Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ: আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার পুনর্বহাল, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও নতুন নির্বাচনের দাবি

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ: আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার পুনর্বহাল, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও নতুন নির্বাচনের দাবি

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ: আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার পুনর্বহাল, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও নতুন নির্বাচনের দাবি

উত্তম কুমার সাহা , প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদ, তার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন এবং নতুন নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী-অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

গত বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন। সমাবেশে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, গ্যাস-বিদ্যুৎ, শিক্ষা, জননিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তারা বক্তব্য দেন। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে ওই সময় নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের বিক্ষোভ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

বক্তারা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রাজনৈতিক বহুত্ববাদের জন্য ক্ষতিকর। তারা অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডেরও প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তারা ওই রায় প্রত্যাহার এবং শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার ও রায়ের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে—এমন বক্তব্যও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে।

বিক্ষোভে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল গো ব্যাক তারেক, নো গ্যাস, নো ইলেকট্রিসিটি—দিস গভর্নমেন্ট ইজ নট নিডেড, নো ফুড, নো ক্লোদিং—দিস গভর্নমেন্ট ইজ নট নিডেডসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে রাজনৈতিক বহুত্ববাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার ফলে উগ্র ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তারা সরকারের সমালোচনা করেন। তারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, শিক্ষা খাতের সমস্যা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং কথিত মব কালচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যা, হয়রানি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার অভিযোগও তারা তুলে ধরেন।

বক্তারা সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে বিমান কেনার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাদের বক্তব্য, দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের শিল্প-কারখানা ও তৈরি পোশাক খাতের বিভিন্ন সমস্যা এবং উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সমাবেশে বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, সমুদ্রবন্দর ও ট্রানজিট করিডোর নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, দেশের ভূখণ্ড, কৌশলগত সম্পদ ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এসব বক্তব্য সমাবেশে অংশ নেওয়া বক্তাদের রাজনৈতিক দাবি ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়।

শিশু নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও মৌলিক সেবার দিকে সরকারের অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করলেই দলটির রাজনৈতিক অস্তিত্ব শেষ হয়ে যাবে না। দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে তারা বলেন, অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরে এসেছে। তাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতেও দলের নেতাকর্মীরা সংগঠিত রয়েছেন এবং রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ আজাদ, উপদেষ্টা মাসুদুল হাসান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা প্রদীপ কর, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ডেমোক্রেটিক ও আওয়ামীলীগ নেতা দিলীপ নাথ, মহানগর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাছুদ সিরাজী, যুক্তরাষ্ট্র পূর্বাঞ্চল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুল হাসান মামুন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক মো. সোলাইমান আলী, আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক টি. মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসিব মামুন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম. এ. সালাম, সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য; কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্বাহী সংসদের উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাবেক সম্পাদক ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম  চৌধুরী , আওয়ামীলীগ নেতা সাখওয়াত বিশ্বাস, রমেশ নাথ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজল মাহমুদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ নিউইয়র্ক চ‍্যাপটারের সভাপতি সাখাওয়াত আলী,  সাংগঠনিক সম্পাদক  মহিউদ্দিন দেওয়ান, মুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবর রিচি, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. বখতিয়ার আলী এবং শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এম. এ. করিম জাহাঙ্গীরসহ অনেকে।

এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা ও শেখ হাসিনা মঞ্চের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন জিলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সেলিম, নির্বাহী সদস্য শাহানারা রহমান, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আখতার হোসেন ও আলী হোসেন গাজনভীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান মিয়া, সহসভাপতি শেখ আতীকুল ইসলাম ও আবুল কাশেম ভূঁইয়া, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবদুল কাদের মিয়া, নিউইয়র্ক সিটি আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল রহমান রফিক ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ চৌধুরীও সমাবেশে অংশ নেন।

এছাড়া কানেকটিকাট স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন আহমেদ চৌধুরী, মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুমানা আক্তার, আওয়ামী লীগ নেতা এ. কে. চৌধুরী, যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান ও মিজানুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সহসভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ নেতা খন্দকার জাহেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ভার্জিনিয়া স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি জি. আই. রাসেল ও সদস্য জেবা রাসেল, মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের সভাপতি এম. নবী বাকি, সহসভাপতি নুরুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মোছিনা জান্নাত রিমি, মেরিল্যান্ড স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মঈনুল মজমুদার তাপস, মোশাররফ হোসেন দুলাল এবং শ্রমিক লীগের সভাপতি আজিজুল খোকনসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পশ্চিমাঞ্চলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে সভাপতি ড. রবি আলম, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম বরকত, সহসভাপতি নাদিম ভূঁইয়া অপু এবং সহসভাপতি নাহিদা নাসের ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।

টেক্সাস আওয়ামী লীগ সাউথের সভাপতি আনিসুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার করণীও সমাবেশে অংশ নেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র চাট্টা লীগের তথ্যবিষয়ক সম্পাদক লিকন জুবায়ের এবং টেক্সাস আওয়ামী লীগের সদস্য ইকবাল আহমেদ ও আলী শেখ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে বক্তারা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার পুনর্বহাল, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন এবং নতুন নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই হওয়া উচিত।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে আয়োজিত এই বিক্ষোভের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সমর্থকরা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরেন।