প্রবাসে সম্প্রীতি, ঐক্য ও সংস্কৃতির অনন্য বন্ধন—মিডল টাউন সনাতন সমাজের প্রথম বার্ষিক বনভোজন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
প্রবাসে সনাতনী ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে নিউইয়র্কে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে মিডল টাউন সনাতন সমাজের প্রথম বার্ষিক বনভোজন। গত ১২ জুলাই ২০২৬, রবিবার ঐতিহাসিক পেলহাম পার্কে আয়োজিত এ বনভোজনে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার-পরিজনসহ অংশগ্রহণ করেন। সারাদিনব্যাপী আনন্দ-উৎসব, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সৌহার্দ্যপূর্ণ মিলন এবং সাংস্কৃতিক আবহে বনভোজনটি এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রী সুশান্ত দাস। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রবাসে আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও কৃষ্টি ধরে রাখতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়মিত হওয়া জরুরি। তাঁর বক্তব্যে প্রবাসে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বিজয় সাহা, শংকার কুমার দাস, জোটন কান্তি সাহা, তাপস সরকার, মৃত্যুঞ্জয় সাহা, তপন দেবনাথ, বিমল দাস, নয়ন সাহা, প্রভাস সাহা, পলাশ শীল, বিনয় বণিক, প্রদীপ দত্ত এবং জয়ন্ত সাহা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জোটন সাহা ও বিজলী রানী দাস। তাঁদের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় পুরো আয়োজন আরও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে।
বনভোজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল শিশু-কিশোর, বালক-বালিকা, যুবক-যুবতী, পুরুষ ও মহিলাদের জন্য বয়সভিত্তিক বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন রমা দাস, মিতালী রায়, রুমা দাস, বিজলী দাস, শিপ্রা পাল, লিপি দাস, বিথী সাহা, পঞ্চমী রাজবংশী, নিপুন সাহা, রত্না বিশ্বাস, অনিতা অধিকারী এবং বনানী রায়।
সারাদিনের আনন্দঘন আয়োজন শেষে সন্ধ্যা ৮টায় সভাপতি শ্রী সুশান্ত দাস উপস্থিত অতিথি, শুভানুধ্যায়ী, স্বেচ্ছাসেবক ও অংশগ্রহণকারী সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রথম বার্ষিক বনভোজনের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
প্রবাসে সনাতনী সমাজের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মিডল টাউন সনাতন সমাজের এ উদ্যোগ অংশগ্রহণকারীদের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। উপস্থিত অনেকেই ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন আরও বৃহত্তর পরিসরে অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।



















