে ঐক্য, সম্প্রীতি ও জনসেবার অঙ্গীকার

নিউইয়র্কে বাপার দশম বার্ষিকী অ্যাওয়ার্ডস ডিনার—বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের অবদান ও সাফল্যের বর্ণাঢ্য স্বীকৃতি: এনওয়াইপিডির শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ছয় শতাধিক অতিথির অংশগ্রহণ, পুলিশ ও কমিউনিটির সেতুবন্ধন জোরদারে ঐক্য, সম্প্রীতি ও জনসেবার অঙ্গীকার

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক:

বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)-এর দশম বার্ষিকী অ্যাওয়ার্ডস ডিনার গত ৯ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার নিউইয়র্কের কুইন্সে অবস্থিত ডিএ মাইকেল ইলাজিও পার্টি হলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও তাঁদের পরিবার, বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিসহ ছয় শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়।

বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের পেশাগত সাফল্য, নেতৃত্ব, নিষ্ঠা ও জনসেবায় অবদানের স্বীকৃতি প্রদানের পাশাপাশি এনওয়াইপিডি ও বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজন করা হয় এ বার্ষিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে ইমাম তাহির কুকিকির পরিচালনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। বাপার প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন একেএম প্রিন্স আলম স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের কার্যক্রম, অর্জন এবং পুলিশ বিভাগ ও কমিউনিটির মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ কমিশনার জেসিকা এস. টিশ (Jessica S. Tisch) তাঁর বক্তব্যে এনওয়াইপিডিতে কর্মরত বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের নিষ্ঠা, পেশাদারত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এনওয়াইপিডিতে দুই হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি আমেরিকান সদস্য কর্মরত রয়েছেন, যাঁরা নিউইয়র্কের বহুজাতিক সমাজের নিরাপত্তা রক্ষা ও জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

পুলিশ কমিশনার তাঁর বক্তব্যে দায়িত্ব পালনে ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলামের আত্মত্যাগ ও অবদানের কথাও বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তাঁর এই স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের কাছে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব, আত্মত্যাগ ও জননিরাপত্তায় অবদানের গুরুত্ব নতুন করে তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান, নেতৃত্ব ও পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান। এ বছর লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ কমিশনার জেসিকা এস. টিশ। ম্যান অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন চিফ অব ট্রানজিট জোসেফ এম. গুলোট্টা এবং উইম্যান অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড পান ডেপুটি কমিশনার মারিয়া সি. ওতেরো। অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় ডেপুটি চিফ ব্রায়ান ও’সুলিভানকে।

কমান্ডিং অফিসার অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন ডেপুটি ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ ইসলাম। লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পান পিবিএ প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হেনড্রি এবং সিভিলিয়ান অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন ডেপুটি ডিরেক্টর হরজিন্দর সিং।

এ ছাড়া কপ অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত হন সার্জেন্ট ওমর ভূঁইয়া ও পুলিশ অফিসার আবির আহমেদ। কমিউনিটি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় ফয়সাল আজিজকে। সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেকের পেশাগত অর্জন, নেতৃত্ব, দায়িত্বশীলতা ও জনসেবায় অবদানকে স্বীকৃতি জানাতেই এসব পুরস্কার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে গ্র্যান্ড স্পনসরের বক্তব্য ও ভিডিও উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি বাপার নির্বাহী কমিটি ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়গুলোও অতিথিদের সামনে তুলে ধরা হয়।

বাপার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সার্জেন্ট এসডিএস এরশাদুর সিদ্দিকী তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের সদস্যদের ঐক্য, পেশাগত উন্নয়ন এবং কমিউনিটির কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাপার সাধারণ সম্পাদক ডিটেকটিভ জামিল সরেয়ার স্পনসর, সহযোগী, স্বেচ্ছাসেবক, অতিথি এবং আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বও পরিচালনা করেন।

সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শুভ্রদেব এবং প্রবাসের পরিচিত শিল্পী রাজীব ভট্টাচার্য ও শশী সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁদের পরিবেশনা এবং ডিজে পর্বে অতিথিরা আনন্দে মেতে ওঠেন। আনুষ্ঠানিকতা, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সমন্বয়ে পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

বাপার দশম বার্ষিকী অ্যাওয়ার্ডস ডিনার শুধু একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের পেশাগত সাফল্য ও আত্মনিবেদনের স্বীকৃতি প্রদানের পাশাপাশি নিউইয়র্কের বৃহত্তর সমাজে বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে পুলিশ বিভাগ ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয়ও প্রকাশ পায়।

বাপার মিডিয়া লিয়াজোঁ সার্জেন্ট জসিম মিয়া আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে পুলিশ বিভাগ ও কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং জনসেবা, নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় যৌথ প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী হবে।