Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষেধ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে CNN-সহ তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা: পুনরাবৃত্তি হবে ইতিহাসের?

হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষেধ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে CNN-সহ তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা: পুনরাবৃত্তি হবে ইতিহাসের?

হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষেধ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে CNN-সহ তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা: পুনরাবৃত্তি হবে ইতিহাসের?

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নীতির তথ্য প্রকাশকে কেন্দ্র করে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের সঙ্গে তৎকালীন সরকারের যে ঐতিহাসিক আইনি সংঘাত তৈরি হয়েছিল, তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি ছিল ১৯৭১ সালের New York Times Co. v. United States মামলা। পাঁচ দশকের বেশি সময় পর সংবাদমাধ্যম ও হোয়াইট হাউসের সম্পর্ক ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বড় ধরনের আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।

তবে এবারের পরিস্থিতির সঙ্গে ১৯৭১ সালের ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যও রয়েছে। এবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প CNN, MS NOW ও Politico-কে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এসব সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গোপন নথি ‘পেন্টাগন পেপার্স’

১৯৬৭ সালে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট ম্যাকনামারার নির্দেশে ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততা ও নীতি-নির্ধারণের ইতিহাস নিয়ে একটি গোপন গবেষণা শুরু হয়। পরে এটি ‘পেন্টাগন পেপার্স’ নামে পরিচিত হয়। প্রতিবেদনটি ছিল প্রায় ৭ হাজার পৃষ্ঠার এবং ১৯৪৫ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ভিয়েতনাম বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিস্তারিত তথ্য এতে সংকলিত ছিল। ২০১১ সালে ন্যাশনাল আর্কাইভস সম্পূর্ণ নথি প্রকাশ করে।

গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ড্যানিয়েল এলসবার্গ। ১৯৭১ সালে তিনি নথির একটি অংশ দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক নিল শিহানের কাছে পৌঁছে দেন। এরপর টাইমস ১৩ জুন থেকে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ শুরু করে।

সরকারের প্রকাশ-নিষেধাজ্ঞা

নথি প্রকাশের পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের প্রশাসন আদালতের মাধ্যমে আরও প্রকাশ বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়। ১৫ জুন নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশনার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। এরপর দ্য ওয়াশিংটন পোস্টও পেন্টাগন পেপার্সের ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ শুরু করে। ফলে বিষয়টি একটি সংবাদপত্র ও সরকারের মধ্যকার বিরোধের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় নিরাপত্তা, সরকারের গোপনীয়তা এবং সংবাদমাধ্যমের সাংবিধানিক অধিকারের বড় বিতর্কে পরিণত হয়।

সুপ্রিম কোর্টে ঐতিহাসিক মামলা

মামলাটি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে যায়। New York Times Co. v. United States মামলায় ১৯৭১ সালের ৩০ জুন আদালত ৬-৩ ভোটে সরকারের প্রকাশ-নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখেনি। মামলাটি সংবাদমাধ্যমের ওপর সরকারের prior restraint বা প্রকাশের আগেই নিষেধাজ্ঞা আরোপের সাংবিধানিক সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে ওঠে।

এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে CNN, MS NOW ও Politico-র সংঘাত

এবারের ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প CNN, MS NOW ও Politico-কে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে “ফেক নিউজ” বলে সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, তার প্রশাসনের বিষয়ে তিনি যেসব প্রতিবেদনকে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর মনে করেন, সেগুলোর কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

১৯ সেপ্টেম্বর এসব প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং তাদের প্রেস পাসও জব্দ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে CNN, MS NOW ও Politico সোমবার জানিয়েছে, তারা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করছে। সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, তাদের প্রথম সংশোধনী অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে।

১৯৭১ সালের মামলা ও ২০২৬ সালের ঘটনার পার্থক্য

দুই ঘটনার মধ্যে মূল পার্থক্য হলো—পেন্টাগন পেপার্স মামলায় সরকার সরাসরি গোপন নথি প্রকাশ বন্ধ করতে আদালতের কাছে আবেদন করেছিল, আর বর্তমান ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপটি হলো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিল করা।

অন্যদিকে CNN, MS NOW ও Politico তাদের মামলায় প্রথম সংশোধনীর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্ন তুলেছে। এখন আদালত এই নিষেধাজ্ঞার সাংবিধানিক বৈধতা কীভাবে মূল্যায়ন করে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

পেন্টাগন পেপার্সের সময় যেমন আদালতের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যম ও সরকারের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী আইনি নজির তৈরি করেছিল, বর্তমান মামলাটিও হোয়াইট হাউসের প্রেস-অ্যাক্সেস নীতি ও সরকারের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে নতুন আইনি বিতর্কের দিকে নিয়ে যেতে পারে। সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ন্যাশনাল আর্কাইভস, কর্নেল ল স্কুল, জাগোনিউজ