নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃঢ় দাবি, শুক্রবার জানা যাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য বলে আবারও দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শেষ পর্যন্ত নোবেল কমিটি তাকে পুরস্কারের জন্য বেছে নেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার আগামী শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঘোষণা করা হবে। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ বছরের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে নিজের সম্ভাবনা সম্পর্কে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত কী হবে, তা তিনি জানেন না। তবে তার ভাষ্য, তার মতো ব্যক্তিদের এই পুরস্কার না দেওয়ার ‘খ্যাতি’ রয়েছে কমিটির।
ট্রাম্প বলেন, তিনি পুরস্কারটি পান বা না পান, ইতোমধ্যে তিনি অনেক কিছু করেছেন। তার মতে, এত অবদানের পরও তাকে পুরস্কার না দেওয়া নোবেল কমিটির জন্য ‘চরম অসম্মানের’ বিষয় হবে।
নোবেল নিয়ে আগ্রহ নতুন নয়
নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। ২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকেই বিভিন্ন সময় তিনি দাবি করে আসছেন, আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে তার ভূমিকার জন্য তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য।
গত বুধবার সাংবাদিকদের সামনে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের দাবি, মাচাদো তাকে তার নোবেল পদক উপহার দিয়েছেন। গত জানুয়ারিতে মাচাদো ট্রাম্পকে ওই পদক উপহার দেন বলে জানা গেছে। ভেনেজুয়েলায় তার রাজনৈতিক প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন মাচাদো।
আটটি সংঘাতে ভূমিকার দাবি
ক্ষমতায় ফেরার পর আটটি সংঘাতে তিনি হস্তক্ষেপ করেছেন এবং এসব সংঘাতের অবসানে ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে তার এই দাবির সবগুলো বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান এক নয়।
কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এসব মনোনয়নের বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই যুদ্ধ শেষ করার কথা বলেছিলেন তিনি। তবে এখনো যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতভেদও রয়েছে। তিনি যেসব সংঘাতের সমাধানে ভূমিকা রাখার দাবি করছেন, সেগুলোর কয়েকটিতে পরবর্তী সময়ে আবারও সংঘাত দেখা দিয়েছে।
ইরান নীতি নিয়েও আন্তর্জাতিক আলোচনা
ইরানকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়ে। তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
কারা আলোচনায়?
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সম্ভাব্য প্রার্থী ও প্রতিষ্ঠানের নাম আলোচনায় রয়েছে। পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকের নামও আলোচিত হচ্ছে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। আগামী শুক্রবারই জানা যাবে এ বছরের শান্তি পুরস্কার কার হাতে উঠছে। সূত্র: রয়টার্স, ইউএসএ টুডে, জাগোনিউজ



















