Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   নর-ইস্টার ঝড়ের সতর্কতায় নিউইয়র্ক, অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার আহ্বান মেয়র মামদানীর: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আতঙ্ক নয়, সরকারি সতর্কবার্তায় গুরুত্ব দিন; উপকূলীয় প্লাবন, দমকা বাতাস ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ

নর-ইস্টার ঝড়ের সতর্কতায় নিউইয়র্ক, অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার আহ্বান মেয়র মামদানীর: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আতঙ্ক নয়, সরকারি সতর্কবার্তায় গুরুত্ব দিন; উপকূলীয় প্লাবন, দমকা বাতাস ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ

নর-ইস্টার ঝড়ের সতর্কতায় নিউইয়র্ক, অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার আহ্বান মেয়র মামদানীর: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আতঙ্ক নয়, সরকারি সতর্কবার্তায় গুরুত্ব দিন; উপকূলীয় প্লাবন, দমকা বাতাস ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ

উত্তম কুমার সাহা | প্রজ্ঞা নিউজ:

নিউইয়র্কে শক্তিশালী নর-ইস্টার (Nor’easter) ঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলা এবং সরকারি আবহাওয়া সতর্কবার্তা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। ঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত, দমকা বাতাস, উপকূলীয় প্লাবন ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা থাকায় বাসিন্দাদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়া, তুষারপাত, রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ব্যাপক বিপর্যয়ের দৃশ্য দেখিয়ে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। এসব ভিডিওর সবকটির সত্যতা কিংবা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত নয়। ফলে যাচাইহীন ভিডিও দেখে আতঙ্কিত না হয়ে তথ্যের উৎস, ধারণের সময় ও স্থান যাচাই করা জরুরি।

শনিবার ভোর পর্যন্ত সরেজমিনে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সর্বত্র ভয়াবহ বিপর্যয়ের চিত্র চোখে পড়েনি। তবে ভোর থেকে হালকা বৃষ্টি ও দমকা বাতাস অনুভূত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি এক রকম নাও থাকতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল, নিচু এলাকা ও বন্যাপ্রবণ স্থানে আবহাওয়ার অবনতি ঘটলে দ্রুত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই সরেজমিনে দেখা পরিস্থিতির পাশাপাশি আবহাওয়া বিভাগের সর্বশেষ পূর্বাভাস ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

নর-ইস্টার হলো উত্তর-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় অঞ্চলে সৃষ্টি হওয়া শক্তিশালী ঝড়, যাতে ভারী বৃষ্টি, তীব্র বাতাস, উপকূলীয় বন্যা এবং কখনো তুষারপাতও হতে পারে। ঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রভাব ভিন্ন হয়। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, লং আইল্যান্ড, বোস্টন ও দক্ষিণ নিউ ইংল্যান্ডের উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের ঝড়ের সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

ঝড়ের আশঙ্কায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাতিল বা স্থগিত হওয়ার খবরও সামনে এসেছে। তবে কোনো অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট আয়োজকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত। একইভাবে বিমানযাত্রার আগে এয়ারলাইন ও বিমানবন্দরের কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, গাছের ডাল ভেঙে পড়া, বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং সড়কে চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এ কারণে অপ্রয়োজনীয় গাড়ি চালানো ও দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ এড়িয়ে চলা, মোবাইল ফোন চার্জ রাখা, টর্চ, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগের পরিকল্পনা করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে উপকূলীয় ও নিচু এলাকায় বসবাসকারীদের বন্যার সতর্কবার্তা গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। পানিতে ডুবে থাকা রাস্তা দিয়ে হাঁটা বা গাড়ি চালানো বিপজ্জনক। বেসমেন্টে পানি প্রবেশের আশঙ্কা থাকলে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে। প্রবল বাতাসের সময় গাছ, নির্মাণাধীন স্থাপনা, স্ক্যাফোল্ডিং ও ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক তার থেকে দূরে থাকা জরুরি।

আবহাওয়ার নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের সরকারি ওয়েবসাইট https://www.weather.gov/ এবং নিউইয়র্ক সিটির জরুরি সতর্কবার্তার জন্য https://a858-nycnotify.nyc.gov/ অনুসরণ করা যেতে পারে। জরুরি বিপদে ৯১১ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে।

নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের প্রতি পরামর্শ, আতঙ্ক নয়—সচেতনতা ও প্রস্তুতিকেই অগ্রাধিকার দিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও বা খবর শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করুন। আবহাওয়া পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে, তাই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।