Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   ৩৮ দেশের ২৮২ চলচ্চিত্র নিয়ে নিউইয়র্কে বিশ্ব চলচ্চিত্রের মিলনমেলা: বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রথম ‘নিউইয়র্ক গ্লোবাল শর্ট ফিল্ম ফেস্ট ২০২৬’

৩৮ দেশের ২৮২ চলচ্চিত্র নিয়ে নিউইয়র্কে বিশ্ব চলচ্চিত্রের মিলনমেলা: বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রথম ‘নিউইয়র্ক গ্লোবাল শর্ট ফিল্ম ফেস্ট ২০২৬’

৩৮ দেশের ২৮২ চলচ্চিত্র নিয়ে নিউইয়র্কে বিশ্ব চলচ্চিত্রের মিলনমেলা: বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রথম ‘নিউইয়র্ক গ্লোবাল শর্ট ফিল্ম ফেস্ট ২০২৬’

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
বিশ্বের ৩৮টি দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পী, কলাকুশলী ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রথম ‘নিউইয়র্ক গ্লোবাল শর্ট ফিল্ম ফেস্ট ২০২৬’। শনিবার (৮ আগস্ট) নিউইয়র্কের দুটি ভেন্যুতে দিনব্যাপী আয়োজিত আন্তর্জাতিক এ চলচ্চিত্র উৎসবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২৮২টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্রের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। উৎসবের বিভিন্ন বিভাগে ১১টি পুরস্কারের পাশাপাশি দেওয়া হয় একটি বিশেষ পুরস্কার।

প্রথম আয়োজনেই ৩৮ দেশের ২৮২টি চলচ্চিত্রের অংশগ্রহণ নিউইয়র্ক গ্লোবাল শর্ট ফিল্ম ফেস্টকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে একটি সম্ভাবনাময় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরেছে। বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও দেশের নির্মাতাদের মিলন, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, রেড কার্পেট, মিট অ্যান্ড গ্রিট, সংগীত পরিবেশনা, পুরস্কার বিতরণ এবং অটিজম সচেতনতামূলক বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবটি পরিণত হয় এক বৈচিত্র্যময় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র মিলনমেলায়।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের উৎসবটি আমেরিকাকে উৎসর্গ করা হয় এবং আমেরিকাকে করা হয় উৎসবের থিম কান্ট্রি। নিউইয়র্কের দুটি ভেন্যুতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে বিভিন্ন দেশের নির্বাচিত চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী ও নানা আয়োজন।

উৎসবের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরি—সেন্ট্রাল মিলনায়তনে। সকালে শুরু হওয়া এ পর্বে ১৮টি নির্বাচিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক সুশনা চৌধুরী।

স্বাগত ও পরিচিতি পর্বে বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক ফিল্ম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টর শামীম আল আমিন এবং কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরি সেন্ট্রালের প্রোগ্রামিং অ্যান্ড আউটরিচ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক চিত্রা দেওদাত। উৎসব আয়োজনে সহযোগিতার স্বীকৃতি হিসেবে চিত্রা দেওদাতের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন শামীম আল আমিন। প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্য দেন উৎসবের ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর ইশতিয়াক আহমেদ।

বিকেল ৪টায় দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয় জ্যামাইকা সেন্টার ফর আর্টস অ্যান্ড লার্নিং (জেসিএল) মিলনায়তনে। চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পী, অতিথি ও দর্শকদের অংশগ্রহণে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ এবং রেড কার্পেট আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের এ পর্ব হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নির্মিত বিশেষ ভিডিওচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে। এরপর পরিবেশিত হয় বিশ্বখ্যাত ‘নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক’ গান। লিজা মিনেলি ও ফ্রাঙ্ক সিনাত্রার পরিবেশনায় জনপ্রিয় গানটি অনুষ্ঠানে পরিবেশন করেন আলভান চৌধুরী।

পুরস্কারজয়ী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জেনিফার রামপারসাউডের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় মূল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক ফিল্ম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টর শামীম আল আমিন। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উৎসবের আহ্বায়ক ও ডায়াসপোরা ইউএসএ-এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. প্রতাপ দাস। ২০২৬ সালের আট সদস্যের জুরি বোর্ডের প্রধান, খ্যাতিমান আমেরিকান চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ফাইন আর্ট ফটোগ্রাফার লিয়ার লেভিন অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত হতে না পারলেও ভিডিওবার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান। বক্তব্য দেন উৎসবের লিড ফেস্টিভ্যাল কো-অর্ডিনেটর ও ডায়াসপোরা ইউএসএ-এর সাধারণ সম্পাদক এজাজ আলম।

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পুরস্কার বিতরণ। বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা ও তাঁদের প্রতিনিধিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রফি ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।

এবারের উৎসবে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের Banana Triangle Six। চলচ্চিত্রটির পরিচালক মার্ক ই. ক্র্যান্ডাল।

সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র নির্বাচিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের Back to One – Return to Ground Zero। এর পরিচালক সিলভেস্টার পি. লুকাসিয়েভিচ।

ফ্রান্সের স্তেফান মার্তিনে তাঁর A BRUSHSTROKE (UN COUP DE PINCEAU) চলচ্চিত্রের জন্য পেয়েছেন সেরা পরিচালক—স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার। যুক্তরাষ্ট্রের মার্জ ক্লেইনম্যান Stoop Chat with Aleathea & Ariam চলচ্চিত্রের জন্য পেয়েছেন সেরা পরিচালক—প্রামাণ্যচিত্র পুরস্কার।

ব্রাজিলের সান্তিয়াগো হোসে আসেফ পরিচালিত I Learned to Cry পেয়েছে সেরা চিত্রগ্রহণ পুরস্কার। বাংলাদেশের রাহাতুদ জামান পরিচালিত Maybe, That’s Why… পেয়েছে সেরা সম্পাদনা পুরস্কার। চীনের গুওজং লু পরিচালিত Spring in a Bottle পেয়েছে সেরা পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র পুরস্কার।

তুরস্কের জিন আতাশ পরিচালিত Nemesis পেয়েছে সেরা চিত্রনাট্য পুরস্কার। ভারতের অরুণা আর্য গুপ্তা পরিচালিত One Rupee Sky পেয়েছে সেরা সামাজিক প্রভাববিষয়ক চলচ্চিত্র পুরস্কার। যুক্তরাষ্ট্রের পলি রবিনোভিৎজ পরিচালিত What Love’s Worth পেয়েছে সেরা শিক্ষার্থী চলচ্চিত্র পুরস্কার।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডাম বালজেভিচ পরিচালিত The Red Letter পেয়েছে সেরা অপেশাদার চলচ্চিত্র নির্মাতা পুরস্কার। পরিচালকের পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন চলচ্চিত্রটির অভিনেতা জ্যাক গাসকি।

এবারের উৎসবে বিশেষ ফেস্টিভ্যাল স্পিরিট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঝেংদি লি ও খ্রিস্টিনা অরলেটস্কা পরিচালিত In Your Shoes। স্কুল বুলিং ও সচেতনতা বিষয়ক এ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ ও অভিনয় করেছেন ব্রুকলিনের মিডউড হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

ব্রাজিল, তুরস্ক, ফ্রান্স ও চীনের পুরস্কারজয়ীরা সরাসরি উপস্থিত হতে না পারলেও ভিডিওবার্তা ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে উৎসবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্য বিজয়ী ও তাঁদের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ট্রফি ও সনদ গ্রহণ করেন। নিউইয়র্ক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট থেকে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ভারত ও বাংলাদেশের পুরস্কারজয়ীদের উপস্থিতিও উৎসবের আন্তর্জাতিক আবহকে আরও সমৃদ্ধ করে।

উৎসবের তৃতীয় পর্বে অটিজম সচেতনতা নিয়ে রাখা হয় বিশেষ আয়োজন। অটিজম সোসাইটি হ্যাবিলিটেশন অর্গানাইজেশন (আসো)-এর উদ্যোগে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নির্মিত একটি পাপেট কার্টুন সিরিজের পর্ব প্রদর্শন করা হয়। পরে আসো-এর নির্বাহী পরিচালক রুবাইয়া রহমান অটিজম সচেতনতার গুরুত্ব ও সংগঠনটির কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেন।

আন্তর্জাতিক এ চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান নিউইয়র্ক ফিল্ম ফাউন্ডেশন। অন্যতম অংশীদার ছিল ডায়াসপোরা ইউএসএ। এছাড়া ফিল্মফ্রিওয়ে, কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরি, অটিজম সোসাইটি হ্যাবিলিটেশন অর্গানাইজেশন (আসো) এবং ওয়ান ওয়ান অর্গানাইজেশন উৎসবের অংশীদার হিসেবে সহযোগিতা করে।

উৎসবের পৃষ্ঠপোষক ছিল ট্রু-মেড ফার্মা, স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস, বিএ এক্সপ্রেস এবং সিপিএ সারোয়ার চৌধুরী। কারিগরি অংশীদার ছিল থ্রিএম স্টুডিও এবং ক্রিয়েটিভ পার্টনার দ্য লেন্স নিউইয়র্ক।

প্রথম আসরেই ৩৮টি দেশের ২৮২টি চলচ্চিত্রের অংশগ্রহণ এবং নির্বাচিত চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী নিউইয়র্ক গ্লোবাল শর্ট ফিল্ম ফেস্টের আন্তর্জাতিক সম্ভাবনার জানান দিয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরির পাশাপাশি নতুন ও প্রতিভাবান নির্মাতাদের কাজ আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে এগিয়ে যাবে নিউইয়র্ক গ্লোবাল শর্ট ফিল্ম ফেস্ট।