Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   যুক্তরাষ্ট্রে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: প্রায় ৩,৯০০ আক্রান্ত, ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে বড় সংক্রমণ; নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: প্রায় ৩,৯০০ আক্রান্ত, ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে বড় সংক্রমণ; নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: প্রায় ৩,৯০০ আক্রান্ত, ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে বড় সংক্রমণ; নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অতি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হাম। চলতি ২০২৬ সালে দেশটিতে হামের সংক্রমণ প্রায় ৩ হাজার ৯০০-তে পৌঁছেছে। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC)-এর সর্বশেষ হিসাবে, ১ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৩ হাজার ৮৮৭টি নিশ্চিত হামের কেস শনাক্ত হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর এটিই দেশটিতে হামের সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব। 

পরিস্থিতির অবনতিতে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে নেমে এসেছে জরুরি ব্যবস্থা। গত ৫ অক্টোবর গভর্নর ক্যাথি হোকুল হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় অঙ্গরাজ্যজুড়ে Disaster Emergency ঘোষণা করেন। ৩ অক্টোবর পর্যন্ত নিউইয়র্কে ১০৮টি হামের কেস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯২টি কেস ১৫ জুলাইয়ের পর ১৮টি কাউন্টির তুলনামূলক কম টিকাদান-হারের গ্রামীণ এলাকায় শনাক্ত হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে এখন পর্যন্ত সাতটি কেস রিপোর্ট করা হয়েছে। 

জরুরি ঘোষণার ফলে নিউইয়র্কে হামের পরীক্ষা ও টিকাদান কার্যক্রম আরও দ্রুত সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। জরুরি আদেশের আওতায় নিবন্ধিত নার্সদের হামের পরীক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে এবং ফার্মাসিস্টসহ আরও কিছু স্বাস্থ্যকর্মীকে শিশুদের MMR টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত এলাকায় কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং টিকাদান কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে। জরুরি অবস্থাটি ৪ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা রয়েছে। 

এদিকে নিউইয়র্কের প্রতিবেশী পেনসিলভেনিয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। অঙ্গরাজ্যটিতে হামের আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে, যা তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সেখানে পাঁচজনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবের সঙ্গে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের পার্থক্য রয়েছে।

CDC-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের হামের কেস ৪৭টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিসহ বিভিন্ন jurisdiction-এ শনাক্ত হয়েছে। পেনসিলভেনিয়া, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা, ইউটা, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, উইসকনসিনসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে বড় আকারের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে উঠেছে শিশুদের টিকাদানের হার কমে যাওয়া। CDC-এর হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের কিন্ডারগার্টেন শিশুদের MMR টিকার কভারেজ ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে ৯২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কিন্ডারগার্টেন শিশু টিকার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত অবস্থায় রয়েছে বলে CDC জানিয়েছে। জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশের বেশি টিকাপ্রাপ্ত থাকলে কমিউনিটি ইমিউনিটি বা গোষ্ঠীগত সুরক্ষা বজায় রাখতে সহায়তা করে। 

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও অঙ্গরাজ্যগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টেক্সাস, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা, ভার্জিনিয়া, কানসাস, নিউ মেক্সিকো ও উইসকনসিনে মহামারি তদন্ত ও সহায়তা টিম মোতায়েন করা হয়েছে। নিউইয়র্কের প্রয়োজন হলে সেখানেও ফেডারেল স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে। 

হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি হামের সাধারণ লক্ষণ। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুও ঘটতে পারে। নিউইয়র্ক স্বাস্থ্য বিভাগ শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের MMR টিকা গ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জ্বর ও র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে। 

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা হলো সময়মতো MMR টিকার পূর্ণ ডোজ গ্রহণ। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এমন ব্যক্তি এবং টিকাবিহীন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। উচ্চ সংক্রমণশীলতার কারণে একটি এলাকায় হাম ঢুকে পড়লে টিকাদানের হার কম থাকা জনগোষ্ঠীতে অল্প সময়ের মধ্যেই বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে হামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অর্জিত নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ২০২৬ সালের এই ব্যাপক সংক্রমণ অব্যাহত থাকলে দেশটির হাম নির্মূল-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে। ফলে নিউইয়র্কসহ আক্রান্ত অঙ্গরাজ্যগুলোতে টিকাদান, দ্রুত শনাক্তকরণ, সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষদের নজরদারি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোকে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 
সুত্র: AP News, CDC, New York State Department of Health, Reuters, CDC Tools.