Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রকৃতির রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন: গান, আবৃত্তি, নৃত্য ও আলোচনা সভায় মুখর প্রবাসী বাঙালির সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রকৃতির রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন: গান, আবৃত্তি, নৃত্য ও আলোচনা সভায় মুখর প্রবাসী বাঙালির সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রকৃতির রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন: গান, আবৃত্তি, নৃত্য ও আলোচনা সভায় মুখর প্রবাসী বাঙালির সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
নিউইয়র্কে বাঙালি সংস্কৃতি চর্চা ও রবীন্দ্রসংগীতের অন্যতম স্বনামধন্য সংগঠন ‘প্রকৃতি’ বর্ণাঢ্য আয়োজনে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন করেছে। গত রবিবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে গান, আবৃত্তি, নৃত্য, আলোচনা এবং সমবেত পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পীরা মঞ্চে দুই সারিতে অবস্থান নিলে আবৃত্তিকার মৃদুল আহমেদের আহ্বানে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংগীতশিল্পী ও শিক্ষক অনুপ বড়ুয়া। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি চর্চার ধারাবাহিকতাকে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান।


এরপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বে রতন ধর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯৩০ সালে নিউইয়র্কের ম্যানহ্যাটানে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে ঐতিহাসিক সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত সেই আলোচনার খবরের শিরোনামে চারবার ‘এম’ অক্ষরের শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করে বিজ্ঞান, দর্শন, ধর্ম এবং অবজেকটিভ রিয়েলিটি নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ও আইনস্টাইনের ভাবনার সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।


কবি হাসানআল আবদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রবীন্দ্রনাথের গ্রহণযোগ্যতা ও সাহিত্যিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাকসুর সাবেক জিএস এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর।


পরে কবিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং উপস্থিত দর্শকদের স্বাগত জানিয়ে সমবেত কণ্ঠে প্রকৃতির শিল্পীরা পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীত ‘হে নূতন দেখা দিক আরবার’। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পরিবেশনা ছিল আবৃত্তিকার মিথুন আহমেদের কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের ‘পৃথিবী’ কবিতা আবৃত্তি। এরপর সমবেত কণ্ঠে ‘জয় তব বিচিত্র আনন্দ হে কবি জয় তোমার’ গানটি পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন শিল্পীরা।


পুরো অনুষ্ঠানে মোট ২৬টি গান পরিবেশিত হয়। এর মধ্যে ১২টি যা ছিল সমবেত কণ্ঠে এবং ১৪টি একক পরিবেশনা। একক কণ্ঠে গান পরিবেশন করেন নাসিমা শাহীন, দিঠি হাসনাত, মৌগন্ধা আচার্য্য, কার্তিক চন্দ্র, চন্দ্রিকা দে সেঁজুতি, মুক্তি সরকার, মিনি কাদির, জলি কর, শমিষ্ঠা মৌ, রূপালি ঘোষ, জোসেফিন মিষ্টি, সোনিয়া মুত্তালিব এবং রেজা রহমান।


সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে ছিল— আকাশ ভরা সূর্যতারা, বিশ্ববীণারবে বিশ্বজন মোহিছে, তোমার পতাকা যারে দাও, মহাবিশ্বে মহাকাশে মহাকাল মাঝে, তোর আপনজনে ছাড়বে তোরে, শুনলো শুনলো বালিকা, ঝরো ঝরো ঝরো ঝরো ঝরে রঙের ঝরনা, অন্ধকারের উৎস হতে এবং বাঁধ ভেঙে দাও। অনুষ্ঠানের শেষ পরিবেশনা ছিল সমবেত জাতীয় সংগীত।


সমবেত সংগীত পরিবেশনায় শিল্পীদের চর্চা ও প্রস্তুতির ছাপ ছিল স্পষ্ট। বিশেষ করে ‘বিশ্ববীণারবে বিশ্বজন মোহিছে’ এবং ‘ঝরো ঝরো ঝরো ঝরো ঝরে রঙের ঝরনা’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। তবে নৃত্যগুলো মঞ্চের সামনের ফ্লোরে পরিবেশিত হওয়ায় পেছনের সারির কিছু দর্শক পুরো পরিবেশনা উপভোগ করতে পারেননি।
অনুষ্ঠানজুড়ে ধারাবর্ণনা দেন অসীম সাহা ও নাজনীন সীমন। তারা বিভিন্ন গানের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন।
সঙ্গীত পরিবেশনায় তবলায় সংগত করেন পিনাকপানি গোস্বামী, কীবোর্ডে ছিলেন মাসুদ রহমান এবং মন্দিরায় শহীদ উদ্দিন।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, নবেন্দু দে, বিদ্যুৎ সরকার, শিক্ষাবিদ গিতালী তালুকদার, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, দফতর সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ বখতির আলী, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এম এ করিম জাহাঙ্গীর, আওয়ামী লীগ নেতা আকতার হোসেন, মনজুর চৌধুরী, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ আতিকুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রুমানা আক্তার, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী ও শিল্পী-কলাকুশলীরা।
প্রায় তিন শতাধিক প্রবাসী বাঙালির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সমবেত জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে রাত সাড়ে ১১টায় শেষ হয়।
সূত্র: হাকিকুল ইসলাম খোকন।