Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   জ্যাকসন হাইটসে রেস্টুরেন্টের কাস্টমার সার্ভিস, স্বাস্থ্যবিধি ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘চাঁদা দাবি’র অভিযোগ ঘিরে তোলপাড়: প্রমাণ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুরুতর অভিযোগ ছড়ানোর দায় নিয়ে প্রশ্ন; সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন লিটনের দাবি—অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

জ্যাকসন হাইটসে রেস্টুরেন্টের কাস্টমার সার্ভিস, স্বাস্থ্যবিধি ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘চাঁদা দাবি’র অভিযোগ ঘিরে তোলপাড়: প্রমাণ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুরুতর অভিযোগ ছড়ানোর দায় নিয়ে প্রশ্ন; সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন লিটনের দাবি—অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

জ্যাকসন হাইটসে রেস্টুরেন্টের কাস্টমার সার্ভিস, স্বাস্থ্যবিধি ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘চাঁদা দাবি’র অভিযোগ ঘিরে তোলপাড়: প্রমাণ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুরুতর অভিযোগ ছড়ানোর দায় নিয়ে প্রশ্ন; সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন লিটনের দাবি—অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক:

নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের রেস্টুরেন্টগুলোর কাস্টমার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্যমান নিয়ে দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগের মধ্যে এবার একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘চাঁদা দাবি’র অভিযোগ ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন লিটনকে জড়িয়ে ছড়ানো এ অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন লিটন দীর্ঘদিন ধরে জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের কাস্টমার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা ও ভোক্তা-অভিজ্ঞতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলে আসছেন। সম্প্রতি নবান্ন রেস্টুরেন্টে একজন নারী কর্মীর কথিত আচরণ ও কাস্টমার সার্ভিস নিয়ে প্রতিবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের পরই তাঁকে ঘিরে ‘চাঁদা দাবি’র অভিযোগ সামনে আসে।

লিটনের বক্তব্য, কোনো রেস্টুরেন্ট মালিক বা প্রতিষ্ঠানের কাছে তিনি চাঁদা দাবি করেননি। একজন সাংবাদিক হিসেবে রেস্টুরেন্টে একজন সাধারণ ভোক্তার অভিজ্ঞতা, কাস্টমার সার্ভিস ও পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলাই তাঁর উদ্দেশ্য। তিনি দাবি করেন, যেসব ঘটনা তিনি ভিডিও বা পোস্টের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন, সেগুলো বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই প্রকাশ করা হয়েছে।

গত ২১ আগস্ট নবান্ন রেস্টুরেন্টে কাস্টমার সার্ভিস নিয়ে প্রতিবাদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্কটি নতুন মাত্রা পায়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, রেস্টুরেন্টের একজন নারী কর্মীর বিরুদ্ধে অযথা তর্কে জড়ানো, কাজের সময় দাঁড়িয়ে গল্প করা এবং মেঝেতে জল পড়ে থাকার পরও তা পরিষ্কার না করার অভিযোগ ওঠে। এসব আচরণ নিয়ে লিটন প্রতিবাদ করেন এবং ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দাবি, মেঝেতে পানি পড়ে থাকার সময় রেস্টুরেন্টের নিজস্ব পত্রিকা ‘বাংলা গেজেট’-এর আনুমানিক ১৫ থেকে ২০টি কপি জল  শুকানোর কাজে ব্যবহার করে নষ্ট করা হয়েছিল। এর দুই দিন পর একই ধরনের ঘটনায় মেঝের পানি শুকানোর জন্য প্রায় ১৫ থেকে ২০ কপি ‘প্রজ্ঞা’ পত্রিকা ব্যবহার করে নষ্ট করার অভিযোগও সামনে আসে। তবে এসব ঘটনার পূর্ণ সত্যতা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।

এদিকে লিটনকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘চাঁদা দাবি’র অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর সাংবাদিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কোথায়?

সাংবাদিকদের একাংশের বক্তব্য, কারও বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি বা চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা উচিত। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়াই দায়িত্বশীল পদ্ধতি। আর প্রমাণ ছাড়া এমন গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করা হলে তা একজন ব্যক্তির সামাজিক ও পেশাগত ভাবমূর্তির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

লিটনের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ‘ফেক আইডি’ ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি এ ধরনের পোস্ট ও আইডির তথ্য সংরক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় ‘হিলসাইড/ওজন পার্ক এলাকাবাসী নিউইয়র্ক, USA’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে অভিযোগটি কীভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রচারিত হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আলোচনায় আসা একটি আইডির নাম ‘শাহবাগী বিরোধী ঐক্য’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট আইডি বা ব্যক্তির সঙ্গে কারও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে—এমন দাবি নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া করা সমীচীন নয়।

এদিকে জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের কাস্টমার সার্ভিস ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সাংবাদিক ও কমিউনিটির কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, বাথরুমের পরিচ্ছন্নতা, খাবারের মান, পণ্যের মেয়াদ, সেবার মান এবং অতিরিক্ত চার্জের বিষয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ নেওয়া হলেও সেই অনুপাতে সেবা পাওয়া যাচ্ছে কি না—এ নিয়েও ভোক্তাদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

তবে কোনো নির্দিষ্ট রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে বাসি খাবার, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বা স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে প্রচার না করার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের বক্তব্য, এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রেস্টুরেন্টের বক্তব্য, সরকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শনের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।

জ্যাকসন হাইটসের রেস্টুরেন্ট ব্যবসা ও কাস্টমার সার্ভিস নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেও মনে করেন সাংবাদিকদের অনেকে। তাদের মতে, ভোক্তার অধিকার, খাদ্য নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা সাংবাদিকতার স্বাভাবিক দায়িত্ব। তবে সেই সাংবাদিকতা হতে হবে তথ্য-প্রমাণনির্ভর, ভারসাম্যপূর্ণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন লিটনের বক্তব্য, কাস্টমার কি মালিকপক্ষ, নাকি কাস্টমারই কাস্টমার? তাঁর দাবি, একজন সাংবাদিক হিসেবে তিনি সাধারণ ভোক্তার অধিকার ও কমিউনিটির স্বার্থে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ‘চাঁদা দাবি’র অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই বলেও তিনি দাবি করেছেন।

এদিকে সিনিয়র সাংবাদিক ও জনপ্রিয় লেখক দর্পণ কবির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন লিটনের বিরুদ্ধে এ ধরনের পোস্টকে তীব্রভাবে নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এই ধরনের পোস্ট ন্যক্কারজনক।

দর্পণ কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, পোস্টদাতা যদি নিজের পরিচয়ে পোস্ট দিতেন অথবা নির্দিষ্ট কোনো রেস্টুরেন্ট মালিকের নাম উল্লেখ করে অভিযোগের প্রমাণ তুলে ধরতেন, তাহলে সেই বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করা যেত। তাঁর মতে, পরিচয় গোপন রেখে বা অস্পষ্ট পরিচয়ের মাধ্যমে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ছড়ানো অসৎ উদ্দেশ্যের বহিঃপ্রকাশ এবং হীনমন্যতার পরিচয়।

তিনি তোফাজ্জল হোসেন লিটনকে সাহসী সাংবাদিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের কাজ হলো প্রশ্ন করা, অনিয়মের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরা। কোনো প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তথ্য ও যুক্তির মাধ্যমে তার জবাব দেওয়া উচিত; ব্যক্তিগত আক্রমণ বা প্রমাণহীন অপবাদ দিয়ে নয়।

সাংবাদিক মহলের একাংশও মনে করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে অভিযোগ ছড়ানো যত সহজ হয়েছে, তার অপব্যবহারের ঝুঁকিও তত বেড়েছে। বিশেষ করে ‘চাঁদাবাজ’, ‘চাঁদা দাবি’ বা অনুরূপ গুরুতর অভিযোগ প্রমাণ ছাড়া প্রকাশ করা হলে তা শুধু ব্যক্তির সম্মানহানি নয়, বরং সাংবাদিকতার পরিবেশ ও কমিউনিটির পারস্পরিক আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

অন্যদিকে রেস্টুরেন্ট মালিকদেরও বক্তব্য দেওয়ার অধিকার রয়েছে। কোনো সাংবাদিকের প্রতিবেদন বা ভিডিওতে ভুল তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ প্রমাণসহ প্রতিবাদ জানাতে পারে, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জবাব দিতে পারে কিংবা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। একইভাবে সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও যদি কোনো অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তার যথাযথ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়াই হওয়া উচিত।

জ্যাকসন হাইটসের এই সাম্প্রতিক বিতর্ক তাই শুধু একজন সাংবাদিক ও একটি রেস্টুরেন্টের বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভোক্তার অধিকার, রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সেবার মান, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা, সাংবাদিকের স্বাধীনতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের দায়িত্ব এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সচেতন মহলের মতে, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে আবেগ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা নয়, প্রমাণই হতে হবে সত্য নির্ধারণের প্রধান ভিত্তি। রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যাচাই ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকাশ করতে হবে; একইভাবে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মতো গুরুতর অভিযোগ থাকলে তারও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে আইনগত কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হতে হবে।

জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে দীর্ঘদিন ধরে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা ও কাস্টমার সার্ভিস নিয়ে যে প্রশ্নগুলো রয়েছে, এই বিতর্ক সেগুলোকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রমাণহীন অভিযোগ ছড়ানো কতটা গ্রহণযোগ্য এবং মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও আইনসম্মত পথ কোনটি—সেই প্রশ্নও এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—অভিযোগের রাজনীতি, নাকি প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য উদঘাটন? জ্যাকসন হাইটসের এই বিতর্কে কমিউনিটি কোন পথ বেছে নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।