Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দামে ঐতিহাসিক পতন, কৃতিত্ব ট্রাম্পের নীতিতেই দেখছে হোয়াইট হাউজ

যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দামে ঐতিহাসিক পতন, কৃতিত্ব ট্রাম্পের নীতিতেই দেখছে হোয়াইট হাউজ

যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দামে ঐতিহাসিক পতন, কৃতিত্ব ট্রাম্পের নীতিতেই দেখছে হোয়াইট হাউজ

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত কমেছে। জুলাইয়ে এক বছরের ব্যবধানে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমেছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ, যা ১৯৬৩ সালের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন। এই ঘটনাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওষুধের দাম কমানোর নীতির বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে হোয়াইট হাউজ।

সম্প্রতি দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট–এর প্রতিবেদনের শিরোনাম সামনে এনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সাংবাদিকদের কাছে এই সাফল্যের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি সংবাদপত্রটি হাতে নিয়ে সাংবাদিকদের তা প্রচার করার আহ্বান জানান। হোয়াইট হাউজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করে লিখেছে, “POV: you bring the receipts.” 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ওষুধের দাম কমাতে প্রেসিডেন্টের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপের বাস্তব প্রভাব এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেছেন, আধুনিক ইতিহাসে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম ব্যাপকভাবে কমাতে সক্ষম হওয়া প্রেসিডেন্টদের মধ্যে ট্রাম্পই ব্যতিক্রম। তাঁর মতে, এটি আমেরিকানদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ট্রাম্পের নেওয়া সাহসী নীতির সরাসরি ফল।

শুধু একটি নীতি নয়, একাধিক উদ্যোগ

ট্রাম্প প্রশাসন ওষুধের দাম কমাতে ওষুধ প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে মূল্য কমানোর চুক্তি, আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধের মূল্য সামঞ্জস্য করার উদ্যোগ এবং সরাসরি ভোক্তাদের কম দামে ওষুধ পাওয়ার সুযোগ তৈরির মতো একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগের মাধ্যমে রোগীদের সরাসরি কম দামে ওষুধ কেনার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিদেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের অস্বাভাবিক বেশি দাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলে আসছেন এবং ‘Most-Favored-Nation’ নীতির মাধ্যমে মূল্য কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

এ ছাড়া ওষুধ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরাসরি দর-কষাকষি করে দাম কমানোর ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন সক্রিয় হয়েছে। হোয়াইট হাউজের বক্তব্য, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকান ভোক্তাদের ওপর থাকা উচ্চ ওষুধের দামের চাপ কমানো। রেকর্ড পতনের তথ্যই এখন ট্রাম্পের পক্ষে বড় প্রমাণ

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে সব ধরনের ঔষধের দাম নিয়ে বিস্তৃত ‘medicinal drugs’ শ্রেণিতেও ২ দশমিক ৭ শতাংশ পতন হয়েছে।

এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির সামগ্রিক চিত্রের মধ্যেও একটি বড় ব্যতিক্রম। যেখানে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের চাপ অব্যাহত রয়েছে, সেখানে ওষুধের দাম ধারাবাহিকভাবে কমেছে। গত ছয় মাসে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দামের পতনের বার্ষিকীকৃত হারও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।

বাইডেনের নীতির প্রভাব থাকলেও ট্রাম্পের উদ্যোগকে খাটো করা হচ্ছে কেন?

বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ ওষুধের দাম কমার পেছনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলের Inflation Reduction Act-এর ভূমিকার কথা বলছেন। ২০২২ সালের এই আইনের আওতায় মেডিকেয়ারকে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের দাম নিয়ে কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দর-কষাকষির সুযোগ দেওয়া হয় এবং সেই প্রথম দফার কমানো দাম ২০২৬ সালে কার্যকর হয়েছে।

তবে একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নিজস্ব নীতিও সক্রিয় রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ওষুধের দাম কমার কারণ একক কোনো নীতিতে সীমাবদ্ধ নয়; জেনেরিক ওষুধের ব্যবহার বৃদ্ধি, ওজন কমানোর GLP-1 ওষুধে ছাড়সহ একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে।

অর্থাৎ, দাম কমার পুরো কৃতিত্ব একজনের—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হলেও, ট্রাম্প প্রশাসনের ওষুধের দাম কমানোর ধারাবাহিক চাপ এবং নতুন উদ্যোগের সময়ে এই ঐতিহাসিক পতন ঘটেছে—এটি তাঁর প্রশাসনের জন্য অবশ্যই বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনও সেটিই সামনে আনছে—দীর্ঘদিনের উচ্চ ওষুধের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতির পর এখন পরিসংখ্যানেই তার ফলাফল দেখা যাচ্ছে।

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্য গার্ডিয়ান, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো, জাগোনিউজ