হঠাৎ থেমে গেল প্রবাসের চেনা মুখ কাজী আজিজুল হক খোকনের পথচলা: আকস্মিক মৃত্যুতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত ও প্রিয় মুখ কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই। মাত্র ৬৫ বছর বয়সে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজন, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক ও বেদনা। জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ব্রুকলিন, অ্যাস্টোরিয়াসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে শোকের আবহ।
বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদীন জানান, গত ৩ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার বিকেলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর বাসার পাশের রাস্তায় হঠাৎ পড়ে যান কাজী আজিজুল হক খোকন। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে যাওয়ার পর সেখানে উপস্থিত কেউ পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে জ্যামাইকা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
পরে তাঁর মরদেহ আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার জন্য Office of the Medical Examiner, 599 Winthrop Street, Brooklyn-এ নেওয়া হয়।
খোকনের মৃত্যুর খবর তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাপকভাবে প্রকাশ না পাওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে তাঁর পরিচিতজন, বন্ধু ও কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা মাধ্যমে তাঁর খোঁজ নেওয়া হচ্ছিল। অবশেষে বুধবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরই নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নেমে আসে শোকের ছায়া।
দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কে বসবাসের কারণে কাজী আজিজুল হক খোকন কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর পরিচিতজনদের কাছে তিনি ছিলেন আন্তরিক, সহজ-সরল, বন্ধুবৎসল ও আপন করে নেওয়ার মতো একজন মানুষ। কমিউনিটির বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও যোগাযোগ তাঁকে অনেকের কাছে পরিচিত একটি মুখে পরিণত করেছিল।
খোকনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে কমিউনিটির নেতা , কাজল মাহমুদ, গোলাম খান লিপটন বলেন, খোকন কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
খোকনের পরিচিতজনেরা বলছেন, প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখতেন। দীর্ঘদিনের পরিচিতদের কাছে তাঁর উপস্থিতি ছিল আপনজনের মতো। তাই তাঁর আকস্মিক চলে যাওয়ার খবর অনেকেই সহজে মেনে নিতে পারছেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই শোক প্রকাশ করে তাঁর সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন সময়ের স্মৃতিচারণ করছেন। কেউ তাঁকে স্মরণ করছেন দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবে, কেউবা একজন আন্তরিক কমিউনিটি মানুষ হিসেবে।
এদিকে, তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্রেই জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
একজন প্রবাসী মানুষের জীবন শুধু তাঁর পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; দীর্ঘদিনের বসবাসে তিনি হয়ে ওঠেন একটি কমিউনিটির পরিচিত মুখ, অসংখ্য মানুষের স্মৃতির অংশ। কাজী আজিজুল হক খোকনের আকস্মিক মৃত্যু যেন সেই পরিচিত প্রবাসজীবনের একটি অধ্যায়ের হঠাৎ অবসান।
তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সবাই মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবারের এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর এবং তাঁদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন কমিউনিটির শুভানুধ্যায়ীরা।
প্রজ্ঞা নিউজ পরিবারের পক্ষ থেকেও কাজী আজিজুল হক খোকনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হচ্ছে। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা।



















