Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর ২৯তম গ্রন্থালোচনা সভা: মুক্তচিন্তা, বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্য ও বিশ্বসাহিত্যের নানা বিষয় নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা

কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর ২৯তম গ্রন্থালোচনা সভা:  মুক্তচিন্তা, বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্য ও বিশ্বসাহিত্যের নানা বিষয় নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা

কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর ২৯তম গ্রন্থালোচনা সভা: মুক্তচিন্তা, বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্য ও বিশ্বসাহিত্যের নানা বিষয় নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয়ে নিউইয়র্কের কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর ২৯তম গ্রন্থালোচনা সভা। শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সাহিত্যপ্রেমী, কবি, লেখক ও পাঠকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে এ সাহিত্যসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শহীদ কাদরীর সাহিত্যভাবনাকে ধারণ করে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নীরা কাদরী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চার একটি সৃজনশীল পরিমণ্ডল গড়ে তুলছেন। তাঁর উদ্যোগে নবীন ও প্রবীণ লেখকদের মধ্যে বইপাঠ, গ্রন্থালোচনা এবং সাহিত্যবিষয়ক মুক্ত মতবিনিময়ের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন।
সভায় বিভিন্ন দেশের সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, সমাজচিন্তা ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে পাঠাভ্যাসের প্রসার, মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং জ্ঞানভিত্তিক মতবিনিময়ের গুরুত্ব উঠে আসে।
পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা
সভায় প্রথমে লেখক ও গবেষক আহমাদ মাযহার আলোচনা করেন আবুল আহসান চৌধুরীর বুদ্ধির মুক্তির আন্দোলন, শত বর্ষের সমীক্ষণ গ্রন্থটি নিয়ে। গ্রন্থটিতে বাঙালি সমাজে যুক্তিবাদ, মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। শত বছরের ধারাবাহিকতায় বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বদের অবদান এতে আলোচিত হয়েছে। পাশাপাশি বাঙালি মুসলিম সমাজ, সামাজিক সংস্কার ও মুক্তবুদ্ধির প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্ব পেয়েছে। আলোচক গ্রন্থটির ঐতিহাসিক ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।
এরপর কবি ও সাবেক ব্যাংকার মোহাম্মদ মহিবুর রহমান সৈয়দ মুজতবা আলীর শ্রেষ্ঠ গল্প থেকে নির্বাচিত তিনটি গল্প—চাচা কাহিনী, বিষের বিষ এবং বেঁচে থাকো সর্দি-কাশি—নিয়ে আলোচনা করেন। গল্পগুলোতে লেখকের রসবোধ, সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ এবং মানবজীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার প্রতিফলন তুলে ধরা হয়। দেশ-বিদেশের সংস্কৃতি, মানুষ ও সম্পর্কের নানা দিক এবং সৈয়দ মুজতবা আলীর স্বতন্ত্র কথনশৈলীও আলোচনায় স্থান পায়।
লেখক ও গবেষক ওবায়দুল্লাহ মামুন আলোচনা করেন শ্রী খগেন্দ্রনাথ ভৌমিকের বেদ ও মনুসংহিতায় অনুশাসনের যুক্তিনির্ভর পর্যালোচনায় মানব সংহিতা গ্রন্থটি নিয়ে। গ্রন্থটিতে বেদ ও মনুসংহিতার বিভিন্ন অনুশাসনকে যুক্তি ও বিশ্লেষণের আলোকে পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রাচীন শাস্ত্রীয় বিধান ও মানবিক মূল্যবোধের সম্পর্ক, গ্রন্থটির গবেষণামূলক গুরুত্ব এবং বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
এরপর মমতাজ বেগম সুমি আলোচনা করেন টেকচাঁদ ঠাকুরের আলালের ঘরের দুলাল গ্রন্থটি নিয়ে। বাংলা গদ্য ও উপন্যাসের বিকাশে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ গ্রন্থে তৎকালীন সমাজ, জীবনযাপন, শিক্ষা এবং বিভিন্ন সামাজিক অসঙ্গতি ব্যঙ্গ ও রসের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। আলোচক গ্রন্থটির সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য, সমাজচিত্র ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করেন।
সবশেষে আরিফ মাহমুদ শৈবাল আলোচনা করেন অ্যাডাম স্মিথের বিখ্যাত অর্থনীতিবিষয়ক গ্রন্থ দ্য ওয়েলথ অব নেশনস নিয়ে। শ্রমবিভাজন, উৎপাদন, বাজারব্যবস্থা, সম্পদ সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক চিন্তার বিভিন্ন দিক নিয়ে রচিত এ গ্রন্থের আলোকে আধুনিক অর্থনৈতিক চিন্তার বিকাশ এবং পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নানা বিষয় তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে সঞ্চালক নীরা কাদরী কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির ম্যানেজার শান্তে গেইন্সসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। পরে তিনি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
খবর: প্রেস বিজ্ঞপ্তি ।