জ্যাকসন হাইটসে বঙ্গবন্ধুর ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত: দোয়া-মিলাদ, রক্তদান, তবারক ও এক হাজার জায়নামাজ বিতরণ
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক, হুমায়ূন কবীর ঢালী :
স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে পালিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী। ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে ছিল দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, রক্তদান কর্মসূচি, তবারক ও খাবার বিতরণ, আমের শরবত এবং এক হাজার জায়নামাজ বিতরণ। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি পরিণত হয় একটি বৃহৎ সামাজিক ও মানবিক আয়োজনে।
শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) জ্যাকসন হাইটসের ৩৭-২২, ৭৩ স্ট্রিটে, নবান্ন রেস্টুরেন্টের সামনে দিনব্যাপী এ শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১টায় রক্তদান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আয়োজনের সূচনা হয়। বিকেল ৩টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত। মোনাজাত পরিচালনা করেন ইমাম কাজী কাইয়ুম। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ অংশ নেন।
আয়োজকরা প্রজ্ঞা নিউজকে জানান , এবারের কর্মসূচিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষের মাঝে তবারক ও খাবার বিতরণ করা হয়। এ জন্য পাঁচটি গরু কোরবানি দেওয়া হয়। আগতদের মধ্যে আমের শরবত ও এক হাজার জায়নামাজ বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে আয়োজিত রক্তদান কর্মসূচিতে প্রায় ৪০ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী শাহ জে. চৌধুরী জানান, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের স্মরণ করার পাশাপাশি প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শাকিল মিয়া। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মো. আলম নমি। শোকসভা কর্মসূচির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মীর নিজামুল হক, সদস্য সচিব মামুন মিয়াজী, চেয়ারম্যান হারুন ভূঁইয়া এবং প্রধান সমন্বয়কারী শাহ জে. চৌধুরী। সুপারভিশনের দায়িত্বে ছিলেন বিপুল সাহা ও মইনুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়া মোহাম্মদ দুলাল, আলমগীর হোসেন, আবদুল মালেক ও আব্দুল হামিদ। যুগ্ম সদস্য সচিব ডিউক খান ও মো. মাহবুব রহমান। চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক এবং কো-চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন সাখাওয়াত বিশ্বাস, জেড আর চৌধুরী (লিটু) ও মফিজুর রহমান। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিলেন এম. এ. আজিজ ও আসিফ বারী টুটুল। পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে আরও ছিলেন মইনুল ইসলাম, অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, আশরাফ চৌধুরী খোকন, সোহেল গাজী, ফাহাদ সোলায়মান, নুরুল আজিম ও তারেক হাসান খান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, লেখক, সংস্কৃতিজন ও কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কিবরিয়া জামান, ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো. হৃদয় মিয়া, সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণ, আবুল কাশেম, শিব্বির আহমেদ, রেজা রশীদ, আহসান হাবিব, ফরহাদ রেজা, নিলুফা শিরিন, হাসান জিলানী, এস এস ব্রোকারেজ, মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, গোলাম হাসান, রফিকুল ইসলাম, আক্তারুর রহমান মামুন, রনি, আনিসুজ্জামান সবুজ, মো. নাজের উদ্দিন, সাঈদ খান, হাসান মাহমুদ সোহেল, মো. লুৎফুর রহমান, মো. জাহিদ, মো. আশরাফুল আজিজ, মো. জাহিরুল ইসলাম, মো. আব্দুর রহিম ভূঁইয়া, মো. আবু তাহের, মো. আনোয়ার হোসেন (অনু), আহাদ ভূঁইয়া, আমিন খান জাকির, শফিকুর রহমান, আবুল ফজল দিদার, অভি (সি কে ফুড), মির্জা এম জামান, শাহ শহিদুল হক, মো. সোহাগ, পাটেল ব্রাদার্স, ডা. তৌহিদ শিবলী, তানভীর শাহীন ও সোহেল গাজী।
অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন—কামরুজ্জামান বকুল, হুমায়ূন কবীর ঢালী, মো. মানিক বাবু, আসাদুল ইসলাম আসাদ, মো. হাসনাত হাসান, শামস জনি, শাহীন চৌধুরী, আফতাব জনি, আকরাম হোসেন বিপ্লব, মো. সায়েম উল্লাহ, মুক্তা মিয়া, গোপাল সান্যাল, জাহাঙ্গীর এইচ মিয়া, নুরুজ্জামান সরদার, গোলাম কিবরিয়া, কামাল হোসেন রাফি, এইচ এম ইকবাল, জাফর আহমেদ, ওয়াসিম, গণেশ কীর্তনীয়া, মো. রাদবি, শাহরিয়ার হোসেন, শোভন, আনোয়ার উদ্দিন, মহিউদ্দিন রাহল, রেদওয়ানুর রহমান জুয়েল, জাহানারা আক্তার (লাকী), ফারহানা চৌধুরী, মনির হোসেন, শ্যামল নাথ, মতিউর রহমান, মতিন, মঞ্জুর চৌধুরী, মো. জাহিদ মিয়া, আনিসুজ্জামান সবুজ, আব্দুল হাদী রানা, বিদ্যুৎ হোসেন ও হাসানউজ্জামান সাবু।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাশেদ আহমেদ, ফারুক হোসেন, গোলাম মোস্তফা খান মেরাজ, মুকিত চৌধুরী, লাভলু আনসার, আবুল বাশার চুন্নু, খুরশেদ আলম বাবলু, মিজানুর রহমান, উত্তম কুমার সাহা, মো. ছানা উল্লাহ ও সৈকত আকবর (রিচি)।
উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে উপস্থিত ও যুক্ত ছিলেন—প্রধান উপদেষ্টা শাহ নেওয়াজ, হারুন ভূঁইয়া, মো. মহিউদ্দিন দেওয়ান, রাশেদ আহমেদ, ইশতিয়াক রুমী, সিরাজুল হক কামাল, কামরুজ্জামান কামরুল, মনসুর চৌধুরী, মো. পিয়ার, রফিক আহমেদ, ইকতারুজ্জামান রতন, মো. কবির রতন, শফিউদ্দিন মিয়া ও শাহাদাত হোসেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রবাসে থাকলেও বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্পর্ক গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে পরিচিত করানো এবং দেশের ইতিহাসকে প্রবাসের মাটিতে ধারণ করতেই এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু স্মরণ নয়, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ও এ আয়োজনের অন্যতম দিক। ভবিষ্যতেও জ্যাকসন হাইটস ও আশপাশের এলাকায় এ ধরনের সামাজিক, মানবিক ও কমিউনিটিভিত্তিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।
দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে জ্যাকসন হাইটস ও আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র সভাপতি শাকিল মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলম নমি। তারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী, সহযোগী, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সবার সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করেন।
Photo credit- Photojournalist James



















